সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৫ এর সুপারিশ জমা দিয়েছে জাতীয় বেতন কমিশন। এতে বেতন বৈষম্য কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১,৬০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন এই স্কেলে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন।
সূচীপত্র
বেতন কাঠামোর প্রধান পরিবর্তনসমূহ
প্রস্তাবিত বেতন স্কেলে ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। ২০১৫ সালের বর্তমান স্কেলের তুলনায় প্রতিটি গ্রেডেই উল্লেখযোগ্য বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। নিচে প্রধান কয়েকটি গ্রেডের তুলনা তুলে ধরা হলো:
| গ্রেড | বর্তমান মূল বেতন (২০১৫) | প্রস্তাবিত নতুন মূল বেতন (২০২৫) |
| ১ম | ৭৮,০০০/- (নির্ধারিত) | ১,৬০,০০০/- (নির্ধারিত) |
| ২য় | ৬৬,০০০ – ৭৬,৪৯০/- | ১,৩২,০০০ – ১,৫৩,০০০/- |
| ১০ম | ১৬,০০০ – ৩৮,৬৪০/- | ৩২,০০০ – ৭৭,৩০০/- |
| ২০তম | ৮,২৫০ – ২০,০১০/- | ২০,০০০ – ৪৮,৪০০/- |
বৈষম্য হ্রাসে ১:৮ অনুপাত
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৯৭৩ সালের প্রথম বেতন কমিশনে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ছিল ১:১৫.৪। ২০১৫ সালে তা ছিল ১:৯.৪। এবার জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এ এই ব্যবধান আরও কমিয়ে ১:৮-এ নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে, যা সামাজিক সমতা বিধানে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা
নতুন প্রস্তাবে শুধু মূল বেতন নয়, বরং বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য ভাতার ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
২০তম গ্রেডের সুবিধা: বর্তমানে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় একজন ২০তম গ্রেডের কর্মচারী সব মিলিয়ে ১৬,৯৫০ টাকা পান। নতুন স্কেল কার্যকর হলে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৪১,৯০৮ টাকায়।
বিশেষ সুবিধা সমন্বয়: বর্তমানে প্রচলিত ১০ শতাংশ এবং ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা নতুন বেতন স্কেল কার্যকরের তারিখ থেকে সমন্বয় করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ভাতা বন্টনে সমতা: নিম্ন গ্রেডের (১০ম-২০তম) কর্মচারীরা যাতায়াত, টিফিন ও ধোলাই ভাতার মতো সুবিধাগুলো পাবেন। তবে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে গাড়ি সেবা নগদায়নের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উচ্চ গ্রেডের (১ম-৯ম) ভাতা বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম রাখা হয়েছে।
কার্যকরের সম্ভাবনা
কমিশন তাদের পর্যালোচনায় সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও সম্পদ সঞ্চালনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছে। এই নতুন স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা করা সহজ হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

