ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন (Renew) পদ্ধতি ২০২২

আমরা দৈনন্দিন জীবনে যারা বাইক রাইড করি তাদের ক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্স অনেক গুরুত্বপুর্ন বিষয়। মোটরবাইক চালানোর ক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ।

অন্যদিকে, আমাদের যাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে তাদের সকলের একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য লাইসেন্স করা আছে। আমরা জানি যে , বাংলাদেশের সড়ক আইন অনুযায়ী মোটরসাইকেলের ড্রাইভিং লাইসেন্স এর মেয়াদ ১০ বছর হয়ে থাকে। এই ১০ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর আমাদের লাইসেন্সটি আবার নবায়ন করতে হয় যেটাকে আমরা ইংরেজিতে Driving License Re-New বলে থাকি। আজকে আমরা টিম মোটরসাইকেল ভ্যালী আপনাদের সাথে আলোচনা করবো , কীভাবে আপনারা ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করবেন?

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন না করলে কী কী সমস্যা হবে আসুন তা জানি?

আমরা জানি যে ড্রাইভিং লাইসেন্স মোটরবাইক চালানোর জন্য অত্যাবশ্যকীয় বিষয় তাই এর নবায়ন করা খুবই জরুরী। আমাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স এর মেয়াদ যদি শেষ হয়ে যায় এবং তা যদি সময়মত নবায়ন করা না হয়, তাহলে প্রতি বছরের জন্য আপনাকে ২৩০ টাকা করে হারে জরিমানা দিতে হবে।

তবে, লাইসেন্স এর মেয়াদ শেষ হওয়ার দিন থেকে পরবর্তী ১৫ দিন পর্যন্ত আপনার সুযোগ থাকবে নবায়নের জন্য। এক্ষেত্রে কোন প্রকার জরিমানা দিতে হবে না।

এবার জেনে নিই কীভাবে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর নবায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন?

ধাপ ১: ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের জন্য নিম্নোক্ত কাগজপত্র লাগবেঃ

ক. ড্রাইভিং লাইসেন্স এর ফটোকপি

খ. জাতীয় পরিচয় পত্র ( NID ) এর ফটোকপি

গ. নাগরিক সনদ পত্র ( সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যলয় থেকে সংগ্রহ করতে হবে ) ফটোকপি ও সত্যায়িত।

ঘ. পাসপোর্ট সাইজের ছবি ৪ কপি।

ঙ. আসল ড্রাইভিং লাইসেন্স কার্ড।

ব্যাংক ডিপোজিট দেওয়ার জন্য আপনাকে ড্রাইভিং লাইসেন্স এর ফটোকপি নিয়ে বিআরটিএ অফিসের নবায়ন অফিসার এর কাছ থেকে সত্যায়িত করিয়ে নিতে হবে যা ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার সময় ব্যাংক ডিপোজিট ফরম এর সাথে জমা দিতে হবে । ব্যাংক ডিপোজিট এর পরিমাণ ২৪২৭ টাকা। এই টাকা জমা দেওয়ার পর ব্যাংক রিসিপ্ট পেপার সংগ্রহ করে যত্ন সহকারে রাখতে হবে।

ধাপ ২ : এই ধাপে আপনাকে ২ ধরনের ফর্ম ফিলাপ করতে হবেঃ

  • নবায়ন ফরম ২- মেডিকেল ফরম
  • নবায়ন ফরমঃ নবায়ন ফরম পূরণের ক্ষেত্রে লক্ষ্যনীয় বিষয়গুলো হল- যদি আপনি বিবাহিত হন সেক্ষেত্রে আপনার স্ত্রী র নাম ও মোবাইল নাম্বার / স্বামীর নাম ও মোবাইল নাম্বার দিতে হবে। যদি অবিবাহিত হন সেক্ষেত্রে আপনার পিতার নাম অথবা মাতার নাম দিতে হবে। এই ফরম আপনি চাইলে অনলাইনে পূরণ করতে পারবেন।
  • মেডিকেল ফরমঃ মেডিকেল ফরম এর চেক আপ লিস্ট অনুযায়ী সকল বিষয় চেক করে ফরমটি একজন এমবিবিএস ডাক্তার দ্বারা মেডিকেল টেস্ট করিয়ে তা সত্যায়িত করিয়ে নিয়ে জমা দিতে হবে। সহজ উপায় হলো ফরমটি আপনি খোঁজ করলে বিআরটিএ এর আশেপাশে ফটোকপির দোকানগুলোতে পেয়ে যাবেন।

এই দুইটি ফরমে ১ কপি করে ছবি সত্যায়িত করে নিতে হবে। এরপরে নবায়ন ফরম ও মেডিকেল ফরম পূরণ করে জাতীয় পরিচয় পত্র , ড্রাইভিং লাইসেন্স, ব্যাংক স্লিপ, নাগরিক সনদ পত্রের Photocopy, মেডিক্যাল সার্টিফিকেট এর আসল কপি সব কিছু একত্রে করে জমা দিতে হবে।

পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর ক্ষেত্রে নবায়ন পদ্ধতি

উপরের সকল ডকুমেন্টস এর সাথে পুলিশ তদন্তের প্রতিবেদন সত্যায়িত করতে হবে। এক্ষেত্রে ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজ ও ১ কপি স্ট্যাম্প সাইজের ছবি এবং পুনরায় ব্যবহারিক পরিক্ষা দিতে হবে।

আপনার যদি উপরোক্ত সকল ডকুমেন্টস ঠিকঠাক থাকে তাহলে ঐদিন অথবা তার পর দিন আপনি একটা ডুপ্লিকেট ড্রাইভিং লাইসেন্স পাবেন। যা দিয়ে আপনি আপনার বায়োমেট্রিক এসএমএস না আসা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে মোটরসাইকেল চালাতে পারবেন।

ধাপ ৩: বায়োমেট্রিক এসএম এস আসলে বা আপনাকে কোন নির্দিষ্ট তারিখ দেওয়া থাকলে সেই তারিখ অনুযায়ী সেখানে গিয়ে আপনার ফিঙ্গার প্রিন্ট ও ছবি তুলে আসতে হবে। সেদিনই আপনি একটা কম্পিউটার কপি পাবেন।

ধাপ ৪: ফিঙ্গার প্রিন্ট ও ছবি তোলার ৩ মাস পর সেই কম্পিউটার কপি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ অফিসে যেয়ে আপনি আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন।

উপরিউক্ত ধাপগুলো অবলম্বন করার মাধ্যমে আপনি আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স খুব সহজেই নবায়ন করতে পারবেন এবং পুনরায় আপনি আপনার পছন্দের বাহন নিয়ে রাস্তায় রাইড করতে পারবেন। এই ছিলো আমাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স কীভাবে নবায়ন করতে তার প্রক্রিয়াগুলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *