বিআরটিএ তথ্য

বিপিসির নতুন নির্দেশনা 2026 । জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রেশনিং পদ্ধতি?

দেশের জ্বালানি তেলের মজুদ নিয়ে জনমনে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তি দূর করতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং ডলার সংকটের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের অপচয় রোধ ও অবৈধ মজুদ বন্ধে যানবাহনের ধরন অনুযায়ী দৈনিক তেল সরবরাহের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে সংস্থাটি।

কেন এই উদ্যোগ? বিপিসি জানিয়েছে, দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। সাম্প্রতিক বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে আমদানিতে কিছুটা বিলম্ব হলেও বর্তমানে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য নিয়মিতভাবে পার্সেল দেশে আসছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জ্বালানি সংকটের ‘নেতিবাচক সংবাদ’ প্রচার হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এই কৃত্রিম চাহিদা মেটাতে ফিলিং স্টেশনগুলোও প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ ও অবৈধ মজুদের চেষ্টা করছে, যা নিয়ন্ত্রণে সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

যানবাহনভেদে দৈনিক তেলের বরাদ্দ সীমা বিপিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিদিন একটি যানবাহনের বিপরীতে নির্ধারিত সীমার বেশি তেল বিক্রি করা যাবে না। তালিকাটি নিচে দেওয়া হলো:

যানবাহনের ধরনব্যবহৃত জ্বালানিদৈনিক সরবরাহের পরিমাণ (সর্বোচ্চ)
মোটরসাইকেলঅকটেন/পেট্রোল২ লিটার
প্রাইভেটকারঅকটেন/পেট্রোল১০ লিটার
এসইউভি/জিপ/মাইক্রোবাসঅকটেন/পেট্রোল২০ থেকে ২৫ লিটার
পিকআপ/লোকাল বাসডিজেল৭০ থেকে ৮০ লিটার
দূরপাল্লার বাস/ট্রাক/কাভার্ডভ্যানডিজেল২০০ থেকে ২২০ লিটার

পাসবই বা রশিদ ব্যবস্থা ও নতুন শর্তাবলী জ্বালানি তেল সংগ্রহ ও বিক্রির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে বিপিসি ৫টি গুরুত্বপূর্ণ শর্তারোপ করেছে:

১. ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নেওয়ার সময় গ্রাহককে অবশ্যই তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করা ক্রয় রশিদ প্রদান করতে হবে।

২. পরবর্তীবার তেল নিতে আসলে গ্রাহককে পূর্ববর্তী ক্রয়ের মূল রশিদ জমা দিতে হবে।

৩. ডিলাররা নির্ধারিত বরাদ্দ এবং নির্দেশনা অনুযায়ী রশিদ দেখে তেল সরবরাহ করবেন।

৪. ফিলিং স্টেশনগুলোকে তেলের মজুদ ও বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত সংশ্লিষ্ট ডিপোতে প্রদান করতে হবে।

৫. তেল বিপণন কোম্পানিগুলো ডিলারদের তেল সরবরাহের আগে তাদের বিক্রয় তথ্য যাচাই করবে এবং বরাদ্দের বেশি তেল দেবে না।

দাম বৃদ্ধির কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি গুজব প্রতিহত করতে বিপিসি স্পষ্ট জানিয়েছে যে, বর্তমানে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দাম নেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। দেশের সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিপিসি সাধারণ জনতা ও ডিলারদের সহযোগিতা কামনা করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *