আজকের খবর ২০২৬

ভূমি জরিপে জনগণের স্বস্তি: বেশিরভাগ সেবাই মিলছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, জেনে নিন নির্ধারিত সরকারি ফি

ভূমি মালিকদের হয়রানি বন্ধ এবং ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর (তেজগাঁও, ঢাকা-১২০৮) কর্তৃক প্রণীত নতুন নির্দেশিকায় ভূমি জরিপের বিভিন্ন স্তরে প্রকৃত সেবামূল্য সুনির্দিষ্টভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যাদি (নথি রেফারেন্স: 1000048346.jpg) বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জরিপ প্রক্রিয়ার সিংহভাগ মৌলিক সেবাই নাগরিকরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাচ্ছেন।

প্রাথমিক ও মাঠ পর্যায়ের সকল সেবা সম্পূর্ণ ফ্রি: সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ভূমি জরিপের প্রথম তিনটি প্রধান স্তর—কিস্তোয়ার, খানাপুরি ও বুজারত-এর আওতাধীন যাবতীয় কার্যক্রমের জন্য কোনো ফি দিতে হবে না। মাঠ পর্যায়ে সরজমিনে প্রতিটি ভূমি খণ্ড পরিমাপ ও নকশা অঙ্কন (কিস্তোয়ার) সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হচ্ছে। ‘خانাপুরি’ (খানাপুরি) স্তরে নকশায় দাগ নম্বর দেয়া এবং জমির মালিকের তথ্যাদি সংগ্রহ করে তার নামে প্রাথমিক খতিয়ান বা পর্চা প্রস্তুত করার জন্যও কোনো টাকা গুণতে হবে না। এছাড়া ‘বুজারত’ স্তরে প্রস্তুতকৃত খতিয়ান ও পর্চা ভূমি মালিকদের বুঝিয়ে দেয়া, মাঠ পর্যায়ে কোনো বিবাদ দেখা দিলে তার শুনানি এবং পুনরায় পরিমাপ (বদর) করার সুবিধাও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিশ্চিত করা হয়েছে।

তসদিক ও খসড়া প্রকাশনা স্তরের সরকারি ফি: জরিপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ‘তসদিক’ বা সত্যায়ন (বিধি ২৮)। এই স্তরে পূর্ববর্তী রেকর্ড ও মালিকানার প্রমাণাদি যাচাইয়ের মাধ্যমে খতিয়ান সত্যায়ন এবং বিবাদ শুনানি সম্পূর্ণ ফ্রি। তবে কেউ যদি কোনো নির্দিষ্ট দাগ পুনরায় পরিমাপ (বদর) করতে চান, তবে প্রথম দাগের জন্য মাত্র ৫ (পাঁচ) টাকা এবং পরবর্তী প্রতি অতিরিক্ত দাগের জন্য ১ (এক) টাকা করে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ আইনি রসিদ বা ডিসিআর (DCR)-এর মাধ্যমে নগদ পরিশোধ করতে হবে।

তসদিক-উত্তর যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় ভুল বা ‘মিসটেক’ সংশোধন, খতিয়ান ও নকশার সঠিকতা যাচাই এবং ডিপি নম্বর (নতুন খতিয়ান নম্বর) প্রদানের সেবাটি নাগরিকরা কোনো খরচ ছাড়াই পাচ্ছেন। তবে ‘খসড়া প্রকাশনা (ডিপি) বিধি ২৯’ এর আওতায় খতিয়ান ও নকশা প্রদর্শন বিনামূল্যে হলেও, কোনো আপত্তি মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে ২০ টাকা কোর্ট ফি এবং প্রতি ঠিকানায় প্রসেস ফি বাবদ ৫০ টাকা কোর্ট ফি ধার্য করা হয়েছে।

আপত্তি ও আপিল স্তরের খরচ: ভূমি মালিকদের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ‘আপত্তি (বিধি ৩০)’ এবং ‘আপিল (বিধি ৩১)’ স্তরের শুনানির জন্য সরকার কোনো ফি ধার্য করেনি। তবে এই স্তরে পুনরায় পরিমাপের (বদর ফি) জন্য প্রথম দাগে ১৫ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি দাগের জন্য ৩ টাকা করে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ ক্ষেত্রে, যদি মৌজার দূরত্ব আমিন ক্যাম্প থেকে ৬ মাইলের বেশি হয়, তবে সার্ভেয়ারের ১ দিনের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রদান করতে হবে। আপিল মামলা গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতি কেসের জন্য ৪০ টাকা কোর্ট ফি এবং প্রসেস ফি ৫০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।

ভূমি মালিকদের প্রতি বিশেষ সতর্কতা ও পরামর্শ: ১. তালিকাভুক্ত নির্ধারিত ফি ব্যতীত মাঠ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে অতিরিক্ত টাকা দেবেন না। ২. যেকোনো ধরনের পরিমাপ বা বদর ফি অবশ্যই ডিসিআর (DCR) রসিদের মাধ্যমে পরিশোধ করুন। ৩. খসড়া প্রকাশনার সময় নিজের নাম, পিতার নাম ও হিস্যা সঠিকভাবে পরীক্ষা করে নিন, কারণ এই স্তরে ভুল সংশোধন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *