নতুন আইফোনের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় বাংলাদেশে ব্যবহৃত বা সেকেন্ড হ্যান্ড আইফোনের বাজার দিন দিন বড় হচ্ছে। বিশেষ করে ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকার বাজেটে ভালো ক্যামেরা, শক্তিশালী প্রসেসর এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারের উপযোগী একটি আইফোন কিনতে চান অনেক ক্রেতা। তবে পুরোনো আইফোন কেনার ক্ষেত্রে শুধু মডেল দেখে সিদ্ধান্ত নিলে চলবে না। ফোনের কন্ডিশন, ব্যাটারি হেলথ, ডিসপ্লে, ক্যামেরা, ফেস আইডি এবং কোনো যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করতে হবে।
২০২৬ সালের ব্যবহৃত স্মার্টফোনের বাজার বিবেচনায় ৩০ হাজার টাকার আশপাশের বাজেটে iPhone 11 Pro এবং iPhone 12 সবচেয়ে আকর্ষণীয় দুটি বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আর যাদের বাজেট আরও কিছুটা কম, তাদের জন্য ভালো কন্ডিশনের iPhone 11 হতে পারে সাশ্রয়ী পছন্দ।
iPhone 11 Pro: ক্যামেরাপ্রেমীদের জন্য আকর্ষণীয় বিকল্প
৩০ হাজার টাকার আশপাশে ব্যবহৃত আইফোন কিনতে চাইলে প্রথম দিকের পছন্দ হতে পারে iPhone 11 Pro। ফোনটির দাম কন্ডিশন, স্টোরেজ, ব্যাটারি হেলথ এবং যন্ত্রাংশ পরিবর্তনের ইতিহাসের ওপর নির্ভর করে সাধারণত প্রায় ২৮ হাজার থেকে ৩৪ হাজার টাকার মধ্যে দেখা যেতে পারে।
iPhone 11 Pro-এর সবচেয়ে বড় সুবিধা এর ট্রিপল ক্যামেরা সেটআপ। এতে ওয়াইড, আল্ট্রা ওয়াইড এবং টেলিফটো ক্যামেরা রয়েছে। ফলে সাধারণ ছবি তোলার পাশাপাশি পোর্ট্রেট, জুম এবং বিভিন্ন ধরনের ভিডিও ধারণে তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাওয়া যায়।
ফোনটিতে A13 Bionic চিপ ব্যবহৃত হয়েছে, যা দৈনন্দিন ব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ছবি ও ভিডিও সম্পাদনা এবং অধিকাংশ অ্যাপ ব্যবহারের জন্য এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী।
এ ছাড়া এর OLED ডিসপ্লে উন্নত মানের হওয়ায় ভিডিও দেখা এবং মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও ভালো। যারা তুলনামূলক ছোট আকারের ফোন পছন্দ করেন এবং ক্যামেরাকে বেশি গুরুত্ব দেন, তাদের জন্য ভালো কন্ডিশনের iPhone 11 Pro একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে।
তবে মডেলটি তুলনামূলক পুরোনো হওয়ায় কেনার আগে ব্যাটারি, ডিসপ্লে এবং ফোনটি আগে মেরামত করা হয়েছে কি না তা বিশেষভাবে পরীক্ষা করা জরুরি।
iPhone 12: দীর্ঘদিন ব্যবহারের জন্য এগিয়ে থাকতে পারে
৩০ হাজার টাকার বাজেটে আরেকটি জনপ্রিয় বিকল্প iPhone 12। ব্যবহৃত বাজারে ফোনটির দাম কন্ডিশন, স্টোরেজ এবং ব্যাটারি হেলথ অনুযায়ী প্রায় ২৮ হাজার থেকে ৩২ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যেতে পারে।
iPhone 12-এ রয়েছে A14 Bionic চিপ। iPhone 11 সিরিজের তুলনায় এটি নতুন প্রজন্মের প্রসেসর। ফলে পারফরম্যান্স, শক্তি ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যতে সফটওয়্যার ব্যবহারের দিক থেকে iPhone 12 তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
ফোনটিতে OLED ডিসপ্লে এবং 5G নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। ডিজাইনেও এটি iPhone 11 সিরিজের তুলনায় আধুনিক।
যারা একটি ব্যবহৃত আইফোন কিনে আরও কয়েক বছর ব্যবহার করতে চান, নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেটকে গুরুত্ব দেন এবং তুলনামূলক নতুন হার্ডওয়্যার চান, তাদের জন্য iPhone 12 বেশি যৌক্তিক পছন্দ হতে পারে।
তবে iPhone 12-এর বেস মডেলে টেলিফটো ক্যামেরা নেই। ফলে ক্যামেরার বহুমুখিতা বিবেচনায় iPhone 11 Pro কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকতে পারে।
iPhone 11: কম বাজেটে ভালো আইফোন
যাদের বাজেট ৩০ হাজার টাকার নিচে এবং কিছু টাকা সাশ্রয় করতে চান, তারা ভালো কন্ডিশনের iPhone 11 বিবেচনা করতে পারেন।
ব্যবহৃত বাজারে ফোনটির দাম প্রায় ২২ হাজার থেকে ২৬ হাজার টাকার মধ্যে দেখা যেতে পারে। তবে স্টোরেজ, ব্যাটারি হেলথ এবং ফোনের সামগ্রিক অবস্থার কারণে দাম কম-বেশি হতে পারে।
iPhone 11-এ A13 Bionic প্রসেসর এবং ডুয়াল ক্যামেরা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ, অনলাইন ভিডিও দেখা এবং সাধারণ গেমিংসহ দৈনন্দিন কাজের জন্য ফোনটি এখনও কার্যকর।
তবে এতে OLED-এর পরিবর্তে LCD ডিসপ্লে রয়েছে এবং 5G সুবিধা নেই। ভবিষ্যতে দীর্ঘদিন ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকলে iPhone 12 তুলনামূলক ভালো বিনিয়োগ হতে পারে।
iPhone 11 Pro নাকি iPhone 12—কোনটি কিনবেন?
মূলত ক্রেতার ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
যারা ভালো ক্যামেরা, টেলিফটো লেন্স, প্রিমিয়াম নির্মাণমান এবং তুলনামূলক ছোট ফোন চান, তারা ভালো কন্ডিশনের iPhone 11 Pro কিনতে পারেন।
অন্যদিকে যারা নতুন প্রজন্মের প্রসেসর, 5G সুবিধা, আধুনিক ডিজাইন এবং তুলনামূলক দীর্ঘ সময় সফটওয়্যার ব্যবহারের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেন, তাদের জন্য iPhone 12 বেশি উপযোগী।
আর বাজেট যদি ২৫ হাজার টাকার আশপাশে হয়, তাহলে খুব ভালো কন্ডিশনের iPhone 11 কেনাও একটি সাশ্রয়ী সিদ্ধান্ত হতে পারে।
সেকেন্ড হ্যান্ড আইফোন কেনার আগে যে বিষয়গুলো অবশ্যই পরীক্ষা করবেন
ব্যবহৃত আইফোন কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ফোনের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা। শুধু বাহ্যিকভাবে ফোনটি দেখতে সুন্দর হলেই সেটি ভালো ফোন—এমন ধারণা করা ঠিক নয়।
প্রথমে Settings থেকে Battery Health পরীক্ষা করতে হবে। ব্যাটারির Maximum Capacity অত্যন্ত কম হলে অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাটারি পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।
Face ID সঠিকভাবে কাজ করছে কি না পরীক্ষা করতে হবে। Face ID নষ্ট থাকা ফোন কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
True Tone অপশন রয়েছে কি না দেখুন। ডিসপ্লে পরিবর্তন বা মেরামতের ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে এটি একটি প্রাথমিক যাচাই হতে পারে। তবে শুধু True Tone দেখে ডিসপ্লে আসল কি না নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
Settings-এর Parts and Service History বিভাগ পাওয়া গেলে সেটিও পরীক্ষা করা উচিত। সেখানে ব্যাটারি, ডিসপ্লে বা ক্যামেরা পরিবর্তনের তথ্য থাকতে পারে।
ক্যামেরার সব লেন্স, ভিডিও রেকর্ডিং, মাইক্রোফোন, স্পিকার, চার্জিং পোর্ট, Wi-Fi, Bluetooth, মোবাইল নেটওয়ার্ক, সিম, ভাইব্রেশন এবং সব বাটন পরীক্ষা করতে হবে।
ফোনে Activation Lock রয়েছে কি না এবং আগের মালিকের Apple Account সম্পূর্ণভাবে Sign Out করা হয়েছে কি না নিশ্চিত হতে হবে। ফোন রিসেট করার পর নিজের Apple Account দিয়ে সেটআপ করা সম্ভব হচ্ছে কি না যাচাই করে তারপর টাকা পরিশোধ করা নিরাপদ।
এ ছাড়া IMEI নম্বর মিলিয়ে দেখা এবং ফোনটি হারানো বা চুরি হওয়া ডিভাইস কি না যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ।
৩০ হাজার টাকার বাজেটে কোনটি সেরা?
সব দিক বিবেচনায় ২০২৬ সালে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে ব্যবহৃত আইফোন কেনার ক্ষেত্রে ভালো কন্ডিশনের iPhone 12 সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পছন্দ হতে পারে। তুলনামূলক নতুন প্রসেসর, OLED ডিসপ্লে, 5G সুবিধা এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারের সম্ভাবনার কারণে এটি অধিকাংশ ক্রেতার জন্য উপযোগী।
তবে ক্যামেরা এবং বিশেষ করে টেলিফটো লেন্সকে বেশি গুরুত্ব দিলে iPhone 11 Pro এখনও আকর্ষণীয় বিকল্প।
আর যারা কম খরচে আইফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা নিতে চান, তারা ভালো ব্যাটারি হেলথ এবং যন্ত্রাংশ পরিবর্তন না করা একটি iPhone 11 বেছে নিতে পারেন।
সবশেষে মনে রাখা প্রয়োজন, ব্যবহৃত আইফোন কেনার ক্ষেত্রে মডেলের চেয়ে ফোনটির প্রকৃত কন্ডিশন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কম দামে ত্রুটিপূর্ণ বা একাধিক যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করা ফোন কেনার পরিবর্তে কিছুটা বেশি দাম দিয়ে ভালো কন্ডিশনের ডিভাইস কেনাই দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক সিদ্ধান্ত হতে পারে।
