নিম্ন আয়ের মানুষগণ মাত্র ৫০০ টাকা মাসিক চাঁদা প্রদানের মাধ্যমে এ স্কীমে ভর্তি হতে পারবেন – সার্বজনীন পেনশন সমতা স্কিম ২০২৩

যে কোন পেশায় নিয়োজিতগণ নিবন্ধন করতে পারবেন?  – সমতা স্কিম (স্বকর্মে নিয়োজিত স্বল্প আয়ের নাগরিকগণের জন্য অংশ প্রদায়ক পেনশন): বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক, সময় সময়, প্রকাশিত আয় সীমার ভিত্তিতে দারিদ্র্য সীমার নিম্নে বসবাসকারী স্বল্প আয়ের ব্যক্তিগণ [যাহাদের বর্তমান আয় সীমা বাৎসরিক অনূর্ধ্ব ৬০(ষাট) হাজার টাকা] তফসিলে বর্ণিত হারে চাঁদা প্রদানপূর্বক এই স্কিমে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন; এবং সমতা স্কিমে কর্তৃপক্ষ বিধি ৯ অনুসারে সমপরিমাণ অর্থ জমা করিবে। তফসিল অনুযায়ী প্রতিটি স্কিমের বিপরীতে বর্ণিত পরিমাণ চাঁদা প্রদান সাপেক্ষে উল্লিখিত হারে মাসিক পেনশনের (সম্ভাব্য) প্রাপ্যতা অর্জিত হইবে।

মাসিক চাঁদা কিভাবে পরিশোধ করবো? যে কোনো স্কিমে নিবন্ধিত হইলে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উক্ত স্কিমের জন্য ধার্যকৃত হারে নিয়মিত চাঁদা প্রদান করিতে হইবে। নিবন্ধনের পর আবেদনকারী বিধি ৪ এর উপ-বিধি (৫) এ উল্লিখিত তারিখের মধ্যে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, Online banking, credit card বা debit card এর মাধ্যমে বা তফসিলি ব্যাংকের কোনো শাখায় OTC (Over the Counter) পদ্ধতিতে কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে মাসিক চাঁদা জমা করিবেন।

প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকগণ credit card বা debit card এর মাধ্যমে বৈধ চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রায় মাসিক চাঁদার টাকা কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা করিবেন। নির্ধারিত তারিখের মধ্যে চাঁদা জমা করিতে ব্যর্থ হইলে পরবর্তী এক মাস পর্যন্ত জরিমানা ছাড়া চাঁদা প্রদান করা যাইবে এবং এক মাস অতিবাহিত হইলে পরবর্তী প্রতি দিনের জন্য ১% হারে বিলম্ব ফি জমা প্রদান সাপেক্ষে হিসাবটি সচল রাখা যাইবে। কোনো চাঁদাদাতা ধারাবাহিকভাবে ৩ (তিন) কিস্তি চাঁদা জমাদানে ব্যর্থ হইলে তাহার পেনশন হিসাবটি স্থগিত হইবে এবং প্রতিদিনের জন্য উপ-বিধি (৪) অনুযায়ী সমুদয় বকেয়া কিস্তি পরিশোধ না করা পর্যন্ত হিসাবটি সচল করা হইবে না।

চাঁদাদাতাগণ মাসের নাম উল্লেখপূর্বক যে কোনো পরিমাণ চাঁদার টাকা অগ্রিম হিসাবে জমা করিতে পারিবেন। কোনো প্রতিষ্ঠান স্কিমে অংশগ্রহণ করিলে কর্মী এবং প্রতিষ্ঠানের জন্য ধার্যকৃত মাসিক চাঁদা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক একত্রে তহবিলে জমা করিতে হইবে। সকল স্কিমের জন্য চাঁদার কিস্তি চাঁদাদাতার পছন্দ অনুযায়ী মাসিক, ত্রৈমাসিক বা বার্ষিক ভিত্তিতে পরিশোধের সুযোগ থাকিবে। চাঁদার টাকা জমা হইলে চাঁদাদাতার রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে তাহাকে অবহিত করা হইবে এবং নির্ধারিত তারিখের মধ্যে চাঁদা প্রদান করা না হইলে বিলম্ব ফিসহ চাঁদা জমাদানের জন্য চাঁদাদাতার রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে মেসেজ প্রদান করা হইবে।

স্কিমের আওতাভুক্ত প্রত্যেক চাঁদাদাতার নামে একটি পৃথক পেনশন হিসাব থাকিবে, যাহা তাহার কর্পাস হিসাব হইবে এবং উক্ত কর্পাস হিসাবে চাঁদাদাতা কর্তৃক জমাকৃত চাঁদার অংক হিসাবায়ন করা হইবে।

কর্তৃপক্ষ, আইনের ধারা ১৬ এর উপ-ধারা (২) এর দফা (ঘ) অনুসারে সমতা স্কিমে সরকারি অংশ প্রদানের জন্য যথেষ্ট অর্থ রহিয়াছে কিনা বা যথেষ্ট অর্থ না থাকিলে ইহা বাবদ কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে, তাহা কর্তৃপক্ষ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে নির্ধারণ করিয়া প্রয়োজনীয় অর্থের চাহিদাপত্র অর্থ বিভাগে প্রেরণ করিবে এবং অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় অর্থ প্রদান করিবে।

সার্বজনীন পেনশন সমতা স্কিম ২০২৩ । ১২ মাস চাঁদা না দিতে পারলেও স্কিম স্থগিত হবে না?

Caption: Download PDF Full Pension Rules 2023

স্কিমে অংশগ্রহণের যোগ্যতা ও নিবন্ধন । বয়স ৫০ হলেও কি ভর্তি হওয়া যাবে?

  1. ১৮ (আঠারো) বৎসর বা তদূর্ধ্ব বয়স হইতে ৫০ (পঞ্চাশ) বৎসর বয়সী জাতীয় পরিচয়পত্রধারী সকল বাংলাদেশি নাগরিক তাহাদের জন্য প্রযোজ্য কোনো স্কিমে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন করিতে পারিবেন : তবে শর্ত থাকে যে, বিশেষ বিবেচনায় ৫০ (পঞ্চাশ) বৎসর ঊর্ধ্ব বয়সের নাগরিকগণও স্কিমে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন এবং সেইক্ষেত্রে স্কিমে অংশগ্রহণের তারিখ হইতে নিরবচ্ছিন্ন ১০ (দশ) বৎসর চাঁদা প্রদান শেষে তিনি যে বয়সে উপনীত হইবেন সেই বয়স হইতে আজীবন পেনশন প্রাপ্য হইবেন।
  2. প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকগণ যাহাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নাই, তাহারা তাহাদের জন্য প্রযোজ্য স্কিমে পাসপোর্টের ভিত্তিতে নিবন্ধন করিতে পারিবেন: তবে শর্ত থাকে যে, সম্ভাব্য স্বল্পতম সময়ের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণ করিয়া তাহার অনুলিপি কর্তৃপক্ষের নিকট জমা প্রদান করিতে হইবে: আরও শর্ত থাকে যে, নিয়মিতভাবে পাসপোর্ট নবায়ন বা পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে নবায়নকৃত বা পুনঃইস্যুকৃত পাসপোর্টের অনুলিপি কর্তৃপক্ষের নিকট জমা প্রদান করিতে হইবে।
  3. সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় থাকা ব্যক্তিগণ তাহাদের জন্য প্রযোজ্য স্কিমে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন:
    তবে শর্ত থাকে যে, স্কিমে অংশগ্রহণ করিবার পূর্বে সংশ্লিষ্ট সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা সমর্পণ করিতে হইবে।
  4. কোনো স্কিমে নিবন্ধনের জন্য দেশে এবং প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকগণকে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত ফরম অনলাইনে পূরণ করিয়া আবেদন করিতে হইবে যাহার বিপরীতে আবেদনকারীর অনুকূলে একটি ইউনিক আইডি নম্বর প্রদান করা হইবে।
  5. আবেদনে উল্লিখিত আবেদনকারীর মোবাইল নম্বরে এবং অনিবাসী আবেদনকারীর ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় ই-মেইলের মাধ্যমে ইউনিক আইডি নম্বর, চাঁদার হার এবং মাসিক চাঁদা প্রদানের তারিখ অবহিত করা হইবে।

পেনশন স্কিম কি পরিবর্তন করা যাবে?

হ্যাঁ। যাবে চাঁদাদাতা যৌক্তিক কারণ উল্লেখপূর্বক, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে, তাহার অনুকূলে চালুকৃত স্কিমের পরিবর্তে অন্য স্কিম বা স্কিমের চাঁদা প্রদানের হার পরিবর্তন করিতে পারিবেন। স্কিম রূপান্তরের ক্ষেত্রে রূপান্তরিত স্কিমে নূতন চাঁদার হিসাব পৃথক রাখিয়া লভ্যাংশ ও পুঞ্জীভূত জমার অর্থের হিসাব করিতে হইবে, যাহা পূর্বতন স্কিমের পুঞ্জীভূত জমার সহিত যুক্ত হইবে। স্কিম রূপান্তরের কারণে মেয়াদ পূর্তিতে মাসিক পেনশনের পরিমাণ পুনঃনির্ধারিত হইবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *