এসি ক্রয়ের পূর্বে যা জানা জরুরিঃ সেরা গাইডলাইন

গরমে সবার নাভিশ্বাস অবস্থা। গরম থেকে মুক্তি পেতে আপনি হয়তো এসি কেনার কথা ভাবছেন। অথবা আপনি হয়তো আপনার বয়স্ক বাবা-মার জন্য একটি এসি কিনতে চাচ্ছেন।

চলুন আজ আমরা জানবো এসি কেনার সময় আপনাকে কি কি বিষয় বিবেচনা করতে হবে? কয় টন কিনবেন? ইনভার্টার নাকি নন ইনভার্টার। এসবের সুবিধা-অসুবিধাই বা কি?

এসি কেনার সময় প্রথমেই আমরা যে ভুল টি করে থাকি তাহলো প্রথমেই আমরা ব্রান্ড বা কোম্পানি পছন্দ করে থাকি। অর্থাৎ দেশি কিনবেন নাকি বিদেশি।

কিন্তু ব্রান্ড পছন্দ করার পূর্বে আপনাকে আরো কিছু বিষয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আসুন বিস্তারিত জানি।

এসি ক্রয়ের পূর্বে যে সকল বিষয় প্রথমে জানতে হবেঃ

১. কয় টন এসি প্রয়োজন।
২. ইনভার্টার নাকি নন ইনভার্টার।
৩. বাজেট কত।
৪. আপনার আশেপাশে সার্ভিস সেন্টার আছে কিনা
৫. দেশী ব্রান্ড নাকি বিদেশি।

আসুন বিস্তারিত জানি।

এসির টন হিসাবঃ

বাসাবাড়িতে ১ টন, ১.৫ টন এবং ২ টন এসি বহুল ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

১ টন এসি ১২০ স্কয়ার ফিট পর্যন্ত রুম ঠান্ডা করতে পারে। ১.৫ টন এসি ১৮০ স্কয়ার ফিট পর্যন্ত রুম ঠান্ডা করতে পারে। আর ২ টন প্রায় ২৫০-২৮০ স্কয়ার ফিট পর্যন্ত রুম ঠান্ডা করতে পারে।

তবে রুম যদি টপ ফ্লোরে হয়, রুমে সরাসরি রোদ পড়ে কিনা, রুমে দরজা জানলা বেশি থাকলে তবে ফ্লোর স্পেসের তুলনায় একটু বেশি টন এসি কেনা ভাল হবে অর্থাৎ ১ টনের পরিবর্তে ১.৫ টন। তা না হলে রুম ঠান্ডা হতে অনেক বেশি সময় লাগবে এবং বিদ্যুৎ বিল বেশি আসবে, এসি দ্রুত নষ্ট হবে।

ইনভার্টার নাকি নন ইনভার্টারঃ

আসুন ইনভার্টার এবং নন ইনভার্টার এসির পার্থক্য আগে জানি।

নন ইনভার্টার এসি প্রয়োজনী তাপমাত্রায় পৌঁছার সাথে সাথে কম্প্রেশার বন্ধ হয়ে যায় আবার তাপমাত্রা বাড়লে চালু হয়। বার বার চালু বন্ধ হওয়ার জন্য বিদ্যুৎ খরচ বেশি হয়। কারন চালু হওয়ার সময় কয়েকগুন বেশি বিদ্যুৎ ব্যয় হয়।

নন ইনভার্টার এসির সুবিধাঃ

-তুলনামূলক দাম কম
– তুলনামূলক মেইনটেইনেন্স খরচ কম

অসুবিধাঃ

– বিদ্যুৎ বিল বেশি আসে
– দ্রুত নষ্ট হয়
– কম্ফোর্ট কুলিং পাওয়া যায় না ইনভার্টার এসির মত। বারবার চালু বন্ধ হওয়ার কারনে তাপমাত্রা উঠানামা করে।

ইনভার্টার এসিঃ এর ইনভার্টার কখনো বন্ধ হয় না অর্থাৎ সার্বক্ষণিক চলতে থাকে। বিদ্যুৎ প্রবাহ কম বেশি করানোর মাধ্যমে (১০ থেকে ১০০% পর্যন্ত) ইনভার্টার সব সময় চালু রেখে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

সুবিধাঃ
-বিদ্যুৎ বিল কম
– কুলিং কম্ফোর্ট বেশি কারন সে সার্বক্ষণিক একই তাপমাত্রা ধরে রাখে

অসুবিধাঃ
– দাম বেশি
– নষ্ট হলে ঠিক করতে বেশি টাকা লাগে

মনে রাখবেন যদি আপনার এসি দৈনিক ৫/৬ ঘন্টার মত চলে তবে আপনার জন্য নন ইনভার্টার কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আর যদি দৈনিক ১২/১৪ ঘন্টা চলে তবে ইনভার্টার কেনা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তা না হলে বিদ্যুৎ সেভিংস এর বিষয় আপনার তেমন পার্থক্য নজরে আসবে না।

বাজেট ও ব্রান্ডঃ উপরোক্ত তথ্যের ভিত্তিতে আপনার বাজেট অনুযায়ী ব্রান্ড পছন্দ করুন।

বাজেট কোন সমস্যা না হলে নন ইনভার্টার এসি জেনারেল ভাল হবে। জেনারেল এসি কুলিং এর জন্য বিখ্যাত, তবে পুরনো টেকনোলজি হওয়ায় এর বিদ্যুৎ বিল বেশি আসে। জেনারেল নিলে Esquire Electronics থেকে নেয়া ভাল হবে, আফটার সেলস সার্ভিস ভাল পাবেন।

এর বাইরে কম বাজেটে Midea, Gree, Haier লোকাল ব্রান্ড হিসেবে Walton দেখতে পারেন।

ইনভার্টার এসির মধ্যে সেরা হলো Panasonic Econavi সিরিজ। ঢাকা স্টেডিয়াম মার্কেট এর Panna Electronics থেকে নিতে পারেন। এর পরের অবস্থানে আছে LG এবং Daikin। তবে সব গুলোর দাম ৯০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা।

বাজেট কম থাকলে Gree, Haier, Walton দেখতে পারেন।

সর্বশেষ টিপস টি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

এসির জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হয়। কয়েক মাস পরপর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করতর হয় সুতরাং আপনার এলাকায় যাদের সার্ভিস সেন্টার আছে তাদের এসি কেনা ভাল হবে।

অন্যদিকে Copper Condenser নাকি Aluminium Condenser তা জেনে নিন। Aluminium Condenser থেকে দুরে থাকুন।

এসিতে কি গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে তা বিবেচনায় রাখুন। R32 গ্যাস আধুনিক আবিষ্কার এবং পরিবেশ বান্ধব। কমপক্ষে R410a গ্যাস ব্যবহার হয়েছে এমন এসি কিনুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *