কাবিন নামা সংগ্রহ করতে কোথায় যেতে হবে– বিয়ের পর কাবিন নামার খবর কেউ রাখে না। যখন প্রয়োজন পড়ে ঠিক তখনই কাবিন নামা উঠানোর কথা মনে পড়ে। আপনার বিয়ে যে কাজির মাধ্যমে হয়েছে সেই কাজি অফিসে গিয়ে কাজীর সাথে যোগাযোগ করে দুজনের এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধন প্রদানের মাধ্যমে বাংলা কাবিন নামা সংগ্রহ করতে পারেন। এতে করে আপনাকে ২০০ টাকা ফি দিতে হবে কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন আপনাকে ৫০০-১০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থ কাজীকে প্রদান করতে হয়।

বিয়ের আনন্দের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করেন কাজী সাহেব। কাজী বিয়ে রেজিস্ট্রি করে পাত্র-পাত্রীকে একত্রিত করে থাকেন। বিয়ে করতে সকলকে রেজিষ্ট্রী কাজী অফিসের মাধ্যমে করতে হয়। কাজী অফিস বাংলাদেশ আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে। কাজী অফিসে বিবাহ সম্পর্কীয় বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে।

কাবিননামা হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে কি করবেন? বিচলিত হবে না। কাবিন নামা হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে যে কাজী অফিসে আপনার বিয়ে হয়ে ছিল সেইখান থেকে নতুন করে কাবিন নামা তুলতে পারবেন। অন্য কোন কাজী অফিস থেকে তা পাবেন না। অপনার প্রয়োজন যতবার হবে নির্ধারিত ফি দিয়ে কাবিন নামা উঠাতে পারবেন। এজন্য বিয়ের সময় ভূয়া কাজী অফিস হতে সাবধান থাকতে হবে। কাজী ফোন নম্বর, নাম ঠিকানা সংগ্রহে রাখুন এবং ভেরিফাই করে নিন।

কাবিন নামা যে কোন কাজী অফিস থেকে তোলা যায় কি? / কাবিন নামা ছাড়া কি ডিভোর্স দেয়া যায় না?

যে কোন কাজী অফিস হতে তুলতে পারবেন না। হ্যাঁ কাবিননামা ছাড়াই ডিভোর্স দেয়া যায়।

কাবিন নামা উত্তোলন ফি ২০২২ । কাবিননামা হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে কি করবেন?

Caption: Kabinnama for marriage registration form signing by Bride and Bridegroom

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি ২০২৩ । বাংলা বা ইংরেজী কাবিন নামা তোলার ফি

  1. বিবাহ রেজিষ্ট্রেশন- কাবিননামায় ধার্যকৃত দেনমোহরের প্রতি ১,০০০ টাকায় ১২.৫০ টাকা হারে চার্জ প্রদান করতে হয়। প্রতি ১ লক্ষ টাকায় ১,২৫০ টাকা।
  2. তালাক রেজিষ্ট্রেশন – ৫০০ টাকা চার্জ প্রদান করতে হয়।
  3. বাংলা কাবিননামা – ২০০ টাকা।
  4. ইংরেজী কাবিননামা -এ সকল ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত কোন চার্জ নেই। ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের চার্জ নিয়ে থাকে।
  5. আরবী কাবিননামা -এ সকল ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত কোন চার্জ নেই। ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের চার্জ নিয়ে থাকে।
  6. বিবাহ সার্টিফিকেট -এ সকল ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত কোন চার্জ নেই। ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের চার্জ নিয়ে থাকে।
  7. কোর্ট ম্যারেজ সার্টিফিকেট সরবরাহ -এ সকল ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত কোন চার্জ নেই। ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের চার্জ নিয়ে থাকে।
  8. হারিয়ে যাওয়া কাবিননামা প্রস্তুত -এ সকল ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত কোন চার্জ নেই। ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের চার্জ নিয়ে থাকে।
  9. স্বামী-স্ত্রী বিদেশ যেতে কাবিন নামা সরবরাহ -এ সকল ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত কোন চার্জ নেই। ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের চার্জ নিয়ে থাকে।

বিবাহ রেজিস্ট্রি ফি কত?

বিয়ে করার খরচ– রেজিষ্ট্রি ফি দেনমোহর টাকার উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে রেজিস্ট্রেশন ফি- প্রতি হাজারে দশ টাকা, সর্বনিম্ন ৫০ টাকা,সর্বোচ্চ ৪০০০ টাকা। (কিন্তু সরকার সময়ে সময়ে রেজিস্ট্রেশন ফি পরিবর্তন করে থাকেন)। এছাড়া প্রতিটি বিবাহের রেজিস্ট্রেশন বাবদ নিকাহ রেজিস্টার ২৫ টাকা কমিশন পাবেন এবং তিনি বিবাহের অনুষ্ঠানে গিয়ে রেজিস্ট্রি করালে, যাতায়াত ভাতা বাবদ প্রতি মাইলে ১.০০ (এক) টাকা বকরে পাবেন। বর পক্ষ সাধারণত রেজিস্ট্রেশন ফি প্রদান করে থাকেন। রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দেয়া হলে নিকাহ্ রেজিস্টার একটি প্রাপ্তি রশিদ দিবেন। রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কাগজ স্বামী ও স্ত্রী দুজনের কাছেই রাখতে হবে। অন্যথায় স্ত্রী সমস্যায় পরলে আদালতের কাছে সাহায্য চাইতে পারবেন না।

যদি হুজুর দিয়ে বিয়ে পড়ায়ে নিই তাহলে কি অপরাধ হবে?

হ্যাঁ হবে। কাজীর অনুপস্থিতিতে বিয়ে হলেও বিয়ের কথা কাজী অফিসে না জানানো আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। যিনি বিবাহ সম্পন্ন করেছেন তিনিই নিকাহ্ রেজিস্টারের নিকট প্রতিবেদন পেশ করবেন।

বিবাহ রেজিস্ট্রেশন না করার শাস্তি কি?

শাস্তি বিবাহ রেজিস্ট্রেশন না করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইনে (সংশোধিত ৮ই মার্চ, ২০০৫) বলা হয়েছে যে, যে সমস্ত বিয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রার কর্তৃক সম্পাদিত হয়নি সেসব বিয়ে যে বা যারা করেছেন তিনি রেজিস্ট্রেশন করার উদ্দেশ্যে উক্ত বিয়ের খবর নিকাহ রেজিস্ট্রারের নিকট দিবেন। যদি কেউ এই নিয়ম পালন না করে তবে সে দুই বছরের কারাদন্ড বা ৩০০০ (তিন হাজার) টাকা জরিমানা বা উভয়দন্ডে দন্ডিত হবে।

বিবাহ বিষয়ে সুপরামর্শ কি?

পরামর্শপ্রতিটি ইউনিয়নে সরকার কর্তৃক নিয়োজিত একজন করে কাজী আছেন। তিনি বিবাহ রেজিস্ট্রি করবেন। যদি বিবাহ সম্পাদনের দিন রেজিস্ট্রেশন করা সম্ভব না হয় তবে বিবাহের দিন থেকে ৩০ দিনের মধ্যে বিবাহ রেজিস্টারের কার্যালয়ে গিয়ে বিবাহ রেজিস্ট্রি করতে হবে। বিয়ে রেজিস্ট্রেশানের সময় কাজী যে রশিদ দেন সেই রশিদ সংগ্রহ করে রাখতে হবে। কারণ কাবিননামা উঠানোর সময় এই রশিদ দেখালে কাজীকে নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত ফি দিতে হয় না। রশিদ দেখাতে না পারলে প্রতি তল্লাসির জন্য প্রতি পাতার জন্য কাজী অফিসে ১.০০ (এক টাকা) দিতে হয়। বিয়েটি রেজিস্ট্রি ভলিউমে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

সূত্র: কাজী অফিস