বিয়ে কাজী অফিসেই করতে হয়, কোর্ট ম্যারেজ বলতে কিছু নেই-এখানে শুধু দুইশত টাকার হলফ নামায় স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ঘোষনা করা হয়- কাজী অফিসে বিয়ের বৈধতা 

কাজী অফিসে বিয়ে কি বৈধ? – ঢাকাসহ দেশের সব বিভাগীয় শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে এবং গ্রামে প্রতিটি ইউনিয়নে কাজি অফিস রয়েছে। মুসলমানদের জন্য কাজি অফিসে গিয়ে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন না করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। রেজিস্ট্রেশন না করলে ২ বৎসর বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৩০০০ টাকা জরিমানা বা উভয়দন্ড হতে পারে তবে বিয়েটি বাতিল হবে না।

কোর্ট ম্যারেজ করতে কত টাকা লাগে? কোর্ট ম্যারেজ এর ফি ২০০৯ সালের ২১ বিধি অনুযায়ী – কাবিন নামা যদি ৪ লক্ষ টাকা হয় তাহলে প্রতি হাজারে ফি হবে ১২.৫০ টাকা হারে। প্রতি ১ লাখে ফি হবে ১২৫০ টাকা। এর পরে অধিক লাখ টাকা কম টাকার ক্ষেত্রে ফি হবে ১০০ টাকা করে। উকিল ফি, স্টাম্প ফি, প্রথম শ্রেণির মেজিস্ট্রেট ফি যাবতীয় মিলিয়ে ৩ হাজার টাকা। তবে এটা অনেক সময়ে কম বা বেশি হতে পারে। এর পরে কাজি এনে রেজিস্টার করানো হলে কাজি অতিরিক্ত ফি দাবি করতে পারে। এসব মিলিয়ে হিসাব করে টাকা নিয়ে কোর্ট ম্যারেজ করতে যেতে হবে।

কাজী অফিসে বিয়ের খরচ কত? কাজী অফিসে বিয়ের খরচ নির্ধারণ করা হয় বিয়ের দেনমোহর বা কাবিন নামার উপর ভিত্তি করে। মুসলিম বিবাহ আইন অনুযায়ী কাবিন নামা অনুযায়ী প্রতি হাজারে ১০ টাকা করে রেজিষ্ট্রেশন ফি দিতে হবে। রেজিষ্ট্রেশন ফি ১০০ টাকার কম হবে না ও ৪০০০ টাকার বেশি হতে পারবেনা। ধরি, আপনার কাবিন নামা যদি হয় ২০ হাজার টাকা তাহলে ফি দিতে হবে ২০০ টাকা। ১০০ টাকার নিচে ফি দিতে পারবেন না। যদি দেনমোহর ২ হাজার টাকা হয় তাহলেও সর্বনীম্ন ফি ১০০ টাকা দিতে হবে।

বিয়ে করা কোন কঠিন বিষয় নয় / মুসলমানদের বিয়ের দায়িত্ব পালন করাই বড় বিষয়

কোর্ট ম্যারেজ হলফনামার নমুনা

Caption: afidafit for court marriage sample

Document for Marriage । পালিয়ে বিয়ে করতে কি কি লাগে

  1. বিয়ে করতে অবশ্যই ছেলের বয়স ২১ বছর ও মেয়ের বয়স ১৮ বছর হতে হবে।
  2. কম বয়সে বিবাহ করা আইনগত অপরাধ ও বাল্যবিবাহ।
  3. বিয়েতে কম পক্ষে ৩ জন সাক্ষীর প্রয়োজন হবে।
  4. বিয়ের ক্ষেত্রে পুরুষ সাক্ষীর সংখ্যা মহিলা সাক্ষীর চেয়ে বেশি হতে হবে।
  5. ছেলে ও মেয়ের নিজ নিজ জন্মনিবন্ধন কার্ড এবং জাতীয় পরিচয় পত্র লাগে।
  6. দুজনেরই ০২ কপি করে পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে।

বিয়ে কোথায় করতে হয় ?

যেকোনো কাজী অফিসে আপনি বিয়ে করতে পারেন। সাধারণত যেকোনো ওয়ার্ড, পৌরসভায় কাজী অফিস থাকেই। আপনি এসব কাজী অফিসে আপনার বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং সাক্ষী নিয়ে গেলেই কাজী আপনার বিয়ে পড়াবে। আর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা এক্ষেত্রে নিজ নিজ ধর্ম মতে বিয়ে করতে পারবেন। এবং নোটারী পাবলিকের (সরকারী রেজিস্টার্ড উকিল) কাছে গিয়ে সার্টিফিকেট নিয়ে বিয়ের নিবন্ধন করতে পারবেন। এছাড়া যারা ভিন্ন ধর্মে বিয়ে করতে চান তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ আইন। এক্ষেত্রে এক পক্ষ হিন্দু বা মুসলিম বা অন্য ধর্মের হলেও, ধর্ম পরিবর্তন না করেই বিয়ে করা সম্ভব ৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *