সৎ পথে অর্থ আয় খুবই কঠিন প্রক্রিয়া এবং কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ কেউ নষ্ট করতে চায় না। ঝুকিঁপূর্ণ বিনিয়োগে খাটাতেই চায় না। যাদের হাতে প্রচুর অর্থ রয়েছে কিন্তু তা ব্যবসায়ে বিনিয়োগে ভয় পায়, তাদের জন্য স্থায়ী হিসাব সবচেয়ে উপযোগী। আসুন স্থায়ী হিসাব খোলার পদ্ধতি জেনে নিই।

স্থায়ী হিসাব খোলার জন্য নিম্নোক্ত ধাপ অনুসরণ করতে হবে

  1. আবেদনপত্র সংগ্রহ- স্থায়ী হিসাব খোলার জন্য নির্বাচিত শাখার দায়িতপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট থেকে নির্ধারিত আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে হয়।
  2. আবেদনপত্র পূরণ- আবেদনের নির্ধারিত স্থানে নাম, পিতা-মাতা /স্বামীর নাম, ঠিকানা, পেশা, জাতীয়তা, আমানতের পরিমাণ, কাংখিত মেয়াদ ইত্যাদি তথ্য লিপিবদ্ধ করে স্বাক্ষরদান করতে হয়। প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আবেদনপত্রের সাথে প্রয়োজনীয় দলিল ও কাগজপত্র জমা দিতে হয়।
  3.  আবেদনপত্র জমা- সুন্দরভাবে পূরণকৃত আবেদনপত্র এবার দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট জমা দিতে হয়।
  4. অনুমতি এবং জমার রসিদ সংগ্রহ- দায়িতপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পূরণকৃত ফরম ও সাথে সংযুক্ত সকল তথ্যে সন্তুষ্ট হলে হিসাব খোলার অনুমতি প্রদান করেন। অতঃপর আবেদনপত্রে উল্লিখিত অর্থ গ্রহণের জন্য একটি রসিদ প্রদান করেন।
  5. অর্থ গ্রহণ এবং স্থায়ী জমার রসিদ প্রদান- এই পর্যায়ে পূরণকৃত টাকা জমার রসিদটি নির্ধারিত অর্থসহ দায়িতপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গ্রহণ করে রসিদে একটি নাম্বার প্রদান করেন এবং তার স্থায়ী হিসাব রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করে। অতঃপর নাম্বারযুক্ত স্থায়ী জমা রসিদটি (FDR) আমানতকারীকে হস্তান্তর করে। এই রসিদে টাকার পরিমাণ, জমার মেয়াদ, সুদের হার, জমাকারীর নাম, ঠিকানা, স্বাক্ষরসহ অন্যান্য নিয়মকানুন লিপিবদ্ধ থাকে।

স্থায়ী আমানত বা ফিক্সড ডিপোজিট (সংক্ষেপিত এফডি) হচ্ছে ব্যাংক বা ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত একটি আর্থিক উপকরণ যা একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রাখা হয় এবং এতে বিনিয়োগকারীদের নিয়মিত সঞ্চয়ী হিসাবের চেয়ে বেশি হারে সুদ প্রদান করা হয়। এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ বিনিয়োগ এতে মুনাফাও অনেক কম। তবে টাকা বাসায় বসিয়ে রাখলে মূল্যস্ফিতির সাথে পাল্লা দিয়ে টাকা কমতে থাকবে তাই মিনিমাম রিটার্ণ পেলেও অবশ্যই বিনিয়োগ করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *