Mutation Process– জমি নামজারি/মিউটেশন বা খারিজ করার নিয়ম সম্পর্কে আজ আমরা জানবো– জমি সিলেক্ট, ক্রয় এবং দলিল রেজিস্ট্রি হওয়ার পর আপনাকে জমি মিউটেশন করতে হবে। মিউটেশন না করলে কি হবে?

ধরি, একজন ব্যক্তি যিনি একটি জমি ক্রয় করেছেন এবং দলিল রেজিস্ট্রে করেছেন। তিনি এখন নামজারি বা মিউটেশন করতে চান। নামজারি সংক্রান্ত তার কোন ধারণাই নেই। আজ তিনি এই পোস্ট থেকে ধরণা নিবে। দালালের কাছে গিয়েছিলেন দালাল বলেছেন ১ লক্ষ টাকা হলে তিনি নামজারি করে দিবেন কিন্তু তিনি তাকে বিশ্বাস করতে পারছেন না।

কোন কারণে জমি হস্তান্তর হলে খতিয়ানে পুরোনো মালিকের নাম বাদ দিয়ে নতুন মালিকের নাম প্রতিস্থাপন করানোকেই মিউটেশন বা নামজারি বলে। যেখানে একটি নামজারি করতে মাত্র ২ হাজার টাকা লাগার কথা সেখানে সাধারণ মানুষকে অযথা হয়রানির শিকার হয়ে প্রচুর টাকা ব্যয় করতে হয়।

নামজারির জন্য আবেদন করতে যে সকল কাগজপত্র প্রয়োজন পড়বে

  • ক্রয়সূত্রে মালিক হলে উক্ত দলিলের সার্টিফায়েড কপি।
  • ওয়ারিশসূত্রে মালিকানা লাভ করলে অনধিক তিন মাসের মধ্যে ইস্যুকৃত ওয়ারিশ সনদ।
  • বায়া দলিলের কপি।
  • জমির সবগুলো খতিয়ানের ফটোকপি।
  • ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
  • জাতীয় পরিচয়পত্র/পাসপোর্ট/ওয়ার্ড কাউন্সিলর কর্তৃক ইস্যুকৃত নাগরিকত্ব সনদ।
  • ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা রশিদ।

আপনি যদি নামজারি প্রক্রিয়াটি দেখে নেন তবে ৮০% হয়রানি হতে মুক্তি পেতে পারেন।

নিচের আবেদন ফর্মটি সংগ্রহ করে উপরের কাগজপত্রসমূহ যুক্ত করতে হবে।

মিউটেশন ফর্ম ২০২২

ক্যাপশন: নামজারি আবেদন ফরম ২০২২ : ডাউনলোড

কোথায় ও কিভাবে নামজারি করতে হয়?

উপজেলা ভূমি অফিসে/এসি ল্যান্ড অফিসে নামজারির জন্য আবেদন করতে হয়। ঠিক কিভাবে আবেদন করবো ধাপগুলো দেখুন।

  1. প্রথমে সহকারী কমিশনার (ভূমি) থেকে নামজারি একটি নির্ধারিত ফরম আছে তা সংগ্রহ করতে হবে (ডাউনলোড)।
  2. উক্ত ফরমটি নির্ভূলভাবে পূরণ করতে হবে এবং এতে আবেদনকারীর নাম, ঠিকানা, রেজিস্ট্রি ক্রয় দলিলের নম্বর ও সাল, BS, CS, SA খতিয়ান নম্বর ও দাগ নম্বর ইত্যাদি স্পষ্টভাবে দিতে হবে। আবেদন পূরণ হয়ে গেলে নীচে আপনার স্বাক্ষর ও মোবাইল নম্বর দিতে হবে।
  3. আপনার পাসপোর্ট সাইজের ছবিটি আবেদপত্রের উপর সংযুক্ত করুন এবং অন্য সকল কাগজপত্র একত্রে সংযুক্ত করে হেল্পডেক্স জমা দিতে হবে। সেখান থেকে আপনাকে একটি রশিদ দেয়া হবে এবং পরবর্তী সাক্ষাতের তারিখ জানিয়ে দেয়া হবে।
  4. আপনার আবেদন প্রেরনের সাধারণত ২০ কার্য দিবসের মধ্যে এসি ল্যান্ড অফিসে আপনি /আপনার উপযুক্ত প্রতিনিধিকে ডাকবে। সেখানে আপনার আবেদনের সাথে যেসব কাগজপত্র দাখিল করেছিলেন তার মূলকপি ভূমি কর্মকর্তার নিকট প্রদর্শন করতে হবে।
  5. আপনার আবেদন প্রাথমিকভাবে যথার্থ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষদেরকে আপত্তি দাখিলের জন্য নোটিশ করা হয় এবং শুনানীর দিন ধার্য্য করে দেওয়া হয়।
  6. শুনানীর দিন কোন আপত্তি পাওয়া গেলে এসি ল্যান্ডে উভয়পক্ষের আপত্তি শুনবেন এক্ষেত্রে এসিল্যান্ডে নামজারির আবেদন অনুমোদন অথবা প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। শুনানীর দিন কোন আপত্তি না পাওয়া গেলে সর্বশেষ এসিল্যান্ড নামজারির জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন করে থাকে।
  7. আপনার নামজারির আবেদনটি চূড়ান্ত অনুমোদন হয়ে গেলে আপনাকে মোবাইলে ম্যাসেজ দিয়ে জানানো হবে।
  8. শেষ পর্যায়ে আপনাকে এসিল্যান্ড অফিসে গিয়ে নামজারি ফি পরিশোধ করে নতুন খতিয়ান সংগ্রহ করুন।

নামজারি না করলে কি সমস্যা হতে পারে?

নামজারি – নামজারি না করলে পরবর্তীতে জমি বিক্রয়, রেজিস্ট্রেশন এবং খাজনা দিতে পারবেন না। তাই জমি হস্তান্তর হওয়ার পর নামজারি করা অনেকটাই বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোট কথা আপনার নামেই যদি জমিটি এন্ট্রি করা না থাকে তবে আপনি খাজনাও দিতে পারবেন না, আবার বিক্রিও করতে পারবেন না।