⚡ পল্লী বিদ্যুতের নতুন মিটার গাইড

অনলাইনে আবেদন, ফি, কাগজপত্র, বিল ও মিটার রিডিং — এক পাতায়

৭ ধাপে আবেদনআবেদন ফি ১১৫ ৳পোল থেকে সর্বোচ্চ ১৩০ ফুট

অনলাইনে আবেদনের ধাপসমূহ

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) অনলাইন পোর্টালে যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নতুন সংযোগের জন্য আবেদন করতে পারেন। প্রয়োজন: ব্রাউজার, ইন্টারনেট, কাগজপত্রের স্ক্যান কপি, একটি মোবাইল নম্বর ও (থাকলে) ই-মেইল।

১
আবেদন ফরম পূরণ ও সংরক্ষণ
reb.gov.bd-তে "অনলাইন বিদ্যুৎ সংযোগ" থেকে "আবেদন করুন" চাপুন। পিবিএস ও অফিস, আবেদনকারীর তথ্য (নাম, জন্ম তারিখ, পিতা-মাতার নাম, মোবাইল, NID/জন্মনিবন্ধন), সংযোগস্থলের ঠিকানা (জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ডাক, গ্রাম, দাগ নম্বর, জমির মালিকানা), ট্যারিফ, ফেইজ, ভোল্ট ও আবেদনকৃত লোড দিন।
২
লোডের বর্ণনা ও ভৌগোলিক তথ্য
ফ্যান, লাইট, টিভি ইত্যাদি ইলেকট্রিক আইটেম ও সংখ্যা যোগ করলে ডিমান্ড লোড (কিলোওয়াট) নিজে থেকে হিসাব হবে। বিদ্যুৎ পোল থেকে দূরত্ব (সার্ভিস ড্রপ, ফুট) এবং পার্শ্ববর্তী গ্রাহকের বই নম্বর ও হিসাব নম্বর দিন।
৩
সংযুক্তি ও শর্তাবলী
ছবি, NID/জন্মসনদ, দলিল/মালিকানার কাগজ আপলোড করুন (প্রতি ফাইল সর্বোচ্চ ৩০০ KB)। শর্তে সম্মতি দিয়ে ক্যাপচা মিলিয়ে "সংরক্ষণ (ড্রাফট)" চাপুন। SMS ও ই-মেইলে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড আসবে।
৪
লগইন করে ওয়্যারিং তথ্য দিয়ে সাবমিট
ইউজার আইডি (NID নম্বর) ও পাসওয়ার্ড দিয়ে ড্যাশবোর্ডে ঢুকুন। ওয়্যারিং সম্পন্ন কি না, গ্রাউন্ডিং রড মেমো নম্বর, মেমো সংযুক্তি ও লোকেশন মন্তব্য দিয়ে "সাবমিট" করুন।
৫
আবেদন ফি জমা
বিল নম্বর দিয়ে পিবিএসের ক্যাশ কাউন্টার বা রকেটের মাধ্যমে ফি দিন। ফি জমা না হওয়া পর্যন্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া শুরু হয় না।
৬
ডিমান্ড নোট ও পরিশোধ
সমিতি অনুমোদন দিলে ড্যাশবোর্ড ও ই-মেইলে ডিমান্ড নোট আসবে। নোটের সমপরিমাণ টাকা কাউন্টার/রকেটে জমা দিন।
৭
সিএমও ও সংযোগ
সঠিক আবেদন ও ডিমান্ড নোটের টাকা জমার পর সিএমও ইস্যু হয়। মিটার বসানোর পর "গ্রাহক হিসাব নম্বর" SMS-এ জানানো হয়।
⚠️ সংযোগস্থল থেকে সার্ভিস পোলের দূরত্ব সর্বোচ্চ ১৩০ ফুটের মধ্যে হতে হবে। সর্বশেষ অবস্থা ড্যাশবোর্ডের "অবস্থা" কলামে ও SMS-এ জানা যায়।

ফি ও খরচ

খাতপরিমাণ
আবেদন ফি১১৫ টাকা (গাইডের নমুনা রসিদ অনুযায়ী)
ডিমান্ড নোট (নমুনা, ২ কিলোওয়াট এলটি-এ)সদস্য ফি ৫০ + গ্রাহক জামানত ৮০০ = ৮৫০ টাকা
ডিমান্ড নোটের অঙ্ক লোড, ট্যারিফ, দূরত্ব ও সমিতিভেদে আলাদা হয়। ওপরের অঙ্ক শুধু ইউজার গাইডের উদাহরণ; চূড়ান্ত হিসাব আপনার ডিমান্ড নোটেই পাবেন।

ডিমান্ড নোটে সাধারণত থাকে: সদস্য ফি, গ্রাহক জামানত (বিল পরিশোধের নিরাপত্তা হিসেবে)। বকেয়া থাকলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে জামানত থেকে বকেয়া সমন্বয় করা হয়, বাকি অর্থ ফেরত পাওয়া যায়।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

বিদ্যুৎ বিভাগের ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের সংশোধিত তালিকা অনুযায়ী।

🏠 আবাসিক (এলটি-এ)

অন্যান্য শ্রেণি (সংক্ষেপে)
  • সেচ (এলটি-বি): ছবি, NID, জমির কাগজ, লোডের পরিমাণ, সেচ কমিটির অনুমোদনপত্র
  • শিল্প (এলটি-সি১): সাধারণ কাগজ ছাড়াও লোড, ট্রেড লাইসেন্স, রুফটপ সোলার/নেট মিটারিং অনুমোদনপত্র; একই আঙিনায় একাধিক শিল্প সংযোগ হবে না
  • বাণিজ্যিক/ব্যাটারি চার্জিং (এলটি-ই/ডি৩): সাধারণ কাগজ ও লোডের পরিমাণ, ভাড়াটিয়া হলে রেজিস্টার্ড চুক্তি
  • নির্মাণ (এলটি-সি২): সাধারণ কাগজ, লোডের পরিমাণ
  • অস্থায়ী (এলটি-টি): কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র, ভাড়াটিয়া হলে রেজিস্টার্ড চুক্তি
  • শিক্ষা/ধর্মীয়/সেবামূলক/হাসপাতাল (এলটি-ডি১): আবাসিকের মতো কাগজ ও রুফটপ সোলার/নেট মিটারিং অনুমোদন
  • মধ্যম/উচ্চ চাপ (MT/HT): আরও থাকে ট্রেড লাইসেন্স, প্রধান বৈদ্যুতিক পরিদর্শকের সার্টিফিকেট, ট্রান্সফরমার/সুইচ গিয়ার স্পেসিফিকেশন, সাবস্টেশন নকশা ও সিঙ্গেল লাইন ডায়াগ্রাম
  • নদীভাঙা ভূমিহীন (এলটি আবাসিক/বাণিজ্যিক, সিঙ্গেল ফেজ): ছবি, NID ও ইউনিয়ন/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক সনদ
কোন সংযোগে কত রুফটপ সোলার লাগবে তা নবায়নযোগ্য জ্বালানি শাখার সর্বশেষ পরিপত্র অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
💡 নিজের কাছের পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে একবার ফোন করে কাগজের তালিকা মিলিয়ে নিন; সমিতিভেদে অতিরিক্ত চাহিদা থাকতে পারে।

বিদ্যুৎ বিল কীভাবে তৈরি হয়

মাসিক বিল = (ব্যবহৃত ইউনিট × স্ল্যাব রেট) + ডিমান্ড চার্জ + ৫% ভ্যাট

বিল ক্যালকুলেটর (নমুনা হার)

নিচের হারগুলো নমুনা। বিদ্যুতের দাম নিয়ন্ত্রক সংস্থার আদেশে বদলায়, তাই ঘরের ঘরে সংখ্যা বদলে আপনার সমিতির সর্বশেষ হার বসান।

ইউনিট বাবদ: ০ ৳   ডিমান্ড: ০ ৳

সর্বমোট বিল: ০ ৳

মিটার রিডিং নেওয়ার নিয়ম

১
মিটারের ডিসপ্লেতে kWh লেখা মোট রিডিং দেখুন (দশমিকের পরের অংশ বাদ দিয়ে পূর্ণ সংখ্যা ধরা হয়)।
২
প্রতি মাসে একই সময়ে (সাধারণত মাসের শেষ বা নির্ধারিত তারিখে) রিডিং নিন।
৩
ব্যবহৃত ইউনিট = বর্তমান রিডিং − পূর্বের রিডিং। সিটি/সিটি-পিটি মিটারে এর সাথে মিটার গুণক (মাল্টিপ্লায়ার) গুণ করতে হয়।
৪
বিল বইয়ে বা বিলে ছাপা আগের রিডিংয়ের সাথে নিজের দেখা রিডিং মিলিয়ে নিন; গরমিল থাকলে সমিতির জোনাল অফিসে জানান।
৫
প্রিপেইড মিটার হলে রিচার্জ করা টাকা থেকে ব্যবহার অনুযায়ী ব্যালেন্স কমে; ব্যালেন্স দেখে সময়মতো রিচার্জ করুন।
মিটারে সিল ভাঙা, ছিদ্র করা বা কারচুপি করা আইনত দণ্ডনীয়। সমস্যা মনে হলে নিজে ঠিক না করে সমিতিকে জানান।

আবেদন ট্র্যাকিং ও সাধারণ প্রশ্ন

ড্যাশবোর্ডে লগইন করে "অবস্থা" কলামে আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা দেখা যায়, সাথে SMS ও ই-মেইলও আসে:

একই লগইনে কি একাধিক সংযোগের আবেদন করা যায়?হ্যাঁ, একই লগইন ব্যবহার করে নিজের জন্য একাধিক সংযোগের আবেদন করা যায়।
ইউজার আইডি কী?সাধারণত জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর; পাসওয়ার্ড SMS ও ই-মেইলে আসে।
বিপিডিবি এলাকায় কীভাবে আবেদন করব?পল্লী বিদ্যুতের বাইরে বিপিডিবির এলাকায় newconnection.bpdb.gov.bd পোর্টালে আবেদন করতে হয়; শিল্প সংযোগে BIDA ওয়ান-স্টপ সার্ভিসও ব্যবহার করা যায়।
সংযোগে কত সময় লাগে?সব তথ্য ঠিক থাকলে অনেক সূত্রে প্রায় ৩০ দিনের কথা বলা হয়, তবে সমিতি ও সংযোগের ধরনে এটি বদলাতে পারে।

আবেদন ফর্ম (প্রস্তুতি)

এই ফর্মটি অনলাইন আবেদনের আগে তথ্য গুছিয়ে নেওয়ার জন্য। এখানে কিছুই জমা বা সংরক্ষণ হয় না; আবেদন করতে হবে অফিসিয়াল পোর্টালে ("লিংক" ট্যাব দেখুন)। তথ্য পূরণ করে সামারি তৈরি করে প্রিন্ট বা কপি করে নিন।
💡 ইলেকট্রিক আইটেম ও লোড
আইটেমওয়াটসংখ্যামোট

মোট লোড: ০ ওয়াট

📎 কাগজপত্র চেকলিস্ট (আবাসিক)

অফিসিয়াল লিংক

আবেদন ও তথ্যের জন্য নির্ভরযোগ্য সাইটগুলো: