মুসলিম আইন অনুসারে বাবা -মায়ের মৃত্যুর পর তাহাদের ত্যাজ্য সম্পত্তি হইতে প্রত্যেক ছেলের অর্ধেক প্রত্যেক মেয়ে পাবে,এই নিয়মের বিপরীত কিছু হলেই সমস্য সৃষ্টি হবে । ভাই -বোনদের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ এড়াতে মা- বাবার মৃত্যুর পর তাহাদের ত্যাজ্য সম্পত্তি মুসলিম আইন অনুসারে বন্টন করে দেওয়া উচিত – বাটোয়ারা আইন ও ইতিহাস

মামলা নাকি খতিয়ান সংশোধন?– বাটোয়ারা মামলার প্রাথমিক উৎস বলা যায় রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাসত্ব আইন ১৯৫০ এর ধারা ১৪৩ (বি) এর বিধানটিকে। এ ধারাটিতে উত্তরাধিকারের ওপর ভিত্তি করে খতিয়ান সংশোধনের বিষয়ে বলা হয়েছে। অনুরূপ সংশোধনের পূর্বশর্ত হলো আপোষের ভিত্তিতে প্রথমে একটি বন্টননামা দলিল তৈরি করে তা রেজিস্ট্রি করার পর সে অনুসারে রেজিস্ট্রার মৃতের উত্তরাধিকারীদের খতিয়ান সংশোধন করবে। এ বিধানটিতে বন্টনের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কিন্ত আপোষে বন্টন না হলে কি করা হবে তা বলা হয়নি। বন্টনের অধিকার একটি দেওয়ানী প্রকৃতির অধিকার। বন্টনের দেওয়ানী অধিকার হওয়ায় উক্ত খতিয়ানের সহ-শরীক বা উত্তরাধিকারীদের যে কেউই দেওয়ানী আদালতে তা বলবৎ এর জন্য আশ্রয় নিতে পারে। কারণ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর ধারা- ৯ এ সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অন্যত্র বারিত না থাকলে দেওয়ানী প্রকৃতির সকল বিষয় বিচারের এখতিয়ার দেওয়ানী আদালতের থাকবে। সুতরাং, বাটোয়ারার অধিকার দেওয়ানী প্রকৃতির হওয়ায় একইসাথে কোনো আইনে এ সংক্রান্ত বিধান না থাকায় এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোথাও বারিত না হওয়ায় দেওয়ানী কার্যবিধি ধারা-৯ এর অধীনে দেওয়ানী আদালতে বাটোয়ারা বা বন্টনের মামলা করা হয়।

বাটোয়ারা বা বন্টন মামলার ইতিহাস কি? এদেশে হিন্দু, মুসলিমসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের উত্তরাধিকার নির্ধারিত হয় এবং সম্পত্তি বন্টিত হয় তাদের স্বীয় পার্সোনাল ল’ অনুসারে। মুসলিমদের ক্ষেত্রে ১৯৩৭ সালে ব্যক্তিগত শরীয়ত প্রয়োগ আইনের মাধ্যমে যে ১০টি বিষয়ে মুসলিম আইনের প্রয়োগকে বাধ্যকরী করা হয় তার মধ্যে উত্তরাধিকার একটি। এদেশের হিন্দুসহ অন্যদের উত্তরাধিকারও নির্ধারিত এবং বন্টিত হয় তাদের পার্সোনাল আইন অনুসারে। যৌথপরিবার, যৌথ সম্পত্তি এগুলো মূলত হিন্দু পারিবারিক ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য। ১৮৯৩ সালের বাটোয়ারা আইনটিও মূলত হিন্দু যৌথসম্পত্তির বন্টনকে উপজীব্য করে করা হয়েছিল। ১৮৯৩ সালের আইনটি নামে বাটোয়ারা আইন হলেও এর পরিধি খুবই সীমিত। এ আইনটি মূলত অবিভাজ্য সম্পত্তির বিক্রয় কেন্দ্রিক, অংশ বিভাজন কেন্দ্রিক। যেমন: অসৎ উদ্দেশ্যে বিক্রির আবেদন প্রতিরোধ, যৌথ সম্পত্তি অংশীদারদের মধ্যে বিক্রয়ের মাধ্যমে অগ্রক্রয়ের অধিকার সংরক্ষণ, অবিভাজ্য সম্পত্তি বিক্রির ডিক্রি প্রদানের মাধ্যমে অংশীদারদের মাঝে সম্পত্তির অংশানুসারে অর্থ বন্টন ইত্যাদি।

বাটোয়ারা দলিল কি কি কাজে লাগে? অংশীদারগণের মধ্যে ওয়ারিশি সম্পত্তি বন্টনের একটি লিখিত প্রমান হিসাবে বাটোয়ারা দলিল কাজে লাগে। বাটোয়ারা দলিল বন্টনের একটি লিখিত প্রমান হিসাবে থাকে এতে ভবিষ্যতে যে কোন অংশিদার পুর্বের বন্টন মানতে বাধ্য থাকে। ওয়ারিশি সম্পত্তির নামজারি করতে বন্টন দলিলের প্রয়োজন হয়। ওয়ারিশি জমি বিক্রি করতে গেলে বন্টন দলিলের প্রয়োজন হয়। ভূমি জরিপকালীন সময়ে ওয়ারিশি সম্পত্তিতে রেকর্ড করাতে প্রয়োজন পড়ে। ওয়ারিশি জমির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে লোন করাতে গেলে প্রয়োজন হয়। অংশীদারগণের মধ্যে ভবিষ্যতে মামলা মকদ্দমা হওয়া থেকে বাঁচা যায়।

Partition বা বাটোয়ারা আইন ও ইতিহাস । বন্টন বা বাটোয়ারা মামলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

বন্টন বা বাটোয়ারা দলিল করার জন্য কি কি ডকুমেন্ট লাগে? যে ব্যক্তির সম্পত্তি বন্টন করা হবে উক্ত ব্যক্তির মৃত্যু সনদ লাগবে। মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশগণের প্রমান হিসাবে ওয়ারিশ সনদ লাগবে। মৃত ব্যক্তির যে সম্পত্তি বন্টন হবে উক্ত সম্পত্তির দলিল লাগবে।  মৃত ব্যক্তির যে সকল ওয়ারিশ সম্পত্তির মালিক হবে স সকল ওয়ারিশের সম্মতি থাকতে হবে।

মেয়ের বিবাহ হইলে মেয়ে যদি স্বামীর বাড়ীতে বসবাস করে তাহা হইলে বাটোয়ারা আইনের ৪ ধারা মতে পৈত্রিক বাড়ী বাটোয়ারা করিতে পারিবে না। কারন সে একই পরিবার ভূক্ত নহে। ৩৪ ডি, এল, আর,২৪৫ পৃঃ ১৯২৬(বোম্বে)১৯৭পৃঃ

মেয়ের বিবাহ হইলে মেয়ে যদি স্বামীর বাড়ীতে বসবাস করে তাহা হইলে বাটোয়ারা আইনের ৪ ধারা মতে পৈত্রিক বাড়ী বাটোয়ারা করিতে পারিবে না। কারন সে একই পরিবার ভূক্ত নহে। ৩৪ ডি, এল, আর,২৪৫ পৃঃ ১৯২৬(বোম্বে)১৯৭পৃঃ। এর মানে এই না যে কন্যা সন্তান জমি পাবে না। মুসলিম আইন অনুসারে ভূমি বা জমি পাবেন, তবে বাড়ী বা পৈত্রিক ভিটার ক্ষেত্রে বসবাসরত পরিবারকে অগ্রাধিকার প্রধান করা হয়েছে। জমি-জমার হিসাব নিকাশ ও সংশ্লিষ্ট আইন by মুহাম্মদ আনোয়ার আলি

বন্টন বা বাটোয়ার মামলা আইন । বাটোয়ারা আইনের বিভিন্ন দিক দেখুন

  • বাটোয়ারা মামলা কেন করবেন? যৌথ বা এজমালী সম্পত্তি ভোগ-দখলে, সহ-মালিক কর্তৃক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে বা আপনার ন্যায়সংগত হিস্যাংশ প্রাপ্তিতে অন্তরায় বা বাঁধা সৃষ্টি হলে, আপনি মৌখিক বা লিখিতভাবে আপনার অংশ ভোগ-দখল দাবি করার পরেও যদি তিনি/তাঁরা বুঝিয়ে না দেন বা অস্বীকার করেন, এমতাবস্থায় দেওয়ানী আদালতে বাটোয়ারার মামলা দায়ের করা আপনার আইনসংগত অধিকার। বাটোয়ারা অন্যের প্রতি অন্যায় নয়, বরং প্রচলিত আইন মোতাবেক নিগৃহীত ব্যক্তির অধিকার আদায়ের রক্ষা কবজ। (এ.আই.আর.-১৯৫৪, এস.সি.-৫৭৫ ও এ.আই.আর.-১৯২৩, কলি-৫০১)
  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে বাটোয়ারা মামলা করা যায় কি?– বাটোয়ারা শুধুমাত্র সম্পত্তির ভাগ-বন্টন নয়। ব্যাপক অর্থে বাটোয়ারা এক ধরনের হস্তান্তর বটে। কেননা এ আইনে একই স্বত্ব পরবর্তীতে মালিকানার হিস্যানুযায়ী বিভিন্ন অংশে বিভক্তি তথা বিনিময় হয়। তবে, সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ১১৮ ধারা মোতাবেক কোন যৌথ সম্পত্তির বাটোয়ারা হস্তান্তর নয় (১০ সি.এল.জে.-৫০৩, ২০ সি.-২১০)। বাটোয়ারা সম্পত্তি হস্তান্তরের সাথে সম্পৃক্ত নয় (৪৯ সি.ডব্লিউ.এন.-৭৬৯ ও ৭৭৯, ১৯৫০ বোম্বে-২৪৭)
  • দখলকারকে বহিস্কার করতে বাটোয়ারা মামলা হয় কি? একজন সহ-অংশীদার যদি কোন যৌথ সম্পত্তির সু-নির্দিষ্ট অংশে ভোগ-দখলকার থাকেন, তবে উক্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকারী বা সকল সহ-মালিকের মধ্যে বন্টন ব্যতীত, তাঁকে বহিস্কার বা উচ্ছেদ করা যাবে না (পি.এল.জে.-১৯০০ লাহোর-২৩৪)
  • বাটোয়ারায় পথাধিকার ব্যাপারটি কেমন? কোন বিরুদ্ধ পথাধিকার প্রকাশ বা সুপ্ত মনোভাব না থাকলে সেক্ষেত্রে নিজ নিজ ভোগাধিকার অনুযায়ী পথাধিকার সুবিধা প্রদেয় বলে গণ্য হবে, যদি তা আবশ্যিক এবং অব্যহত বলে প্রতীয়মান হয় (১৪ বোম্বে-৪৫২, ১৪ সি.-৭৯৭, ২৬ সি.-৫১৬, সি.এল.জে-৪০৬)
  • সহ-মালিকের একচ্ছত্র দখল বাজায় থাকে কি? কোন যৌথ সম্পত্তির একটি সু-নির্দিষ্ট অংশ (লাভজনক), অন্যান্য সহ-অংশীদার বা সহ-মালিকগণের সম্মতি ব্যতীত কোন একজন অংশীদার একচ্ছত্র দখলকার হিসেবে দখল প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না (১৯৬০-১২ ডি.এল.আর-৭০৮)। উল্লেখ্য, যদি যৌথ মালিকানার সম্পত্তি হতে, কোন এক জনের সু-নির্দিষ্ট অংশ খরিদ করেন, তবে উক্ত সম্পত্তি বাটোয়ারা না হওয়া পযর্ন্ত তিনি (খরিদা মালিক) উক্ত সম্পত্তির দখল অধিকার প্রাপ্ত হবেন (১৯৫৯-১১ ডি.এল.আর. এস.সি.-৭৮)
  • বিবাহ জনিত কারনে পৈত্রিক ভিটায় বোনের দখল বজায় থাকে কি? একজন উত্তরাধিকারিনী পৈত্রিক ভিটায় অবস্থিত কোন বসতগৃহ বা কুটিরে বিবাহ পযর্ন্ত সহ-অংশীদার হিসেবে বিবেচ্য হবেন। পরবর্তীতে উত্তরাধিকারিনীর (কন্যা সন্তান) অন্যত্র বিবাহ হলে, তিনি আগন্তুক হিসেবে বিবেচিত হবেন। তাই তিনি উক্ত পৈত্রিক ভিটায় অবস্থিত বসতগৃহ বা কুটিরের কোন একচ্ছত্র অংশ দাবী করতে পারেন না। এ কারনে বাটোয়ারা মামলায় উত্তরাধিকারিনীর (কন্যা সন্তান) বসতগৃহ বা কুটিরের অংশ বিশেষ প্রাপ্তির বিষয়টি বিবেচিত হয় না। কারন উক্ত সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী (পূত্র সন্তান) গণের মধ্যে বিবাদ বা বিরোধ বৃদ্ধি পাবে (১৯৬১-১৩ ডি.এল.আর-২৩০)
  • বাটোয়ারার পর পরিত্যাক্ত সম্পত্তি বাটোয়ারা পুনরায় করা যাবে? কোন যৌথ মালিকানা বা উত্তরাধিকারের সম্পত্তি বাটোয়ারার পর যদি উক্ত বাটোয়ারার বাইরে, অন্য কোন যৌথ সম্পত্তির ভাগ-বন্টন অবশিষ্ট থাকে, তবে সেক্ষেত্রে পরবর্তী বাটোয়ারা মামলা দায়েরে আইনগত কোন বাঁধা নেই (২৮ সি.ডব্লিউ.এন.-১৮১; ১৭ সি.ডব্লিউ.এন.-৫২১; ৩৯ সি.জে.এল.-১৪০)। বাদী ও বিবাদীর মধ্যে কোন যৌথ সম্পত্তি থাকলে, তা বাটোয়ারা করা যাবে এবং উক্ত বাটোয়ারা থেকে কোন অংশ যদি বাটোয়ারা বহির্ভূত থাকে, পরে তা বাটোয়ারাতে কোন প্রতিকুলতা নেই (১৯৫৪ ডি.এল.আর.-৬ এফ.সি.-১৩৬)
  • কোন সহ-অংশীদার কর্তৃক ইমারত নির্মানের মাধ্যমে সম্পত্তির উন্নয়ন সাধন করলে কি ব্যয় প্রাপ্য হয়? কোন সহ-অংশীদার ইমারত নির্মানের মাধ্যমে সহ-মালিকানার সম্পত্তির উন্নয়ন সাধন করলে উক্ত সম্পত্তি বাটোয়ারা আইনে Equity (সমমূল্য, ন্যায় বিচার, নিরপেক্ষতা) নীতি অনুসৃত হয় এবং উক্ত সহ-অংশীদারকে প্রচলিত বাজারদর অনুযায়ী প্রাপ্য অংশটুকু দেওয়ার জন্য তাগিদ অনুভূত হয় (ডি.এল.আর.-৮ সি.এল.-২৭)। কোন যৌথ সম্পত্তিতে দখল এবং উন্নয়নের বিষয়টি Equity (সমমূল্য, ন্যায় বিচার, নিরপেক্ষতা) এর প্রেক্ষিতে বিবেচিত হয়ে থাকে (লাহোর-১৮, পি.টি.-১০)
  • বাটোয়ারায় নাবালকের অধিকার বজায় থাকে কি? বিজ্ঞ আদালত কোন নাবালকের স্বত্ব ও মালিকানার নিরাপত্তার স্বার্থে বাটোয়ারা মামলা নাকচ/খারিজ করতে পারেন (৩১ বোম্বে- ৩৭৩, ১৭ এম.এল.জে.-৩৪৩)। বাটোয়ারা ন্যায্য হলে, তা নাবালকের উপরও কার্য্যকর (৩১ এলাহা ৪১২, ২৩ সি.ডব্লিউ.এন.-১১৮)। অন্যথায় নিজ অধিকারের ব্যাত্বয় বা ক্ষতির প্রমান সাপেক্ষে একজন নাবালক কোন বাটোয়ারা ভঙ্গ বা অমান্য করতে পারেন (৭৩ আই.সি.-৭৬৩, ১৯২২ এম.ডব্লিউ.এন.-৭৩২)
  • সহ-অংশীদার বে-দখল হলে মামলা করা যাবে? সহ-অংশীদার বা সহ-মালিক দখলচ্যুত হলে সেখানে একমাত্র সমাধান বাটোয়ারা মামলা। (ডি.এল.আর.-২১, ১৯৬৯-পৃঃ ৪২৩)
  • বাটোয়ারা কি রেজিষ্ট্রি করে নিতে হয়? কোন যৌথ সম্পত্তি পারিবারিক বা স্থানীয় শালিসগণের মাধ্যমে, সহ-অংশীদার বা সহ-মালিকগণ কর্তৃক স্বানন্দে নিজ ইচ্ছায় গৃহীত হলে, উক্ত মৌখিক বা লিখিত বাটোয়ারা অবশ্যই রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে (২৫ কলি-২১০; ১০ সি.এল.জে-৫০২; ১৬৪ আই.সি.-৩৯২)। কোন মৌখিক বাটোয়ারার সমঝোতায় যদি কোন প্রকার শর্তের উল্লেখ থাকে, তবে উক্ত শর্তের উল্লেখ করে লিখিত সমঝোতাপত্র রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে। এক্ষেত্রে উক্ত মৌখিক বা লিখিত বাটোয়ারা রেজিষ্ট্রেশন না হওয়া পযর্ন্ত কার্য্যকর বা অংশীদারগণের উপর বাধ্যবাধকতা হিসেবে গণ্য হবে না (১৯৩৬ সি.ডব্লিউ.এন.-১১৬২; ১৯৩৭ অ থ- ৫৩)
  • একজন সহ-অংশীদার বা ভাগীদার কর্তৃক প্রাপ্যের অতিরিক্ত অংশ দখল করলে কি কার্যকর থাকবে? একজন সহ-অংশীদার বা সহ-মালিক কর্তৃক প্রাপ্য হিস্যাংশের অতিরিক্ত অংশ দখল করলে, সেক্ষেত্রে বাটোয়ারা-ই তার একমাত্র সমাধান। তবে, একজন সহ-অংশীদার বা সহ-মালিককে যৌথ সম্পত্তির দখল হতে কেউ বহিস্কার বা উচ্ছেদ করতে পারেন না (ডি.এল.আর.-৫, ১৯৫৩ পৃঃ-৩৯)
  • বাটোয়ারা মামলায় সমুদয় সম্পত্তি অন্তর্ভূক্তকরণ হয় কি? বাটোয়ারা মামলার সাধারন নীতি অনুযায়ী, বাটোয়ারাযোগ্য সমুদয় সম্পত্তি একই মোকর্দ্দমাভূক্ত করতে হয়। কিন্তু প্রয়োজনে ন্যায় বিচার ও অন্যান্য সুবিধাজনক দিক বিবেচনায় ক্ষেত্র বিশেষে তা শিথিলযোগ্য হতে পারে। (ডি.এল.আর.-৩৬, ১৯৮৪ পৃঃ-২৯০)

বাটোয়ারা দলিল করার নিয়ম কি?

বন্টন দলিল করার সকল প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো থাকলে প্রথমে আপনারা একজন দক্ষ দলিল লিখক বা একজন দক্ষ আইনজীবীর কাছে যাবেন। সেখানে গিয়ে মৃত ব্যক্তির পূর্বের দলিলগুলো তাকে প্রদান করবেন এবং একটি বন্টন দলিল লিখার জন্য বলবেন। দলিল লিখক/আইনজীবী প্রথমে মৃত ব্যক্তির পূর্বের দলিলগুলো দেখে এবং সমন্বয় করে একটি নতুন বন্টন দলিল লিখবেন। এবার উক্ত দলিলটি নিয়ে ওয়ারিশগণ সংশ্লিষ্ট সাবরেজিস্ট্রি অফিসে যাবেন সেখানে গিয়ে বাটোয়ারা দলিলের জন্য নির্ধারিত ফি জমা দিতে হবে। দলিলের সকল অংশীদারগণ সাবরেজিস্ট্রারের সম্মুখে রজিস্ট্রি বলিউমে স্বাক্ষর করবেন।পরে সাবরেজিস্ট্রার উক্ত দলিলটি রেজিস্ট্রি করে নিবেন। উক্ত বাটোয়ারা দলিলের একটি অবিকল নকল দলিল তখন নিয়ে নিতে পারেন। তো এইভাবেই খুব সহজেই সম্পাদিত হবে।

আপোষমূলে বাটোয়ারা দলিল বা  বন্টননামা (Partition) বা বাটোয়ারা দলিলের রেজিস্ট্রি খরচস বা রেজিস্ট্রেশন ফি কত? (ক) বন্টনকৃত সম্পত্তির দলিলে লিখিত (বৃহত্তম এক পক্ষের অংশের মূল্য বাদ দিয়ে) মোট মূল্য অনুর্ধ ৩ লক্ষ টাকা হলে ৫০০ টাকা (রেজিস্ট্রেশন আইন-১৯০৮, এর ধারা ৭৮বি (১) অনুসারে)। (খ) বন্টনকৃত সম্পত্তির দলিলে লিখিত (বৃহত্তম এক পক্ষের অংশের মূল্য বাদ দিয়ে) মোট মূল্য অনুর্ধ ১০ লক্ষ টাকা হলে ৭০০ টাকা (রেজিস্ট্রেশন আইন-১৯০৮, এর ধারা ৭৮বি (২) অনুসারে)। (গ) বন্টনকৃত সম্পত্তির দলিলে লিখিত (বৃহত্তম এক পক্ষের অংশের মূল্য বাদ দিয়ে) মোট মূল্য অনুর্ধ ৩০ লক্ষ টাকা হলে ১২০০ টাকা (রেজিস্ট্রেশন আইন-১৯০৮, এর ধারা ৭৮বি (৩) অনুসারে)। (ঘ) বন্টনকৃত সম্পত্তির দলিলে লিখিত (বৃহত্তম এক পক্ষের অংশের মূল্য বাদ দিয়ে) মোট মূল্য অনুর্ধ ৫০ লক্ষ টাকা হলে ১৮০০ টাকা (রেজিস্ট্রেশন আইন-১৯০৮, এর ধারা ৭৮বি (৪) অনুসারে)। (ঙ) বন্টনকৃত সম্পত্তির দলিলে লিখিত (বৃহত্তম এক পক্ষের অংশের মূল্য বাদ দিয়ে) মোট মূল্য ৫০ লক্ষ টাকার উর্ধে হলে ২০০০ টাকা (রেজিস্ট্রেশন আইন-১৯০৮, এর ধারা ৭৮বি (৫) অনুসারে)। রেজিস্ট্রেশন ফি পে-অর্ডারের মাধ্যমে স্থানীয় সোনালী ব্যাংক লিঃ এ, কোড নং ১৪২২২০১ তে জমা করতে হবে (পুরাতন কোড ১৮২৬)। স্টাম্প শূল্কঃ ৫০ টাকা (১৮৯৯ সালের স্টাম্প আইনের ১ নম্বর তফশিলের ৪৫ নম্বর ক্রমিকে উল্লিখিত বর্ণনা অনুসারে)। এছাড়া ১। ২০০ টাকার স্টাম্পে হলফনামা। ২। ই- ফিঃ- ১০০ টাকা। ৩। এন- ফিঃ- (!) বাংলায় প্রতি ৩০০ (তিন শত) শব্দ বিশিষ্ট এক পৃষ্ঠা বা উহার অংশ বিশেষের জন্য ১৬ টাকা। (!!) ইংরেজি ভাষায় প্রতি ৩০০ (তিন শত) শব্দ বিশিষ্ট এক পৃষ্ঠা বা উহার অংশ বিশেষের জন্য ২৪ টাকা। ৪। (নকলনবিশগনের পারিশ্রমিক) এনএন ফিসঃ- (!) বাংলায় প্রতি ৩০০ (তিনশত) শব্দ বিশিষ্ট এক পৃষ্ঠা বা উহার অংশ বিশেষের জন্য ২৪ টাকা। (!!) ইংরেজি ভাষায় প্রতি ৩০০ (তিনশত) শব্দ বিশিষ্ট এক পৃষ্ঠা বা উহার অংশ বিশেষের জন্য ৩৬ টাকা। ৫। সম্পত্তি হস্তান্তর নোটিশের আবেদনপত্রে ১০ টাকা মূল্যের কোর্ট ফি। ১। এন- ফি ও ই- ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি এর সাথে একত্রে পে-অর্ডারের মাধ্যমে কোড নং ১৪২২২০১ তে জমা করতে হবে (পুরাতন কোড ১৮২৬)। ২। এনএন- ফি নগদে রেজিস্ট্রি অফিসে জমা করতে হবে। ৩। সরকার নির্ধারিত হলফনামা, ২০০ টাকার স্টাম্পে প্রিন্ট করে মূল দলিলের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।

বিঃদ্রঃ ওয়ারিশী স্হাবর সম্পত্তি ব্যতিত অন্যভাবে অর্জিত স্হাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত বন্টন নামা দলিলের ক্ষেত্রে উৎস কর প্রযোজ্য। রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৩ বি, ধারা মোতাবেক কোন রেকর্ডীয় মালিক মৃত্যুবরণ করলে তাঁর জীবিত ওয়ারিশগণ নিজেদের মধ্যে একটি বন্টননামা দলিল সম্পাদন করে রেজিস্ট্রি করবেন।

বাটোয়ার মামলা কত দিন চলে?

বাটোয়ারা বা মিমাংসা বা বন্টননামা মামলা পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট কোন আইন না থাকায় এটি দীর্ঘদিন চলে। গত ৩০ বছর থেকে চলছে বাটোয়ারা মামলার চালাচ্ছেন আজিজ মীর।  মামলা যখন করেছিলেন তখন তার বয়স ছিল ৫০, এখন ৮০ বছর। বাদীর আশঙ্কা,তিনি হয়তো মামলার রায় দেখে যেতে পারবেন না। সূত্র দেখুন

২০ বছর আগে বাদী আসিরুননেসার মৃত্যু হয়। নতুন বাদী হন তার মেয়ে হামিদা খাতুন (৭০)। ইতিমধ্যে মামলার একাধিক বিবাদীরও মৃত্যু হয়েছে। ৬৩ বছর পর চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ আদালত মামলাটি নিষ্পত্তি করে রায় দিয়েছে। এখন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর দখল বুঝে পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন বাদী হামিদা খাতুন। সূত্র দেখুন

 

 

দলিল নমুনা ফরম ২০২৩ । সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল PDF or Word Format সংগ্রহ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *