বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) ‘নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮’-এ গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন এনেছে। গত ১৪ নভেম্বর ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে (৩০ কার্তিক ১৪২০ বঙ্গাব্দ) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের (এস, আর, ও নং ৩৫০-আইন/২০১৩) মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভোটারদের জন্য ব্যালটে থাকা ‘উপরের কাহাকেও নহে’ (None of the Above) বিকল্পটি বাতিল করা হয়েছে।
Representation of the People Order, 1972-এর Article 94-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নির্বাচন কমিশন এই সংশোধন করে।
মূল সংশোধনীসমূহ:
১. ‘উপরের কাহাকেও নহে’ (NOTA) বিকল্প বাতিল: সংশোধনীতে ‘নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮’-এর একাধিক বিধি থেকে ‘উপরের কাহাকেও নহে’ সংক্রান্ত সকল প্রকার উল্লেখ ও বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
প্রতীক তালিকা থেকে বিলুপ্তি: বিধি ৯-এর উপ-বিধি (১) থেকে ‘১৪১ নং ক্রমিকে উল্লিখিত ক্রস (x) এ চিহ্ন’ এবং ক্রমিক নং ১৪১ ও এটির এন্ট্রি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
ব্যালট পেপার থেকে বিলুপ্তি: বিধি ১০-এর উপ-বিধি (৩) এবং বিধি ১৭-এর উপ-বিধি (১) থেকে ‘উপরের কাহাকেও নহে’ এর বিপরীতে ভোট প্রদানের ব্যবস্থা ও এর সংশ্লিষ্ট শব্দগুলি বাতিল করা হয়েছে।
গণনা প্রক্রিয়া থেকে বিলুপ্তি: ভোট গণনা সংক্রান্ত বিধি ১৮-এর উপ-বিধি (২), বিধি ২৩-এর উপ-বিধি (২) ও (৪), এবং বিধি ২৬-এর উপ-বিধি (৫), (৬) ও (৯)-এ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ভোট গণনার ক্ষেত্রে ‘উপরের কাহাকেও নহে’ সংক্রান্ত সকল ধারা বিলুপ্ত বা প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে। এর ফলে শুধুমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে প্রদত্ত বৈধ ভোট গণনা করা হবে।
২. প্রার্থীর অর্থ ও প্রচারের বিধিতে পরিবর্তন: বিধি ৫-এর উপ-বিধি (১)-এ ‘কোন প্রার্থী’ শব্দগুলির পর ‘বা কোন ব্যাংক’ শব্দগুলি সন্নিবেশিত হয়েছে। এছাড়া, একই বিধিমালার উপ-বিধি (৪)-এ ‘পাঁচটি’ শব্দের পরিবর্তে ‘সাতটি’ শব্দ প্রতিস্থাপিত হবে। (এই সংশোধনীর পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা প্রজ্ঞাপনে নেই, তবে এটি সম্ভবত নির্বাচনী কার্যক্রমে প্রার্থী ও ব্যাংকের সম্পৃক্ততা এবং প্রচারের জন্য অনুমোদিত কার্যালয় বা গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত)।
৩. প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের (ফরম ১) সংশোধন: বিধিমালায় তফসিলের ‘ফরম ১’ (প্রার্থীর মনোনয়নপত্র)-কে নতুনভাবে প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে। নতুন ফরমে মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকারী ও প্রার্থীর বিস্তারিত তথ্য, সংবিধানের ৬৬(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতার ঘোষণা, এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ১২(৩৩) অনুযায়ী দলিলাদি সংযুক্তির ঘোষণা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জামানত হিসেবে জমাকৃত ব্যাংক ড্রাফট/পে-অর্ডার/ট্রেজারী চালানের রশিদও বিধি ৪(২) অনুযায়ী দাখিল করতে হবে।
আসন্ন নির্বাচনে না ভোট থাকছে না?
আসন্ন নির্বাচনে ‘না ভোট’ (None of the Above – NOTA) থাকছে না।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক ২০০৮ সালে ‘নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা’-তে ‘উপরের কাহাকেও নহে’ (না ভোট) বিকল্পটি চালু করা হয়েছিল।
তবে, আপনার দেওয়া ফাইল এবং সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী:
বিলুপ্তি: নির্বাচন কমিশন ২০১৩ সালের নভেম্বরে (এস, আর, ও নং ৩৫০-আইন/২০১৩ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে) ‘নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮’-এ সংশোধন এনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের জন্য ব্যালটে থাকা ‘উপরের কাহাকেও নহে’ বা ‘না ভোট’ বিকল্পটি বাতিল করে দিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি: এই বিলুপ্তির পর থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপার বা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ‘না ভোট’ বা ‘উপরের কাহাকেও নহে’ (NOTA) অপশনটি আর নেই।
অতএব, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটদানের ক্ষেত্রে প্রার্থীর তালিকায় ‘না ভোট’ দেওয়ার কোনো আইনি বিধান বর্তমানে নেই।

