খাস জমি বা সরকারি জমি ক্রয় করা যায় না-দীর্ঘদিন বসবাস বা ব্যবহারের জন্য অনুমতি বা বন্দোবস্ত নেয়া যায় – খাস জমি কেনার নিয়ম

কোন জমি খাস জমি? কোনো জমি যদি সরকারের হাতে ন্যস্ত হয় এবং সেই জমিগুলি যদি সম্পূর্ণ সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং সরকার,এই জমিগুলি সরকার কর্তৃক প্রণীত পদ্ধতি অনুযায়ী বন্দোবস্ত দিতে পারেন অথবা অন্য কোনো ভাবে ব্যবহার করতে পারেন তাহলে উক্ত ভূমিগুলিকে খাস জমি বলে। ১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনান্সি এক্টের ৭৬ ধারার ১ উপধারায় খাস জমি সম্বন্ধে বলা হয়েছে। উক্ত ধারায় বলা হয়েছে যে,কোনো ভূমি যদি সরকারের হাতে ন্যস্ত হয় এবং সেই জমিগুলি যদি সম্পূর্ণ সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকে তাহলে সরকার,এই ভূমিগুলি সরকার কর্তৃক প্রণীত পদ্ধতি অনুযায়ী বন্দোবস্ত দিতে পারেন,অথবা অন্য কোনো ভাবে ব্যবহার করতে পারেন, সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন উপরোক্ত ভূমিগুলিকে খাস জমি হিসাবে বুঝাবে। তবে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের যথা বন বা পূর্ত কিংবা সড়ক ও জনপথ এর স্বত্বাধীন বা মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন ভূমিকে সরকারের খাস জমি হিসাবে গন্য করা যাবে না।

খাস জমি ব্যবহার করার উপায় কি? জেলা প্রশাসক যুগল ছবি(স্বামী ও স্ত্রী একসাথে তোলা ছবি) গ্রহনের জন্য জেলাধীন সকল উপজেলার মৌজাওয়ারী দরখাস্ত আহবানের জন্য একটি সময়সূচী নির্ধারণ করে দেবেন ৷ দরখাস্ত জমা দেওয়ার জন্য কমপক্ষে এক মাস সর্বোচ্চ দুই মাস সময় দিতে হবে ৷ প্রতিটি দরখাস্তের সাথে পরিবার প্রধান (স্বামী স্ত্রী)-এর তিন কপি ফটো দিতে হবে ৷ জেলা প্রশাসকের নির্দেশে জেলা তথ্য অফিসার জেলার বড় বড় হাট/বাজারে লোক সমাগমের দিনে ব্যাপকভাবে মাইকযোগে প্রচারের ব্যবস্থা করবে ৷ উপজেলার সকল বাজারের ইজারাদার এবং ইউনিয়নের দফাদার, মহাল্লাদারগণের দ্বারা বিজ্ঞপ্তিটি ঢোল শহরতের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে এবং তাহাদের নিকট থেকে তামিল রিপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে ৷

উপজেলার সকল অফিস, রাজস্ব অফিস, থানা, ইউনিয়ন, তহশীল ইত্যাদি সকল অফিসের নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি টানাতে হবে৷ বিভিন্ন সভা সমিতিতে এ সম্পর্কে জানাতে হবে ৷ উপজেলার মাসিক সভায় আলোচনার জন্য এই প্রচার কার্যক্রমকে আলোচ্য সূচীভূক্ত করতে হবে ৷ দরখাস্ত একটি নির্ধারিত ফরমে করতে হবে৷ উপজেলা থেকে মুদ্রণ করে এই ফরম বিলি করতে হবে৷ মুদ্রণ ব্যয় বাবদ উপজেলা পরিষদ ইচ্ছে করলে প্রতিটি ফরমের জন্য ১.০০ (এক টাকা) হারে মুল্য আদায় করতে পারেন৷ সকল তথ্য সম্বলিত হাতে লেখা দরখাস্তও গ্রহণ করা হবে ৷ উপজেলার সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও ছাত্রদের উপজেলা পরিষদ থেকে পত্র দিয়ে দরখাস্ত সমূহ পূরণে ভূমিহীনদের সহায়তা করার জন্য অনুরোধ জানাতে হবে৷ ইহা প্রচারনার একটি অংশ হিসাবেও বিবেচিত হবে ৷

ইজারা বা বন্দোবস্ত কবুলিয়ত রেজিস্ট্রেশন কি? উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেলা প্রশাসকের সাথে আলাপ করে কখন, কোথায়, কিভাবে বন্দোবস্তি প্রাপ্ত ভূমিহীন দম্পত্তিকে উপস্থিত করে কবুলিয়ত সম্পাদন করা হবে তা স্থির করবেন এবং জেলা প্রশাসকের নির্দেশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন ৷।সরকারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক সম্পাদিত কবুলিয়ত গ্রহণ করবেন এবং নির্বাচিত জমি বন্দোবস্ত দেবেন৷ তিনি কবুলিয়ত ফরমের নির্ধারিত স্থানে স্বাক্ষর দান করবেন ৷ বন্দোবস্ত দেওয়া জমি কোনক্রমেই বিক্রয় বা হস্তান্তর করা যাবে না তবে উত্তরাধিকারীদের নাম পরিবরর্তন করা যাবে ৷ এই বন্দোবস্তের মেয়াদ হবে ৯৯ বছর। জেলা প্রশাসক কর্তৃক কবুলিয়ত গ্রহণের পরে সংশ্লষ্ট রেজিষ্ট্রি অফিসে উহা রেজিষ্ট্রি করতে হবে ৷ এই কবুলিয়ত রেজিস্ট্রেশনের জন্য কোন রেজিষ্ট্রেশন ফিস এর প্রয়োজন হবে না ৷ ভূমিহীনদের কাছে বন্দোবস্ত দেওয়া জমি ও পরিবারের একটি বিবরণী উপজেলা রাজস্ব কর্মকর্তা কর্তৃক সংশ্লিষ্ট সাব- রেজিষ্ট্রি অফিসে পাঠাতে হবে

কোন জমি ক্রয় হতে দূরে থাকবেন? যে ধরণের জমি কিনতে যাবেন না

বন্দোবস্তের সিদ্ধান্ত পরবতী কার্যক্রম জেলা প্রশাসক কর্তৃক মামলাটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরে উহা সংশ্লিষ্ট উপজেলায় ফেরত পাঠাতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ভূমিহীনকে অনুলিপি যোগে তার পরবতী করণীয় সম্পর্কে জানিয়ে দিতে হবে ৷ ভূমিহীন পরিবার প্রধান ঐ অবগতি পত্র পেয়ে প্রতি একর বা তার অংশের জন্য ১.০০(এক টাকা) হারে সেলামী ও চলতি বত্সরের খাজনা ডি,সি,আরের মাধ্যমে তহশীল অফিসে জমা দিয়ে রশিদ সংগ্রহ করবে ৷ উক্ত রশিদ এবং জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস থেকে একসেট মুদ্রিত কবুলিয়ত ফরম (সংযোজনী ৮) পূরণ করতে হবে ৷ এর একটি সেটে ৪টি কপি থাকবে ৷ মূল কপিটি কবুলিয়ত সম্পাদনকারীর জন্য, ২য় কপি থাকবে কেইস রেকর্ডের সাথে, তৃতীয় কপি থাকবে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে, ৪র্থ কপি থাকবে রেজিষ্ট্রি অফিসে ৷ এই কবুলিয়ত ফরম জেলা প্রশাসক মুদ্রণ করে দেবেন ৷ সরকারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক বরাবরে এই কবুলিয়ত দিতে হবে ৷ কবুলিয়তের মূল কপিতে প্রয়োজনীয় ননজুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্প লাগাতে হবে ৷

খাস জমি কেনার নিয়ম । ভূমি অফিস হতে খাস জমি ক্রয় নাকি বন্দোবস্ত নিতে হয়?

কমিটির সিদ্ধান্তে কেউ সংক্ষুদ্ধ হলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৭ দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে শুধুমাত্র নিম্নোক্ত দুইটি কারণে আপিল করতে পারবে।  (ক) আবেদনকারীর অগ্রাধিকার লংঘন করে অন্যকে খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে ৷ (খ) আবেদনকারী একজন তালিকাভুক্ত ভূমিহীন এবং তাহার বৈধ দখলীয় আবাদী খাস জমি অপরকে বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে ৷ উল্লেখ্য যে, খাস জমির স্বত্ব বা নির্বাচিত ভূমিহীনের বৈধতা নিয়ে এই পর্যায়ে কোন আপীল করা যাবে না ৷ সংশ্লিষ্ট আপীলের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের রায়ই হবে চূড়ান্ত ৷

খাস জমি বন্দোবস্ত নিয়ম । দরখাস্ত জমা গ্রহণ ও বাছাই পদ্ধতি কি?

  1. নির্ধারিত ফরমে দরখাস্তসমূহ উপজেলা রাজস্ব কর্মকর্তা গ্রহণ করবেন ৷ গ্রহণের সাথে সাথে তিনি তারিখ ও সময় উল্লেখ করে একটি প্রাপ্তি স্বীকার রশীদ দেবেন ৷ এই রশিদের সম্ভাব্য কত তারিখে এবং কোথায় নির্বাচনের জন্য হাজির হতে হবে তা উল্লেখ করতে হবে ৷ এই রশীদ মুদ্রিত সিরিয়াল নম্বর ও দ্বিতীয় কার্বন কপি সহ বই আকারে হবে৷ জেলা প্রশাসক এই রশিদ মুদ্রণ করে দেবেন ৷
  2. দরখাস্ত দাখিলের নির্ধারিত সময় সীমার মধ্যে প্রাপ্ত দরখাস্তসমূহ বিবেচনার জন্য নির্ধারিত তারিখের পরবর্তী অফিস দিনে উপজেলা ভূমি সংস্কার কমিটি একটি প্রাথমিক সভায় বসবে ৷
  3. প্রাপ্ত দরখাস্ত সমূহকে নীতিমালার আলোকে সজ্জিতকরণ এবং সম্ভাব্য অগ্রাধিকার তালিকার একটি খসড়া এই সভায় প্রণয়ন করতে হবে৷  অসম্পূর্ণ দরখাস্ত এবং সংশ্লিষ্ট অজ্ঞাত ব্যক্তিসহ কমিটির বিবেচনার অযোগ্য ব্যক্তিদের দরখাস্ত এই সভায় বাতিল করা যাবে৷ পিতার জমি থাকলে কোন ছেলে, কর্মক্ষম পুরুষহীন কোন পরিবার, সক্ষম পুত্রহীন বিধবা যিনি নিজে ক্ষেত মজুর নন।
  4. এমন একটি ব্যক্তি ও পরিবার খাস কৃষি জমি পাওয়ার উপযুক্ত বিবেচিত হবেন না ৷ সভায় কার্যবিবরণী প্রস্তুত করতে হবে এবং নির্বাচিত এবং বাতিলকৃত আবেদনকারীদের পৃথক তালিকা প্রস্তুত করে উপস্থিত সকল সদস্যদের সম্মতি ও দস্তখত গ্রহণ করতে হবে এবং ঐ দিনই বাতিল ও গৃহীত আবেদনপত্রগুলির তালিকা নির্বাহী অফিসারের নোটিশ বোর্ডের মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে ৷
  5. কমিটির সকল সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত হওয়া বাঞ্জনীয় ৷ তবে কোন ক্ষেত্রে দ্বিমত দেখা গেলে সভাপতি বাদে উপস্থিত সকল অফিসিয়াল, নন-অফিসিয়াল সদস্যদের প্রত্যক্ষ সংখ্যাগরিষ্ট ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে৷ উভয় পক্ষে সমান সংখ্যক ভোট পড়লে নির্বাহী অফিসার নির্ণায়ক (কাস্টিং) ভোট দেবেন ৷
  6. প্রাথমিক সভার পরে ভূমিহীনদের যথার্থতা যাচাইয়ের জন্য সম্ভব হলে প্রতিটি মৌজায়, এবং তা না হলে প্রতিটি ইউনিয়নের একটি প্রকাশ্য স্থানে উপজেলা ভূমি বন্টন কমিটির একটি বিশেষ সভা হবে ৷
  7. এই সভার তারিখ নির্ধারণ এবং যাবতীয় প্রচারের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ৷ যেখানে সম্ভব সেখানে তিনি জনসংযোগ বিভাগের সহায়তা নেবেন ৷ নির্বাহী অফিসার আবশ্যিকভাবে এলাকায় সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে এই সভায় উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানাবেন ৷
  8. সভায় উপস্থিত জ্যেষ্ঠ জনপ্রতিনিধি এবং অন্যান্য জনপ্রতিনিধিকে এই সভায় যথাক্রমে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি করা যাবে৷ উপজেলা ভূমি সংস্কার কমিটির সভাপতিই এই সভায় সভাপতিত্ব করবেন ৷
  9. সভার প্রারম্ভে সরকারের ভূমি সংস্কার অভিযানের উদ্দেশ্য এবং খাস জমি বন্টনের সামাজিক সুফলাদি সম্পর্কে ব্যাখ্যা করে জনগণের সহযোগিতা কামনা করতে হবে ৷ কমিটির প্রাথমিক সভায় নির্বাচিত মৌজাওয়ারী খসড়া অগ্রাধিকার তালিকা থেকে একজন করে ভূমিহীন পরিবারের প্রধানকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তাদের প্রাপ্য যোগ্যতা ও অগ্রপ্রাপ্যতা সাব্যস্ত করতে হবে ৷ এই সভায় নির্বাহী অফিসার উপস্থিত চেয়ারম্যান,ওয়ার্ড মেম্বারদের সনাক্তির ভিত্তিতে আবেদনকারীদের দরখাস্তের সাথে প্রদত্ত ছবি সত্যায়িত করে নেবেন এবং ছবির অপর পিঠে প্রত্যয়ন স্বাক্ষর দেবেন ৷
  10. প্রত্যয়িত ছবির কপি কবুলিয়ত ফরমে এবং ১ কপি পুনর্বাসন কার্ডের সাথে যুক্ত হবে ৷ উপজেলার সর্বত্র (প্রতি ইউনিয়ন কমপক্ষে একবার) এভাবে সকল আবেদনকারীদের সরেজমিনে পরীক্ষার পর বাতিলকৃত দরখাস্তসমূহ বাদে অবশিষ্ট দরখাস্তে ক্রমিক নম্বর সমম্বয় করে চূড়ান্ত অগ্রাধিকার তালিক প্রণযন করতে হবে৷
  11. উপজেলা সদরের সকল অফিস, ইউনিয়ন, তহশীল অফিস ও থানায় অগ্রাধিকার তালিকা টানিয়ে বিরুদ্ধে কারো কোন অভিযোগ থাকলে তা পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসকের নিকট দাখিল করতে বলা হবে ৷ জেলা প্রশাসকের কাছে তালিকায় মুদ্রিত পরিবারদের ভূমিহীন হিসাবে যোগ্যতা এবং অগ্রগণ্য তালিকায় অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন করা ছাড়া তালিকা প্রস্তুতের বৈধতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না ৷
  12. এই ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত ৷ প্রকাশিত এই চূড়ান্ত তালিকায় সুস্পষ্ট ভাবে ইহা উল্লেখ করতে হবে যে, অগ্রপ্রাপ্য তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্তি কোন ক্রমেই জমি প্রদানের কোন প্রকার নিশ্চয়তা বহন করবে না ৷ জমি বন্টনের সময় অগ্রপাপ্য তালিকার সাথে ভূমিহীনদের বাসস্থান, খাস জমির অবস্থান এবং বর্তমান দখল অবস্থাও কমিটির সভায় বিবেচনা করা হবে ৷
  13. উপরোক্ত সকল পর্যায়ের জন্য জেলা প্রশাসক তার সুবিধামত সর্বশেষ সময়সীমা বেধে একটি গণ-বিজ্ঞপ্তি দেবেন৷ এজন্য
    সংযোজনী-৭ এর ছকটি ব্যবহার করা যেতে পারে ৷ ভূমিহীন নির্ণয় ও তালিকা প্রণয়নে সতর্কতা ভূমিহীনদের নির্বাচন এবং তালিকা প্রণয়নে সর্বাধিক সতর্কতা ও কঠোর নিরপেক্ষতা অবলম্বন করতে হবে ৷
  14. ভূমিহীনদের তালিকা প্রণয়নে কোন কারচুপি বা অসত্ উদ্দেশ্যের অভিযোগ পাওয়া গেলে জেলা প্রশাসক তত্ক্ষনাত্ একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে তদন্তের জন্য নিয়োগ করবেন ৷
  15. অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকগণ এই ধরনের তদন্ত কাজের জন্য নির্দেশ পাওয়ার পর সাত দিনের বেশী সময় নিবেন না ৷
  16. তদন্তে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ প্রমাণিত হলে, জেলা প্রশাসক তার সুবিবেচনা বিভাগীয় মামলা অথবা উভয় মামলা রুজু করার নির্দেশ দেবেন এবং প্রয়োজনীয় কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

খাস জমি কি ক্রয় করা যায়?

না। সরকার খাস জমি বিক্রি করে না। বরং বন্দোবস্ত বা ইজারা প্রদান করে থাকে। ভূমিহীন বাছাই প্রক্রিয়াগুলি সম্পন্ন হবার পরে প্রতিটি মৌজার প্রাপ্ত খাস কৃষি জমির একটি প্লট করা তালিকা এবং যোগ্য ভূমিহীনদের একটি অগ্রাধিকার তালিকা প্রণীত হবে ৷ উপজেলা ভূমি সংস্কার কমিটি এভাবে ভূমিহীনদের অগ্রাধিকার নাম অনুসারে প্রাপ্ত জমি ভূমিহীনদের মধ্যে বন্টনের সুপারিশ প্রণয়ন করবেন ৷ এই সুপারিশও সর্বসম্মত হওয়া বাঞ্চনীয় ৷ মত বিরোধ দেখা দিলে পূর্বে বর্ণিত কাস্টিং ভোটের প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে হবে ৷ প্রণীত ভূমিহীনদের তালিকায় চিহ্নিত কোনো ভূমিহীন বৈধভাবে যদি কোনো খাস কৃষি জমির দখলে থাকে তাহলে বরাদ্দের ব্যাপারে সেই ভূমিহীন অগ্রাধিকার পারে ৷

যে এলাকার জমি বন্দোবস্ত দেয়া হবে সেই এলাকার ভূমিহীন পরিবার অগ্রাধিকার পাবে৷ অর্থাত্ যে মৌজার জমি বন্দোবস্ত দেয়া হবে সেই মৌজার তালিকাভূক্ত ভূমিহীনদের দাবীই অগ্রগণ্য হবে ৷ জমি বরাদ্দের সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে জমি প্রাপ্ত পরিবারের প্রাপ্য জমির পরিমাণ যেন নিজ সম্পত্তিসহ সাকুল্য ২.০০ একরের বেশী না হয় ৷ যেখানে মনোনীত এনজিও এবং অন্যান্য সরকারী, আধা সরকারী এবং স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা কর্তৃক সংগঠিত ভূমিহীন সমিতি বা দল আছে, সেখানকার প্রাপ্ত খাস জমি, ভূমিহীন সমিতির সদস্যদের মধ্যে, যদি তারা অন্যান্য বিবেচনায় প্রাপ্তিযোগ্য বলে বিবেচিত হন তবে অগ্রাধিকার পাবে ৷ যদি উপরোক্ত অগ্রাধিকার রক্ষা করতে গিয়ে প্রণীত তালিকার অগ্রপ্রাপ্যতা ভঙ্গ করার প্রয়োজন দেখা দেয় তাহলে কমিটির সভায় সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে ভঙ্গ করা যাবে ৷ তবে এ ক্ষেত্রে কার্য্য বিবরণীতে বিশেষ কারণটি বিস্তারিত লিখতে হবে৷ প্রণীত অগ্রাধিকার তালিকায় মন্তব্য কলামে কার্য্য বিবরণীর অনুচ্ছেদ নম্বর লিখে রাখতে হবে ৷ নির্বাচনের দিনেই উপজেলা পরিষদ নোটিশ বোর্ডের মাধ্যমে নির্বাচিত ভূমিহীনদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং যথাসম্ভব দ্রুত সভার কার্য্য বিবরণী প্রস্তুত করে জেলা প্রশাসককে অবহিত করতে হবে।

জমির মালিকানা পরিবর্তন প্রক্রিয়া ২০২৪ । ভোগ দখলকৃত কৃষি জমি নিয়ে বিবাদ সৃষ্টি হলে করণীয় কি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *