বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বেসরকারি পর্যায়ে এলপিজি (LPG) এবং অটোগ্যাসের মূল্য পুনরায় সমন্বয় করেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক এলপিজির উৎপাদন পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) প্রত্যাহার করে আমদানি পর্যায়ে ৭.৫% হারে মূসক আরোপ করার ফলে এই নতুন দাম নির্ধারিত হয়েছে।
১২ কেজি সিলিন্ডারে কমল ১৫ টাকা
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৫ টাকা কমিয়ে ১,৩৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি এই সিলিন্ডারের দাম ১,৩০৬ টাকা থেকে ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১,৩৫৬ টাকা করা হয়েছিল। ফেব্রুয়ারি মাসেই দ্বিতীয়বারের মতো এই মূল্য সমন্বয় গ্রাহকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এল।
নতুন দরের বিস্তারিত তালিকা (ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
বিইআরসি’র প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিভিন্ন পরিমাণের সিলিন্ডারের নতুন খুচরা মূল্য (মূসকসহ) নিচে দেওয়া হলো:
| সিলিন্ডারের ওজন | নতুন নির্ধারিত মূল্য (টাকা) |
| ৫.৫ কেজি | ৬১৫ টাকা |
| ১২ কেজি | ১,৩৪১ টাকা |
| ১২.৫ কেজি | ১,৩৯৭ টাকা |
| ১৫ কেজি | ১,৬৭৭ টাকা |
| ৩৫ কেজি | ৩,৯১০ টাকা |
| ৪৫ কেজি | ৫,০২৭ টাকা |
এছাড়াও রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে সরবরাহকৃত এলপিজির দাম প্রতি কেজি ১১১.৭৯ টাকা এবং অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৬১.৪৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি এলপিজির দাম
বেসরকারি খাতের পাশাপাশি সরকারি এলপিজি গ্যাস লিমিটেড কর্তৃক সরবরাহকৃত ১২.৫ কেজি সিলিন্ডারের দামও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে ডিলার বা রিটেইলার পয়েন্টে ভোক্তা পর্যায়ে সরকারি এই সিলিন্ডারের দাম হবে ৭৭৬.৯৩ টাকা।
কার্যকর হওয়ার সময়কাল
বিইআরসি জানিয়েছে, এই সমন্বিত মূল্য ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ সন্ধ্যা ০৬:০০ টা থেকে কার্যকর হয়েছে। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই দামই বলবৎ থাকবে। কোনো পর্যায়েই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক দামে এলপিজি বা অটোগ্যাস বিক্রি করা যাবে না বলে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।
মূল্য হ্রাসের কারণ: মূলত এনবিআর-এর এস.আর.ও নং ৫১ ও ৫২-আইন/২০২৬/মূসক অনুযায়ী, উৎপাদন পর্যায় থেকে ট্যাক্স সরিয়ে আমদানি পর্যায়ে নিয়ে আসায় এই গাণিতিক পরিবর্তন এসেছে, যা সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যের ওপর প্রভাব ফেলেছে।

