জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি (NID) বর্তমান সময়ে প্রতিটি নাগরিকের জন্য অপরিহার্য। সাধারণত নতুন ভোটার হওয়ার পর একটি নিবন্ধন স্লিপ দেওয়া হয়, যা দিয়ে পরবর্তীতে অনলাইন থেকে কার্ড ডাউনলোড করা যায়। কিন্তু অনেক সময় অসাবধানতাবশত এই স্লিপটি হারিয়ে যায়। স্লিপ হারিয়ে গেলে অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়েন যে কীভাবে কার্ডটি সংগ্রহ করবেন।
স্লিপ নম্বর ছাড়াও বিশেষ প্রক্রিয়ায় আপনি আপনার এনআইডি নম্বর এবং কার্ড সংগ্রহ করতে পারেন। নিচে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ (ভোটার তালিকা থেকে)
স্লিপ নম্বর না থাকলে আপনার প্রথম কাজ হলো স্থানীয় নির্বাচন অফিস বা ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা কার্যালয়ে যোগাযোগ করা। সেখানে সংরক্ষিত ভোটার তালিকা (Voter List) থেকে আপনি নিচের তথ্যগুলো সংগ্রহ করুন:
আপনার ভোটার নম্বর।
ভোটার এলাকা।
ভোটার তালিকার ক্রমিক নম্বর।
২. কৌশলগত পদ্ধতি: সহ-নিবন্ধনকারীর তথ্য ব্যবহার
আপনি যখন ভোটার নিবন্ধন করেছিলেন, তখন আপনার সাথে আরও অনেকে নিবন্ধন করেছেন (যেমন আপনার বন্ধু বা প্রতিবেশী)। যদি তাদের কারও কাছে স্লিপ নম্বর বা এনআইডি নম্বর থাকে, তবে সেটি ব্যবহার করে আপনি নিজের নম্বরটি অনুমান করতে পারেন।
ধাপসমূহ:
প্রথমে বাংলাদেশ এনআইডি পোর্টালের (https://services.nidw.gov.bd) ‘ভোটার তথ্য’ সেকশনে যান।
আপনার সেই পরিচিত ব্যক্তির স্লিপ নম্বর বা এনআইডি নম্বর এবং তার জন্মতারিখ দিয়ে ক্যাপচা পূরণ করে সার্চ করুন।
সেখান থেকে তার এনআইডি নম্বরটি নিশ্চিত হোন।
গাণিতিক হিসাব (সিরিয়াল মেলালে): যদি আপনার পরিচিত ব্যক্তির ভোটার তালিকার ক্রমিক নম্বর ১১৬৩ হয় এবং তার এনআইডি নম্বর ১০৫ দিয়ে শেষ হয়; আর আপনার ক্রমিক নম্বর যদি ১১৬৮ হয় (অর্থাৎ ৫ সিরিয়াল বেশি), তবে আপনার এনআইডি নম্বরের শেষ অংশটি সাধারণত ১০৫ + ৫ = ১১০ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এভাবে দুই-এক সংখ্যা কম-বেশি করে সার্চ করলে আপনার এনআইডি নম্বরটি স্ক্রিনে ভেসে উঠবে।
৩. এনআইডি নম্বর পাওয়ার পর অনলাইন রেজিস্ট্রেশন
একবার এনআইডি নম্বর পেয়ে গেলে আপনি সহজেই পূর্ণাঙ্গ কার্ডটি ডাউনলোড করতে পারবেন। এর জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
রেজিস্ট্রেশন: এনআইডি ওয়েবসাইটের ‘রেজিস্ট্রার’ মেনুতে গিয়ে ‘রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণ করতে চাই’ লিঙ্কে ক্লিক করুন।
তথ্য প্রদান: আপনার প্রাপ্ত এনআইডি নম্বর, সঠিক জন্মতারিখ এবং বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা প্রদান করুন।
মোবাইল ভেরিফিকেশন: একটি সচল মোবাইল নম্বর দিন এবং প্রাপ্ত ওটিপি (OTP) কোডটি ইনপুট করুন।
ফেস ভেরিফিকেশন: ‘NID Wallet’ অ্যাপটি ফোনে ডাউনলোড করে আপনার মুখমণ্ডলের স্ক্যান বা ফেস ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন।
পাসওয়ার্ড সেট: ভবিষ্যতে লগইন করার জন্য একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড সেট করুন।
সব ধাপ সফলভাবে শেষ হলে আপনি আপনার প্রোফাইলে প্রবেশ করতে পারবেন এবং সেখান থেকে ‘ডাউনলোড’ অপশনে ক্লিক করে আপনার স্মার্ট এনআইডি কার্ডের অনলাইন কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।
সতর্কতা ও পরামর্শ
যদি অনলাইনে কোনোভাবেই তথ্য না পাওয়া যায়, তবে নিকটস্থ উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে লিখিত আবেদন করে বা বায়োমেট্রিক (আঙ্গুলের ছাপ) দিয়ে এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করা সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
অনলাইনে তথ্য খোঁজার সময় সঠিক জন্ম তারিখ এবং ক্যাপচা কোডটি নির্ভুলভাবে দিন।
