ভূমি ব্যবস্থাপনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে ‘রেজিস্ট্রেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে। গত ১ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এই ঐতিহাসিক অধ্যাদেশটি জারি করেন। নতুন এই সংশোধনী অনুযায়ী, এখন থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি বিক্রয়, হেবা বা দান করার ক্ষেত্রে নিজ নামে নামজারি (Mutation) থাকার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে।
প্রধান পরিবর্তনসমূহ:
নামজারি ছাড়াই রেজিস্ট্রেশন: পূর্বে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমি হস্তান্তরের আগে নিজের নামে নামজারি করা বাধ্যতামূলক ছিল। নতুন নিয়মে নামজারি ছাড়াই এসব দলিল রেজিস্ট্রি করা যাবে। তবে দলিল রেজিস্ট্রির সময় ওয়ারিশ সনদ এবং জমির মূল কাগজপত্র অবশ্যই দাখিল করতে হবে।
কর ও ফি প্রদান: রেজিস্ট্রির সময় ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া সকল প্রকার ফি, ট্যাক্স ও সার্ভিস চার্জ দলিল উপস্থাপনের সময়ই পরিশোধ করতে হবে।
বায়না দলিলের সময়সীমা বৃদ্ধি: বায়না দলিলের সময়সীমা ৩০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৬০ দিন করা হয়েছে (ধারা ১৭এ)।
বিদেশে সম্পাদিত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি: বিদেশে সম্পাদিত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাংলাদেশে দাখিলের সময়সীমা ৪ মাস থেকে বাড়িয়ে ৬ মাস করা হয়েছে।
ই-রেজিস্ট্রেশন: আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ডিজিটাল বা ই-রেজিস্ট্রেশনকে আইনি বৈধতা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে সরকারি অনুমোদিত সফটওয়্যারের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে দলিল উপস্থাপন ও রেজিস্ট্রেশন করা যাবে।
কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা:
নতুন আইনে সাব-রেজিস্ট্রারদের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। যদি কোনো কর্মকর্তা ভুল ফি গ্রহণ করেন, তবে সেটি তার ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে এবং উক্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকে আদায় করা হবে (ধারা ৬৮)। এ ছাড়া আপিল নিষ্পত্তির জন্য ৪৫ দিন এবং আবেদন নিষ্পত্তির জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
এই সংশোধনীর ফলে জমি কেনাবেচায় দীর্ঘসূত্রতা কমবে এবং সাধারণ মানুষ হয়রানি থেকে মুক্তি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

