গ্রেড, এলাকা ও মূল বেতন দিন; দুই স্কেলের বাড়ি ভাড়া পাশাপাশি দেখুন।
গ্রেড বাছলে দুই স্কেলের ধাপ নিজে থেকে আসে। ৯ম স্কেলের ধাপ জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ এর ধাপ তালিকা অনুযায়ী (আপনার দেওয়া ফাইল থেকে)। ৮ম স্কেলের ধাপ প্রতি ধাপে ৫% বৃদ্ধি (১০ টাকায় রাউন্ড-আপ) ধরে তৈরি; গ্রেড ৬–১৯ এর শুরু ও শেষ বেতনের সঙ্গে মেলানো। গ্রেড ১–৫ ও ২০ এর পুরাতন ধাপ নিশ্চিত নয়, সঠিক বেতন জানা থাকলে নিজে লিখুন। চূড়ান্ত গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। ৯ম স্কেলের ধাপ একই ধাপ নয়, পার্থক্য পদ্ধতির ফিক্সেশনে নির্ধারিত হয়: (পুরাতন বেতন − পুরাতন শুরু) + নতুন শুরু, তারপর নিকটতম উচ্চ ধাপ, তারপর ইনক্রিমেন্ট।
| স্তর (৯ম গ্রেড / ৮ম ঘর) | ঢাকা ৮ম→৯ম | বিভাগীয় ৮ম→৯ম | অন্যান্য ৮ম→৯ম |
|---|---|---|---|
| গ্রেড ২০–১৬ / ≤৯,৭০০ ও ৯,৭০১–১৬,০০০ | ৬৫/৬০ → ৬০ (−৫/−০) | ৫৫/৫০ → ৫০ | ৫০/৪৫ → ৪৫ |
| গ্রেড ১৫–১০ | ৬০/৫৫ → ৫০ (−১০/−৫) | ৫০/৪৫ → ৪০ | ৪৫/৪০ → ৩৫ |
| গ্রেড ৯–৫ | ৫৫/৫০ → ৪৫ | ৪৫/৪০ → ৩৫ | ৪০/৩৫ → ৩০ |
| গ্রেড ৪–১ | ৫০ → ৪০ (−১০) | ৪০ → ৩০ | ৩৫ → ২৫ |
৮ম স্কেলের ঘর বেতনভিত্তিক, ৯ম স্কেলের স্তর গ্রেডভিত্তিক; তাই দুটি পুরোপুরি এক-এক মেলে না। উপরে আনুমানিক মিল দেখানো হয়েছে। বেতন-স্তরের সীমানা ছবিতে নেই।
সূত্র: পুরাতন হার ÷ নতুন হার − ১। যেমন ৬০% থেকে ৫০% হলে বেতন কমপক্ষে ২০% বাড়লে তবেই ভাড়া অপরিবর্তিত থাকে।
৯ম স্কেলে মূল বেতন প্রায় দ্বিগুণ বা বেশি হওয়ায় ভাড়ার টাকার অঙ্ক বাড়বে, কিন্তু হার কমার কারণে ভাড়া বৃদ্ধি বেতন বৃদ্ধির চেয়ে কম। ৮ম স্কেলের শুরুর বেতন ও ৯ম স্কেলের প্রথম ধাপ ধরে হিসাব।
প্রতিটি এলাকা ও স্তরে হার ৫ থেকে ১০ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে, সবচেয়ে বেশি গ্রেড ১৫–১০ ও ১–৪ এ। মূল বেতন প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় টাকার অঙ্কে ভাড়া বাড়বে। তবে ওপরের সারণি দেখুন: সব গ্রেডে ভাড়া বৃদ্ধি বেতন বৃদ্ধির চেয়ে কম, আর উচ্চ গ্রেডে ব্যবধান সবচেয়ে বেশি।
৮ম স্কেলে প্রতি ঘরে সর্বনিম্ন টাকার সীমা ছিল (যেমন ঢাকায় ৫,৬০০, ৯,৬০০, ১৯,৫০০)। ছবির ৯ম স্কেলে কোনো সর্বনিম্ন সীমা নেই। নতুন উচ্চ বেতনে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব কম, কিন্তু ভবিষ্যতে বাজারভাড়া বাড়লে কম বেতনের কর্মচারীর কোনো রক্ষাকবচ থাকবে না।
গ্রেড ১৬→১৫, ১০→৯ ও ৪→৩ এর সীমানায় হার একলাফে ৫ থেকে ১০ পয়েন্ট নামে। উচ্চতর গ্রেডে পদোন্নতি পেয়ে মূল বেতন সামান্য বাড়লেও ভাড়া কমে যেতে পারে। নতুন স্কেলেও গ্রেডের বেতন-পরিসর একে অপরের ওপর উঠেছে। যেমন ‘অন্যান্য’ এলাকায় গ্রেড ১৬-এর শেষ ধাপে (৫২,৯০০) ভাড়া প্রায় ৳ ২৩,৮০৫, আর উচ্চতর গ্রেড ১৫-এর প্রথম ধাপে (২২,৮০০) প্রায় ৳ ৭,৯৮০, অর্থাৎ প্রায় তিন গুণ কম। গ্রেড ১৬-এ প্রথম ধাপে ভাড়া বৃদ্ধি ≈ ১১২%, গ্রেড ১৫-এ ≈ ৬৫%।
নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সাভারের মতো ঢাকা-সংলগ্ন এলাকা ঢাকা সিটির থেকে ১০ পয়েন্ট কম পায়। অথচ যাতায়াতকারী কর্মচারীরা ঢাকার বাজারদরেই ভাড়া দেন। জেলা সদর ও উপজেলায় ভাড়া বেড়েছে, কিন্তু সর্বনিম্ন হার ২৫–৪৫%।
ছবিতে হার ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী মূল বেতন ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে বাড়ছে এবং ২০২৭ সালের জুলাইয়ে পূর্ণ হবে। তাই ২০২৬–২০২৭ সালে নতুন বেতনের ওপর কোন ভাড়া হার চলবে তা স্পষ্ট নয়। এটি গেজেট থেকে যাচাই করা দরকার।
মধ্যম স্তরে কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, বগুড়া সিটি ও কক্সবাজার পৌর এলাকা যুক্ত হয়েছে। ঢাকা, মধ্যম ও অন্যান্য এলাকার ব্যবধান (১০ ও ১৫ পয়েন্ট) আগের মতোই আছে।
৯ম স্কেলের ভাড়া ৮ম স্কেলের চেয়ে কম হলে পার্থক্য ব্যক্তিগত ভাতা হিসেবে দেওয়া। নতুন বেতন প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় সাধারণ ক্ষেত্রে এটি লাগবে না, তবে ধাপে ধাপে বেতন বাস্তবায়নের সময়কালে কাজে লাগবে।
প্রতি এলাকা ও স্তরে ন্যূনতম ভাড়া নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে মিলিয়ে নির্ধারণ। বিশেষ করে গ্রেড ২০–১০ এর জন্য।
গ্রেড ২০–১০ এ অন্তত ৮ম স্কেলের হার (৬৫/৫৫/৫০ বা ৬০/৫০/৪৫) রাখা, কারণ আয়ের তুলনায় ভাড়া খরচের বোঝা এঁদের বেশি।
গ্রেডের সীমানায় হঠাৎ পতন এড়াতে বেতন-ঘরভিত্তিক ক্রমহ্রাসমান হার ব্যবহার করা। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের ওপর এক হার, তার ওপরের অংশে কম হার। এতে পদোন্নতিতে ভাড়া কমার সুযোগ থাকে না।
নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার, কেরানীগঞ্জ, টঙ্গীর মতো এলাকার জন্য ঢাকার কাছাকাছি হার বা আলাদা মধ্যবর্তী স্তর নির্ধারণ।
বিবিএস-এর বাড়ি ভাড়া সূচক ও আবাসন জরিপ দিয়ে প্রতি ৩ বছরে এলাকাভিত্তিক হার যাচাই করা।
২০২৮ পর্যন্ত কোন হার চলবে তা প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা, প্রয়োজনে পুরাতন হার নতুন বেতনের ওপর চালু রাখা।
উচ্চ গ্রেডে ভাড়া বৃদ্ধি বেতন বৃদ্ধির চেয়ে অনেক কম। হার কাটছাঁট ১০ পয়েন্টের বদলে ৫ পয়েন্টে সীমিত করলে গ্রেডগুলোর ভাড়া বৃদ্ধি কাছাকাছি আসে।
৯ম স্কেলে ভাড়ার হার বেতনের অঙ্ক দেখে নয়, গ্রেড দেখে ঠিক হয়। গ্রেড ২০–১৬ ধাপে হার ৬০/৫০/৪৫% (ঢাকা/বিভাগীয়/অন্যান্য), গ্রেড ১৫–১০ ধাপে ৫০/৪০/৩৫%। অথচ দুই গ্রেডের বেতন-পরিসর প্রায় একই: গ্রেড ১৬ ২১,৯০০–৫২,৯০০ আর গ্রেড ১৫ ২২,৮০০–৫৫,২০০। ফলে কনিষ্ঠ গ্রেডের কর্মচারী কম বেতনেও বেশি ভাড়া পান।
একই ধাপ নম্বরের দুই গ্রেড তুলনা করা হয়েছে। লাল সারিতে কনিষ্ঠ গ্রেড (১৬) বেশি ভাড়া পাচ্ছে।
৮ম স্কেলে হার বেতনের ঘর অনুযায়ী ছিল, তাই একই বেতনে একই হার পাওয়া যেত। ৯ম স্কেলে হার গ্রেডের ওপর নির্ভরশীল, অথচ গ্রেডগুলোর বেতন-পরিসর একে অপরের ওপর উঠেছে। একই বেতনে (যেমন ৳ ৩০,০০০) গ্রেড ১৬-এ ভাড়া বেতনের ১০% বেশি, অর্থাৎ ৳ ৩,০০০ বেশি, সব এলাকায়।
উপরের সারণিতে দেখুন, গ্রেড ১৬-এর বড় ধাপগুলোর ভাড়া গ্রেড ১৫-এর সর্বোচ্চ ধাপের ভাড়াকেও পার করেছে। পদমর্যাদার ক্রম ও ভাতার ক্রম উল্টো হয়ে গেছে।
গ্রেড ১৬ থেকে ১৫-এ পদোন্নতি পেলে বেতন বাড়লেও হার ১০ পয়েন্ট নেমে যায়। ফলে বেতন বৃদ্ধি না থাকলে বা কম বাড়লে ভাড়া কমে যেতে পারে, যা পদোন্নতির প্রণোদনার পরপন্থী।
স্তরের সীমানা (গ্রেড ১৬/১৫, ১০/৯, ৫/৪) প্রতিটিতে একই ধরনের উল্টো সীমানা তৈরি হয়েছে। নিচের সারণিতে তা পরিমাণ সহ দেখানো হয়েছে।
হার বেতনের অঙ্কের ঘর অনুযায়ী নির্ধারণ করলে একই বেতনে একই হার আসে। সবচেয়ে সহজ ও সমতাভিত্তিক।
গ্রেড ১৫–১০ স্তরকেও ২০–১৬ স্তরের সমান হার (৬০/৫০/৪৫%) দেওয়া। ব্যবধান দূর হয়, কিন্তু সরকারি ব্যয় বাড়ে।
গ্রেড ১৬-এর হার কমিয়ে ১৫র সমান করলে উল্টো দূর হয়, কিন্তু সবচেয়ে কম আয়ের গ্রেডগুলোর ভাড়া কমে যাবে। তাই এটি পছন্দের নয়।
কোনো গ্রেডের ভাড়া তার বাড়তি উপরের গ্রেডের সর্বোচ্চ ভাড়ার ওপর যেতে পারবে না, অথবা উপরের গ্রেডের একই ধাপের ভাড়ার সমান হবে।
বেতনের প্রথম অংশে বেশি হার, তার ওপরের অংশে কম হার। সীমানায় লাফ ও উল্টো ক্রম অদ্নশ্য হয়।
তথ্যসূত্র: আপনার দেওয়া দুটি ছবির সারণি এবং প্রকাশিত জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ চার্ট (bdgovtjob.today, গেজেট নয়)। এটি বিশ্লেষণমূলক সহায়ক টুল, সরকারি আদেশের বিকল্প নয়। চূড়ান্ত তথ্যের জন্য মূল প্রজ্ঞাপন দেখুন।