বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা বলয় শক্তিশালীকরণ এবং নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ১০টায় রাজধানীর মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠে এই যুগান্তকারী প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করবেন।
প্রথম পর্যায়ের বিস্তারিত তথ্য
সরকারের তথ্যমতে, এই কর্মসূচির আওতায় প্রথম ধাপে দেশের ১৩টি জেলার ১৪টি উপজেলার ৩৭,৫৬৭ জন নারী প্রধান পরিবারকে এই কার্ড প্রদান করা হচ্ছে। পাইলট প্রকল্পের জন্য প্রাথমিকভাবে ৬৭,৮৫৪টি পরিবারকে জরিপের আওতায় আনা হয়েছিল, যার মধ্যে চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোকে নির্বাচন করা হয়েছে।
প্রধান বৈশিষ্ট্য ও সুবিধাসমূহ
ভাতা: প্রতিটি ফ্যামিলি কার্ডধারী পরিবার প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা হারে আর্থিক সহায়তা পাবে।
সরাসরি অর্থ প্রদান: কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি সুবিধাভোগী মায়ের মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ বা অন্যান্য ডিজিটাল চ্যানেল) অথবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই অর্থ পৌঁছে যাবে।
উন্নত প্রযুক্তি: কার্ডগুলোতে কন্টাক্টলেস চিপ, কিউআর কোড এবং এনএফসি (NFC) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা জালিয়াতি রোধে কার্যকর।
নারীর অগ্রাধিকার: প্রতিটি কার্ড পরিবারের মা অথবা নারী প্রধানের নামে ইস্যু করা হয়েছে, যা নারীর আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।
বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, আগামী জুন ২০২৬ পর্যন্ত এই পাইলট প্রকল্পের জন্য ৩৮.০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে বড় অংশই সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হবে। আগামী ৪ মাসের মধ্যে পাইলট কার্যক্রমের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে এটি পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সকল উপজেলা ও ৫ কোটিরও বেশি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
সরকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কার্ড বিতরণে কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বৈষম্য করা হয়নি। সম্পূর্ণ ডিজিটাল ডেটাবেজ এবং মাঠ পর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে খুঁজে বের করা হয়েছে। কোনো অভিযোগ থাকলে তা অনলাইনে বা সরাসরি জানানোর জন্য একটি শক্তিশালী ‘অভিযোগ ব্যবস্থাপনা’ সিস্টেমও চালু করা হয়েছে।

