দর দাম ২০২৬

২০২৬ সালে থ্রি-পিসের বর্তমান দাম কত? ঢাকায় পাইকারি দামে কোথায় পাওয়া যায়

দেশের নারী পোশাকের বাজারে থ্রি-পিস এখনো অন্যতম জনপ্রিয় পণ্য। বিশেষ করে অনলাইন ব্যবসা, বুটিক, ফেসবুকভিত্তিক পোশাকের দোকান এবং জেলা-উপজেলার খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারি থ্রি-পিসের চাহিদা রয়েছে। ২০২৬ সালে কাপড়ের ধরন, ডিজাইন, কাজ, দেশি-বিদেশি কালেকশন এবং অর্ডারের পরিমাণ অনুযায়ী থ্রি-পিসের দামে বেশ পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

ঢাকার পুরান ইসলামপুর এখনো থ্রি-পিস ও কাপড়ের বড় পাইকারি কেন্দ্রগুলোর একটি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির বাজার প্রতিবেদনে ইসলামপুরে দেশি-বিদেশি থ্রি-পিসের বিভিন্ন কালেকশন এবং দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকারি ক্রেতাদের উপস্থিতির কথা উঠে এসেছে।

২০২৬ সালে থ্রি-পিসের আনুমানিক দাম

বর্তমান অনলাইন বাজারতথ্য এবং ঢাকার পাইকারি বাজারের প্রকাশিত দামের ভিত্তিতে সাধারণ থ্রি-পিসের দাম মোটামুটি ৫৫০ থেকে ১,২০০ টাকা থেকে শুরু হতে দেখা যাচ্ছে। লিনেন বা জর্জেটের মতো তুলনামূলক উন্নত কাপড়ের থ্রি-পিস প্রায় ১,২০০–২,২০০ টাকা, আর ভারী এমব্রয়ডারি বা পার্টি কালেকশন প্রায় ২,০০০–৪,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

ইসলামপুরের বাজারভিত্তিক প্রতিবেদনে দেশি থ্রি-পিসের দাম ৫৯০ থেকে ৩,২০০ টাকা এবং ভারতীয় ও পাকিস্তানি থ্রি-পিসের দাম প্রায় ২,৫০০ থেকে ৬,০০০ টাকা পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। মাঝারি মানের ভারতীয় থ্রি-পিসের কিছু কালেকশন ১,২০০–২,০০০ টাকা পর্যায়েও পাওয়া যায়।

তবে এগুলোকে একক বা নির্দিষ্ট বাজারদর হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। একই ডিজাইনের পণ্যেও কাপড়ের মান, কাজ, ব্র্যান্ড, অর্ডারের পরিমাণ ও দোকানের ওপর ভিত্তি করে দাম পরিবর্তিত হতে পারে।

পাইকারিতে কম দামে কোন থ্রি-পিস পাওয়া যায়?

ব্যবসায়ীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রতি পিসের দাম নয়, বরং অর্ডারের পরিমাণ। ২০২৬ সালের একটি B2B সরবরাহকারী তথ্য অনুযায়ী, ২৫ পিস বা তার বেশি অর্ডারে কিছু থ্রি-পিসের পাইকারি দাম প্রায় ৫৫০ টাকা থেকে শুরু হচ্ছে। অর্ডারের পরিমাণ বাড়লে ইউনিটপ্রতি দাম আরও কমার সুযোগ রয়েছে।

এ কারণে ৫–১০ পিস কেনার দাম এবং ৫০–১০০ পিস কেনার দাম এক হবে না। দোকানে গিয়ে পাইকারি দর জানতে হলে কত পিস নেবেন—এ তথ্য শুরুতেই জানানো ভালো।

ঢাকায় কোথায় থ্রি-পিসের পাইকারি বাজার?

১. Islampur Cloth Market

4.2•পাইকারী বাজার•Closed

পুরান ঢাকার ইসলামপুর দেশের অন্যতম বড় পাইকারি কাপড়ের বাজার। ২০২৬ সালের বাজার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা ইসলামপুরে এসে থ্রি-পিস, শাড়ি, লেহেঙ্গা, কাপড়সহ বিভিন্ন পোশাক সংগ্রহ করছেন।

এখানে দেশি, ভারতীয় ও পাকিস্তানি ডিজাইনের বিভিন্ন ধরনের থ্রি-পিসের কালেকশন পাওয়া যায়। একই এলাকার বিভিন্ন মার্কেটে একাধিক দোকান থাকায় দাম তুলনা করার সুযোগও রয়েছে।

২. ইসলামপুর হোলসেল বাজার Islampur wholesale bazar

4.0•পাইকারি•Closed
•

ইসলামপুরের লায়ন টাওয়ার এলাকায় পাইকারি পোশাকের দোকান রয়েছে। বড় পরিমাণে কেনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দোকানের দর তুলনা করে নেওয়া যেতে পারে।

৩. Three Piece Mela

1.0•পোশাকের পাইকারী বিক্রেতা•Open
•

লায়ন টাওয়ার, ইসলামপুরে থ্রি-পিসকেন্দ্রিক পাইকারি বিক্রেতা হিসেবে তালিকাভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান। সরাসরি গিয়ে বর্তমান কালেকশন ও পাইকারি দর যাচাই করা যেতে পারে।

৪. Mayer Doya Three Piece

3.5•পোশাকের পাইকারী বিক্রেতা•Closed

ইসলামপুরের আহসান উল্লাহ রোডের আহসান মঞ্জিল সুপার মার্কেট এলাকায় থ্রি-পিসের পাইকারি বিক্রেতা হিসেবে তালিকাভুক্ত।

৫. Islampurmarket

4.6•ক্লোথস অ্যান্ড ফ্যাব্রিক পাইকারী বিক্রেতা•Closed
••

জাহাঙ্গীর টাওয়ার এলাকায় কাপড় ও ফ্যাব্রিকের পাইকারি বিক্রেতা হিসেবে তালিকাভুক্ত একটি বাজারকেন্দ্র। থ্রি-পিস ব্যবসার জন্য কাপড় বা তৈরি পণ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে এলাকাটি গুরুত্বপূর্ণ।

৬. SAFA TRADERS

4.1•পোশাকের পাইকারী বিক্রেতা•Closed
••

ইসলামপুর প্লাজার আন্ডারগ্রাউন্ড অংশে পোশাকের পাইকারি বিক্রেতা হিসেবে তালিকাভুক্ত।


গাউছিয়া ও চাঁদনী চকও গুরুত্বপূর্ণ

ঢাকার গাউছিয়া ও চাঁদনী চক এলাকাও নারীদের পোশাকের জন্য পরিচিত। ২০২৬ সালের একটি পাইকারি বাজার নির্দেশিকায় গাউছিয়ায় থ্রি-পিস, কামিজ, ওড়নাসহ বিভিন্ন নারী পোশাকের পাইকারি কেনাবেচার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষ করে যারা রেডিমেড থ্রি-পিসের পাশাপাশি নারী পোশাকের অন্যান্য আইটেমও একসঙ্গে সংগ্রহ করতে চান, তাদের জন্য এ এলাকার দোকানগুলো তুলনা করে দেখা যেতে পারে।

ব্যবসার জন্য কোন দামের থ্রি-পিস বেশি চলে?

ইসলামপুরের বাজারভিত্তিক প্রতিবেদনে ৬০০–৮০০ টাকার থ্রি-পিসের চাহিদা বেশি বলে ব্যবসায়ীদের বক্তব্য পাওয়া যায়। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব পণ্য খুচরা বাজারে প্রায় ১,১০০–১,৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা যায়।

অর্থাৎ, কম ও মাঝারি বাজেটের ক্রেতাদের লক্ষ্য করে ব্যবসা করলে ৬০০–৮০০ টাকার পাইকারি রেঞ্জের পণ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার সেগমেন্ট হতে পারে। তবে লাভের হিসাব করার সময় পরিবহন, প্যাকেজিং, দোকান/অনলাইন বিজ্ঞাপন, ডেলিভারি, রিটার্ন এবং নষ্ট বা অবিক্রীত পণ্যের খরচও ধরতে হবে।

পাইকারি কেনার সময় যেসব বিষয় যাচাই করবেন

থ্রি-পিসের ব্যবসায় শুধু কম দাম পেলেই হবে না। একই দামের দুইটি থ্রি-পিসের কাপড়ের মান ও ডিজাইনে বড় পার্থক্য থাকতে পারে। তাই—

  • কাপড়ের ধরন ও মান পরীক্ষা করুন;
  • কামিজ, সালোয়ার ও ওড়নার মাপ মিলিয়ে দেখুন;
  • রং ছাড়ে কি না জেনে নিন;
  • এমব্রয়ডারি/প্রিন্টের মান পরীক্ষা করুন;
  • একই ডিজাইনের কতটি পিস পাওয়া যাবে জেনে নিন;
  • বান্ডেল নিলে ভেতরে কী কী সাইজ/রং আছে তা দেখুন;
  • ২৫, ৫০ বা ১০০ পিস নিলে আলাদা পাইকারি দর চেয়ে দেখুন;
  • বিল/চালান নেওয়ার চেষ্টা করুন;
  • বিদেশি ব্র্যান্ডের নামে বিক্রি করা পণ্যের ক্ষেত্রে ব্র্যান্ডের সত্যতা যাচাই করুন।

ইসলামপুর কেন ব্যবসায়ীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ?

২০২৬ সালের বাজার প্রতিবেদনে ইসলামপুরে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীদের নিয়মিত আসার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বাজারটিতে থ্রি-পিসের পাশাপাশি শাড়ি, লেহেঙ্গা, পাঞ্জাবি, শিশুদের পোশাক এবং বিভিন্ন ধরনের কাপড় পাওয়া যায়। ফলে একজন ব্যবসায়ী এক জায়গা থেকেই একাধিক ক্যাটাগরির পণ্য সংগ্রহ করতে পারেন।

তবে ইসলামপুরে যাওয়ার আগে বাজারের কয়েকটি দোকানে একই পণ্যের দর যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ “পাইকারি দাম” কোনো একক নির্ধারিত দাম নয়—পরিমাণ, ডিজাইন, কাপড় ও মানের ওপর ভিত্তি করে দর পরিবর্তিত হয়।

সারসংক্ষেপ

২০২৬ সালে সাধারণ থ্রি-পিসের বাজারে প্রায় ৫৫০–১,২০০ টাকা রেঞ্জ থেকে বিভিন্ন পণ্য পাওয়া যাচ্ছে; উন্নত কাপড় ও কাজের ক্ষেত্রে দাম ২,০০০–৪,০০০ টাকা বা তার বেশি হতে পারে। ইসলামপুরে দেশি থ্রি-পিসের প্রকাশিত বাজারদর প্রায় ৫৯০–৩,২০০ টাকা, আর কিছু ভারতীয় ও পাকিস্তানি কালেকশন ২,৫০০–৬,০০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে।

কম দামে ব্যবসার জন্য থ্রি-পিস কিনতে চাইলে ঢাকার ইসলামপুরকে প্রথমে বিবেচনায় রেখে একাধিক দোকানের দর তুলনা করা যেতে পারে। আর বড় অর্ডারের ক্ষেত্রে সরাসরি B2B/কারখানা-ভিত্তিক সরবরাহকারীর কাছ থেকেও কোটেশন নেওয়া যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *