ভূমি জরিপের মাধ্যমে জমির মালিকানা স্বত্ব যাচাই এবং নিশ্চিতকরণ করা হয় – সর্বশেষ ভূমি জরিপ

ভূমি জরিপ কি? –ভূমি জরিপ হচ্ছে এমন এক কৌশল, পেশা, বিজ্ঞান যা নির্দিষ্টভাবে স্থানসমূহের ভূগোলক বা ত্রিমাত্রিক অবস্থানের পারস্পারিক দূরত্ব এবং কোণ নির্ণয় করতে পারে। এই বিন্দুসমূহে সাধারণত পৃথিবীপৃষ্ঠের ওপর অবস্থিত এবং তারা অধিকাংশ সময় ভূমি সীমানা নির্ধারণ করে ব্যক্তিগত অথবা সরকারী পর্যায়ে। ভূমি জরিপ কেন হয় এমন প্রশ্ন মনে আসতেই পারে ১৮৭৫ সালে Servey Act এবং ১৯৫৭ সালে Technical Rules অনুযায়ী ভূমির জরিপ করা হয় এবং ভূমি জরিপের উদ্দেশ্য হল ভূমির পরিধি ও পরিমাপ এবং অবস্থান সম্বলিত একটি পূর্ণাঙ্গ নকশা (Map) তৈরীকরণ। যাতে করে একজন ভূমি মালিক সহজেই তার ভূমি বা জমি সম্পর্কে অবগত হতে পারেন।

কবে ভূমি জরিপ হতে তা ভূমির মালিকগন কিভাবে জানবে? সরকার বা কর্তৃপক্ষ জরিপ শুরুর পূর্বে মাইকিং ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, ব্যাপক জনসংযোগ করা হয়। এসময় ভূমি মালিকগণকে নিজ নিজ জমির আইল/ জমির সীমানা চিহ্নিত করে রাখার জন্য এবং জমির মালিকানার কাগজ দলিল পত্রাদি হালনাগাদ অবস্থায় কাছে রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়। কোন মৌজার নক্সা সম্পূর্ণ নতুন করে প্রস্তত করার জন্য যে কাঠামো স্থাপন করা হয় তাহাই ট্রাভার্স সার্ভে। এ স্তরে মৌজা সীমানা বরাবর অনেকগুলো ট্রাভার্স ও সাব ট্রাভার্স পয়েন্ট বসানো হয় যা জিএনএসএস যন্ত্রের মাধ্যমে পৃথিবীর কোন স্থায়ী পয়েন্টের সাপেক্ষে নতুন স্থাপিত পয়েন্টের অবস্থান নির্মিত হয়।

জোনাল জরিপ কি? সি এস, এস এ এবং আর এস এই তিন প্রকার জরিপ ছাড়াও ঢাকা মহানগরী এলাকাভুক্ত মৌজাসমুহে অতি সম্প্ৰতি একটি বিশেষ জরিপের মাধ্যমে মৌজা নক্সা ও স্বত্বলিপি প্রস্তত হয়েছে। ইহা মহানগরী জরিপ নামে পরিচিত। এই জরিপটিও একটি সংশোধনী জরিপ । তবে অধিক্ষেত্রভুক্ত সকল মৌজায় ক্যাডাস্ট্রাল জরিপের মাধ্যমে বিভিন্ন স্কেলে নতুন মৌজা ম্যাপ প্রস্তত করা হয়েছে বিধায় একে ক্যাডাস্ট্রাল জরিপও বলা যায়। মহানগরী জরিপ শুধু ঢাকা মহানগর এলাকায় পরিচালিত হয়েছে। ১৯৮৪ সালে জোনাল জরিপ প্রবর্তন করা হয়। প্রত্যেক জেলায় এর একটি স্থায়ী কাঠামো রয়েছে। বর্তমানে ১৯টি জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস আছে। ১৯৮৪ সালে একটি অধ্যাদেশ জারী করে এ অঞ্চলে জরিপ কাজ হাতে নেয়া হয় । কিন্তু উপজাতীয় অসন্তোষের কারণে সরকার জরিপ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। তাই উক্ত এলাকায় জরিপ কাজ বাস্তবায়ন হয়নি।

আগামী ভূমি জরিপ কবে অনুষ্ঠিত হবে? / সর্বশেষ ২০২১ সালে ভূমি রিপের কার্যক্রম শেষ হয়েছে

২০২৩ সালে কি ভূমি জরিপ হবে? ৩১/০৭/২০২৩ খ্রি. তারিখে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে মহাপরিচালক (গ্রেড-১) মহোদয়ের সভাপতিত্বে ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে ডিজিটাল পদ্ধতিতে মাঠ জরিপের কর্মপরিকল্পনা অনুমোদিত হয়। সভায় আলোচনাক্রমে ও সর্বসম্মত গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক অনুমোদিত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ডিজিটাল পদ্ধতিতে মাঠ জরিপের কর্মপরিকল্পনা” অনুযায়ী আগামী ভূমি জরিপ হবে। এ সংক্রান্ত উদ্যোগ নেয়ার জন্য ঢাকা -টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন ভূমি অফিসে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। সূত্র দেখুন

Caption: CS, SA, RS, BS Details from govt website

ভূমি জরিপের ইতিহাস । ডিজিটাল সার্ভে বা জরিপের পূর্বে কখন কি হয়েছিল?

  1. ভূমি জরিপের ইতিহাস প্রকৃতপক্ষে অনেক পুরাতন। খ্রীষ্টপূর্ব ৫০০ অব্দে রচিত কৌটিল্যের অর্থ শাস্ত্রে ভূমি জরিপের নিদর্শন পাওয়া যায়। ভূমির সাথে মানুষের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। ভূমিকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে মানব সভ্যতা।  ভূমি মানুষের পরম ও চরম সম্পদ। ভূমিকে মানুষ প্রাণের মত ভালবাসে। তাই সুষ্ঠু ভূমি ব্যবস্থাপনা একটি দেশ ও জাতির সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশে এ গুরু দায়িত্বটি পালন করে আসছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
  2. ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর মানুষের ভূমির মালিকানা স্বত্ত্ব নির্ধারণ করে পর্চা বা খতিয়ান ও নকশা প্রণয়ন করে। পর্চা বা খতিয়ানে মানুষের ভূমি-স্বত্ত্ব লিপিবদ্ধ হয় বলে একে স্বত্ত্বলিপি বলে। প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে ভূমি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পদ্ধতি চলে আসছে। তবে বর্তমান পদ্ধতি চালু হয় এদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাসন শুরু হওয়ার পর থেকে। ১৮৭৫ সনে সার্ভে এ্যাক্ট এবং ১৮৮৫ সনে বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ত্ব আইন পাশ হওয়ার পর থেকে এ দেশে ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে শুরু হয়।
  3. ১৭৯৩ সনে প্রণীত ভূমি জরিপের কিছু ম্যাপ আজও ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের রেকর্ড রুমে সংরক্ষিত আছে। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর জনগণের প্রতিখন্ড ভূমিকে ভিন্ন ভিন্ন প্লটে বিভক্ত করে মৌজা নকশা তৈরী করে এবং প্রত্যেক প্লটে দাগ নাম্বার বসিয়ে নকশা ও পর্চা বা খতিয়ানের সমন্বয়ে জনগণের ভূমিস্বত্ত্বকে চিহিুত করে। এভাবেই ভূমির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়া সচল থাকে।
  4. বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে অঙ্গীকারাবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য ভূমি ব্যবস্থাপনাকে সনাতন পদ্ধতি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে আধুনিকায়নে প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। ভূমি জরিপে চালু করেন ডিজিটাল পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে কম্পিউটারের মাধ্যমে খতিয়ান মুদ্রণ, নকশা মুদ্রণ ও নকশা প্রস্ত্তত করণ চলছে। তাতে অতি দ্রুততম সময়ে নিখুঁত ও নির্ভুল নকশা ও খতিয়ান প্রস্ত্তত করা সম্ভব হবে।
  5. ভুমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের নবনির্মিত ওয়েবপোর্টালের মাধ্যমে জনগণের সেবা সহজলভ্য করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরেই ডিজিটাল ভূমি জরিপ কার্যক্রম শুরু হবে।

সর্বশেষ ভূমি জরিপ কবে হয়েছে?

ভূমি জরিপ একটি চলমান প্রক্রিয়া-এলাকা ভেদে এটি সারা দেশে পরিচালিত হয়। তবে সম্প্রতি বিএস জরিপ বিভিন্ন এলাকায় চূড়ান্ত হয়েছে ফলে সেসব এলাকায় বিএস দিয়েই সমস্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কোন কোন এলাকায় আএস জরিপ চূড়ান্ত থাকায় এবং পরবর্তী আর কোন জরিপ পরিচালিত না হওয়ার কারণে সেখানে আরএস জরিপ দিয়ে ভূমি সংক্রান্ত সমস্ত কাজ যেম-ক্রয় বিক্রয়, নামজারি ইত্যাদি সম্পাদিত হচ্ছে। যেমন-কক্সবাজার এরন ক্ষেত্রে ১৮৮৮ সালে কক্সবাজার জেলার রামু থেকে শুরু হয় প্রথম ভূমি জরিপ যার নাম করন করা হয় ‘সিএস’ জরিপ আর এটি শেষ হয় ১৯৪০ সালে দিনাজপুর জেলায়। এরপর বিভিন্ন ধাপে ধাপে ‘আরএস’, ‘এসএ’, ‘পিএস’ এবং সর্বশেষ ‘বিএস’ জরিপ সম্পন্ন হয়। তবে এর পরও ভূমির জটিলতা কাটেনি। আর তাইতো এবার ড্রোন ও ফোর জেনারেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্তমান সরকার শুরু করছে বাংলাদেশ ডিজিটাল জরিপ বা বিডিএস। এটি সফল হলে আগামী ১শ’ বছরের জন্য আর কোন ভূমি জরিপের প্রয়োজন হবে না। তাইতো পটুয়াখালী জেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নে পাইলট প্রকল্প হিসেবে বুধবার আনুষ্ঠানিক ভাবে এই জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রকল্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আগে ভূমি জরিপ নিয়ে মানুষের মধ্যে একটা ভিন্ন ধারনা ছিল। প্রবাদ ছিলো, ‘যেই জায়গায় হয় জরিপ, সেখানের মানুষ হয় গরিব’। কিন্তু এই পরিস্থিতির এখন পরিবর্তন ঘঠেছে। এখন ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই জরিপ সম্পন্ন করা হবে। এতে করে আগামী ১০০ বছরের জন্য আর কোন জরিপের প্রয়োজন হবে না। যা আমাদের আগামী প্রজন্ম ভোগ করতে পারবে। এভাবে কোন কোন এলাকায় পুন:জরিপ হতে প্রায় ২০-৩০ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়।

ডিজিটাল জরিপ কি?

ভূমি জরিপের ডিজিটাল পদ্ধতিকেই ডিজিটাল সার্ভে বলে। এই সার্ভের দ্বারা খুব সহজেই জমির পরিমাপ বের করা যায়। এই সার্ভের কাজে কিছু ডিজিটাল যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়। আগের দিনে সার্ভে কাজে মূলত চেইন, ফিতা এসব ব্যবহার করা হতো। এ পদ্ধতি আধুনিক প্রক্রিয়া ভূমি জরিপ করা হয়।

One thought on “সর্বশেষ ভূমি জরিপ । ভূমি জরিপ কখন হবে ২০২৩?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *