মাত্র ১০০ টাকার বিনিময়ে নিরাপদ বিনিয়োগের পাশাপাশি বড় অঙ্কের পুরস্কার জয়ের সুযোগ—এ কারণেই বাংলাদেশে প্রাইজবন্ডের জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিনের। অনেকেই নিয়মিতভাবে ৫টি, ১০টি কিংবা ২০টি করে প্রাইজবন্ড কিনে থাকেন। কারও কাছে এটি সঞ্চয়ের মাধ্যম, আবার কারও কাছে এক ধরনের শখ বা নেশা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাইজবন্ডের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি বাংলাদেশ সরকারের একটি নিরাপদ বিনিয়োগ ব্যবস্থা। বন্ডের মূলধন হারানোর ঝুঁকি নেই, যেকোনো সময় নগদায়ন করা যায় এবং প্রতি ড্রতে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের পুরস্কার পাওয়ার সুযোগ থাকে।
বর্তমানে ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডে প্রতি সিরিজে প্রথম পুরস্কার ৬ লাখ টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা, তৃতীয় পুরস্কার ১ লাখ টাকা, চতুর্থ পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা এবং পঞ্চম পুরস্কার ১০ হাজার টাকা নির্ধারিত রয়েছে। বছরে চারবার ড্র অনুষ্ঠিত হয়।
তবে প্রাইজবন্ডধারীদের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যার একটি হলো নিয়মিত ফলাফল না দেখা। অনেকেই বছরের পর বছর প্রাইজবন্ড সংগ্রহে রাখলেও ড্রয়ের ফলাফল যাচাই করেন না। ফলে বিজয়ী নম্বরের মধ্যে নিজের বন্ড থাকলেও তা জানতে না পেরে পুরস্কারের অর্থ দাবি করার সুযোগ হারিয়ে ফেলেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ থেকে দুই বছরের মধ্যে পুরস্কারের দাবি করতে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি না করলে পুরস্কারের অর্থ পাওয়া যায় না।
প্রাইজবন্ডের ফলাফল যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ সরকারের অধীন বিভিন্ন অনলাইন সেবা এবং ফলাফল অনুসন্ধান ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন বেসরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও ব্যবহারকারীদের জন্য নম্বর সংরক্ষণ ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফলাফল মিলিয়ে দেখার সুবিধা দিচ্ছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রাইজবন্ডকে উচ্চ মুনাফার বিনিয়োগ হিসেবে নয়, বরং নিরাপদ সঞ্চয় ও সম্ভাব্য পুরস্কারভিত্তিক বিনিয়োগ হিসেবে দেখা উচিত। মূলধন অক্ষুণ্ন রেখে ভাগ্য পরীক্ষার সুযোগ থাকায় এখনও এটি সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় একটি আর্থিক পণ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যারা নিয়মিত প্রাইজবন্ড কিনছেন, তাদের উচিত প্রতিটি ড্রয়ের পর ফলাফল যাচাই করা এবং নিজের বন্ড নম্বরগুলো সংরক্ষণে রাখা। সামান্য অসতর্কতার কারণে বড় অঙ্কের পুরস্কার হাতছাড়া হওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক নয়।
প্রাইজবন্ড অটে চেক হবে এখানে
