আজকের খবর ২০২৬

১ জুলাই থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় বড় পরিবর্তন, লাখে কত টাকা পাওয়া যাবে

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীদের জন্য মুনাফার হিসাব পরিবর্তন করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন মুনাফার হার কার্যকর হওয়ার পর বিনিয়োগের পরিমাণভেদে প্রতি লাখ টাকায় প্রাপ্য মুনাফাও পরিবর্তিত হয়েছে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর ১ জুলাই ২০২৫ তারিখে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল।

প্রদত্ত চার্ট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পরিবার সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং পেনশনার সঞ্চয়পত্র—এই চার ধরনের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী আলাদা মুনাফার হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিবার সঞ্চয়পত্রে লাখে নতুন হিসাব

পরিবার সঞ্চয়পত্রে ১ জুলাই ২০২৫ থেকে বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী প্রতি লাখ টাকার প্রাপ্য মুনাফার হার কমেছে।

চার্ট অনুযায়ী, ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে প্রতি লাখে মাসিক মুনাফা ৯৪৪.৪৬ টাকা। ৫ লাখের বেশি থেকে ৭ দশমিক ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে প্রতি লাখে মাসিক মুনাফা ৮৯৪.৯৫ টাকা। আর ৭ দশমিক ৫ লাখের বেশি থেকে ৪৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে প্রতি লাখে মাসিক মুনাফা ৮৮৫ টাকা দেখানো হয়েছে।

এর আগে ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত একই শ্রেণিতে প্রতি লাখে প্রাপ্য মুনাফা ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি। অর্থাৎ জুলাই থেকে নতুন করে সঞ্চয়পত্র কেনা বা পুনঃবিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্য মুনাফার হিসাব নতুন হারে নির্ধারিত হবে।

তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র

তিন মাস অন্তর মুনাফা প্রদান করা সঞ্চয়পত্রেও বিনিয়োগের পরিমাণভেদে মুনাফা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চার্টে ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতি লাখে প্রতি তিন মাসে ২৮০৭.২৫ টাকা মুনাফা দেখানো হয়েছে। ৫ লাখের বেশি থেকে ৭ দশমিক ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে প্রতি লাখে ২৬৬৯.৫০ টাকা এবং ৭ দশমিক ৫ লাখের বেশি থেকে ৪৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে প্রতি লাখে ২৬৪৮.২৫ টাকা পাওয়া যাবে।

এখানেও দেখা যাচ্ছে, বেশি পরিমাণ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতি লাখে মুনাফার পরিমাণ ধাপে ধাপে কমে যায়।

পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র

পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে মুনাফা সাধারণত মেয়াদপূর্তির সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রদত্ত চার্টে প্রতি লাখ টাকার মেয়াদপূর্তিতে প্রাপ্য অর্থের হিসাবও বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী আলাদা করে দেখানো হয়েছে।

১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতি লাখে মেয়াদপূর্তিতে ৫৬,১৯২.৫০ টাকা মুনাফা দেখানো হয়েছে। ৫ লাখের বেশি থেকে ৭ দশমিক ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে প্রতি লাখে ৫৩,২৩৫ টাকা এবং ৭ দশমিক ৫ লাখের বেশি থেকে ৪৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে প্রতি লাখে ৫৩,১০০ টাকা মুনাফা পাওয়া যাবে বলে চার্টে উল্লেখ রয়েছে।

অর্থাৎ বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতি লাখ টাকার বিপরীতে প্রাপ্য মুনাফা কিছুটা কমে যাচ্ছে।

পেনশনার সঞ্চয়পত্রে আলাদা সুবিধা

শুধু পেনশনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত পেনশনার সঞ্চয়পত্রের হিসাবও চার্টে দেওয়া হয়েছে। এখানে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ১ জুলাই ২০২৫ থেকে প্রতি লাখে মাসিক ৯৯৮.৩৩ টাকা মুনাফা দেখানো হয়েছে।

৫ লাখের বেশি থেকে ৭ দশমিক ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে প্রতি লাখে মাসিক মুনাফা ৮৮৮.৫০ টাকা এবং ৭ দশমিক ৫ লাখের বেশি থেকে ৪৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে প্রতি লাখে ৮৮৫ টাকা দেখানো হয়েছে।

পেনশনার সঞ্চয়পত্রের বিশেষত্ব হলো এটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য নয়; নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী পেনশনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য এই স্কিম প্রযোজ্য।

কেন বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী মুনাফা আলাদা?

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা নির্ধারণের ক্ষেত্রে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগকারী এবং তার চেয়ে বেশি বিনিয়োগকারীর প্রতি লাখে মুনাফা এক নয়। চার্টেও এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।

বিশেষ করে ৫ লাখ, ৭ দশমিক ৫ লাখ, ১৫ লাখ, ৩০ লাখ ও ৪৫ লাখ টাকার বিভিন্ন সীমা অনুযায়ী মুনাফার হিসাব ভাগ করা হয়েছে। ফলে কেউ শুধু ‘প্রতি লাখে কত মুনাফা’ জানতে চাইলে তার মোট বিনিয়োগ কত—সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।

পুরোনো ও নতুন ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ক্রয়ের তারিখ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সরকারি নোটিশে ১ জুলাই ২০২৫ থেকে পুনর্নির্ধারিত মুনাফার হার কার্যকর হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

তাই কোনো বিনিয়োগকারী পুরোনো তারিখে সঞ্চয়পত্র কিনে থাকলে তার ক্ষেত্রে নতুন ক্রেতার হার সরাসরি প্রযোজ্য হবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। নতুন করে ক্রয় বা পুনঃবিনিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী হার প্রযোজ্য হবে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের আগে শুধু মুনাফার হার দেখলেই হবে না। কোন ধরনের সঞ্চয়পত্র, কত টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে, ক্রয়ের তারিখ, মুনাফা মাসিক নাকি তিন মাস অন্তর, মেয়াদ কত বছর এবং কর কর্তনের পর প্রকৃত প্রাপ্তি কত—এসব বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সরকারি নথিতে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন মুনাফার হার কার্যকর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে মুনাফার হার পরিবর্তন হয়ে থাকলে বর্তমান বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সর্বশেষ সরকারি প্রজ্ঞাপন যাচাই করা জরুরি।

এক নজরে ১ জুলাই ২০২৫ থেকে চার্টে দেখানো মুনাফা

সঞ্চয়পত্রবিনিয়োগের সীমাপ্রতি লাখে প্রাপ্য মুনাফা
পরিবার সঞ্চয়পত্র৫ লাখ পর্যন্তমাসিক ৯৪৪.৪৬ টাকা
পরিবার সঞ্চয়পত্র৫–৭.৫ লাখমাসিক ৮৯৪.৯৫ টাকা
পরিবার সঞ্চয়পত্র৭.৫–৪৫ লাখমাসিক ৮৮৫ টাকা
তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক৫ লাখ পর্যন্তপ্রতি ৩ মাসে ২৮০৭.২৫ টাকা
তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক৫–৭.৫ লাখপ্রতি ৩ মাসে ২৬৬৯.৫০ টাকা
তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক৭.৫–৪৫ লাখপ্রতি ৩ মাসে ২৬৪৮.২৫ টাকা
পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র৫ লাখ পর্যন্তমেয়াদপূর্তিতে ৫৬,১৯২.৫০ টাকা
পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র৫–৭.৫ লাখমেয়াদপূর্তিতে ৫৩,২৩৫ টাকা
পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র৭.৫–৪৫ লাখমেয়াদপূর্তিতে ৫৩,১০০ টাকা
পেনশনার সঞ্চয়পত্র৫ লাখ পর্যন্তমাসিক ৯৯৮.৩৩ টাকা
পেনশনার সঞ্চয়পত্র৫–৭.৫ লাখমাসিক ৮৮৮.৫০ টাকা
পেনশনার সঞ্চয়পত্র৭.৫–৪৫ লাখমাসিক ৮৮৫ টাকা

সব মিলিয়ে, ১ জুলাই ২০২৫ থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার নতুন কাঠামোতে বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী প্রাপ্য মুনাফায় পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীর জন্য সঠিক স্কিম নির্বাচন এবং নিজের মোট বিনিয়োগের সীমা অনুযায়ী প্রকৃত মুনাফা হিসাব করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *