আমরা যারা সঞ্চয়পত্র করে থাকি তারা একটি নির্দিষ্ট পরিমান টাকা নির্দিষ্ট বছরের জন্য রেখে থাকি। স্কীম অনুযায়ী এটা হতে পারে ৩ বছর বা ৫ বছর। সঞ্চয়পত্র করার পর মেয়াদপূর্তির পূর্বেই আমাদের অনেক সময় টাকার প্রয়োজন হতে পারে। যেহেতু টাকার মালিক আপনি তাই প্রয়োজনে যে কোন সময় সঞ্চয়পত্র ভাঙ্গানোর সুযোগ আপনি পাবেন এবং সরকার সে সুযোগ দিয়ে রেখেছে। অর্থাৎ আপনি চাইলে যেকোন সময় আপনার প্রয়োজনে সঞ্চয়পত্র ভাঙ্গাতে পারবেন।

ধরা যাক, আপনি ১০ লক্ষ টাকার সঞ্চয়পত্রে ৫ বছর মেয়াদি বিনিয়োগ রয়েছে। ২ বছর না যেতেই আপনার টাকার প্রয়োজন যা আপনি অন্য কোন উপায়ে ব্যবস্থা করতে পারেন নি। এখন আপনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আপনি সঞ্চয়পত্র ভেঙে ফেলবেন। তবে প্রশ্ন হলো যে, আপনার পুরো ১০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন নেই, আপনার মাত্র ২ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। তাহলে কি আপনাকে ১০ লক্ষ টাকাই ভেঙে ফেলতে হবে? নাকি আংশিক ভাঙ্গিয়ে ২ লক্ষ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন?

চলুন প্রথমেই সঞ্চয়পত্র ভাঙ্গানোর আবেদন পদ্ধতি দেখে নিই।

আবেদন পত্রের নমুনাঃ

তারিখঃ………..

বরাবর
নির্বাহী পরিচালক
বাংলাদেশ ব্যাংক
সঞ্চয়পত্র বিভাগ
মতিঝিল অফিস
ঢাকা।

বিষয়ঃ মেয়াদপূর্তির পূর্বেই…….. …… সঞ্চয়পত্রের আংশিক/ সম্পূর্ণ নগদায়ন প্রসঙ্গে।

জনাব,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমি নিম্নস্বাক্ষরকারী বিগত………. তারিখে………… লক্ষ টাকার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করি যার রেজিষ্ট্রেশন নম্বর…………. । এখন পারিবারিক বা ব্যক্তিগত কারনে আমি আমার সঞ্চয়পত্রের আংশিক/ সম্পূর্ণ নগদায়ন করতে ইচ্ছুক।

অতএব, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আপনাকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।

নিবেদন

………….
সঞ্চয় পত্র রেজিষ্ট্রেশন নম্বরঃ
মোবাইলঃ

লক্ষনীয় যে, সরকারি বা বেসরকারি ব্যাংকে সঞ্চয়পত্র করা হলে, উক্ত ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা ব্যবস্থাপক বরাবর আবেদন করতে হবে।

এবার আসুন মূল প্রসঙ্গে। আংশিক টাকার দরকার হলে কি সঞ্চয়পত্র আংশিক ভাঙ্গাবেন নাকি সম্পূর্ণ ভাঙ্গাবেন? এক্ষেত্রে, সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো আপনি পুরো সঞ্চয়পত্র ভেঙে ফেলবেন এবং আপনার যে অর্থ প্রয়োজন তা রেখে বাকি টাকার উপর পুনরায় সঞ্চয়পত্র করবেন। এর প্রধান কারন হলো, হিসাব নিকাশ সহজ করা। অন্যদিকে আপনি সঞ্চয় পত্র ভাঙ্গানোর পর সঞ্চয়পত্র সাথে সাথেই করা যায় এখানে কোন বাধ্যবাধকতা নেই।

তবে মনে রাখতে হবে, টাকার রাখার পর যে হারে মুনাফা পেয়েছেন মেয়াদ পূর্তির পূর্বে নগদায়ন করার কারনে ঐ হারে আর সুদ বা মুনাফা পাবেন না। এখন আপনি বলতে পারেন, আমি তো এক্ষেত্রে ইতোমধ্যে হাতে টাকা পেয়েছি। মনে রাখতে হবে আপনি যে পরিমান টাকা ইতোমধ্যে সুদ হিসেবে পেয়েছেন তা আসল ( Principal) টাকা হতে কর্তন করে বাকি টাকা আপনার ব্যাংক হিসাবে EFT এর মাধ্যমে প্রদান করা হবে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *