সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ কার্যকর হয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অর্থ বিভাগের গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামো আনুষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। নতুন স্কেলে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাতও আগের ১:১.৯৪৫ থেকে কমিয়ে প্রায় ১:১.৭৮ করা হয়েছে।
তবে নতুন বেতন কাঠামো প্রকাশের পরও বেতন-অনুপাত, গ্রেডের মধ্যকার ব্যবধান এবং বাড়ি ভাড়া ও মোবাইল ভাতার কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এক গ্রেড থেকে পরবর্তী গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতনের ব্যবধান অনেক জায়গায় তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে—এভাবে গ্রেডভিত্তিক দায়িত্ব, পদমর্যাদা ও বেতন পার্থক্য কতটা স্পষ্ট থাকছে?
১১ থেকে ২০ গ্রেডে বেতনের ব্যবধান
নতুন বেতন কাঠামোর প্রারম্ভিক মূল বেতন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—
| গ্রেড | নতুন প্রারম্ভিক মূল বেতন | আগের গ্রেডের সঙ্গে ব্যবধান |
|---|---|---|
| ১১ | ২৫,০০০ | — |
| ১২ | ২৪,৩০০ | ৭০০ |
| ১৩ | ২৪,০০০ | ৩০০ |
| ১৪ | ২৩,৫০০ | ৫০০ |
| ১৫ | ২২,৮০০ | ৭০০ |
| ১৬ | ২১,৯০০ | ৯০০ |
| ১৭ | ২১,৪০০ | ৫০০ |
| ১৮ | ২১,০০০ | ৪০০ |
| ১৯ | ২০,৫০০ | ৫০০ |
| ২০ | ২০,০০০ | ৫০০ |
এই তথ্যগুলো থেকে দেখা যায়, ১১–২০ গ্রেডের প্রতিটি গ্রেডের ব্যবধান সর্বত্র ৫০০–৬০০ টাকা নয়; কোথাও ৩০০, কোথাও ৪০০, ৫০০, ৭০০ বা ৯০০ টাকা। তবে সামগ্রিকভাবে নিচের গ্রেডগুলোর মধ্যকার ব্যবধান যে সংকুচিত—এটি স্পষ্ট।
অর্থাৎ, নতুন কাঠামোয় নিম্ন গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন অনেকটাই কাছাকাছি চলে এসেছে। এর ফলে একজন কর্মচারী উচ্চতর গ্রেডে গেলেও প্রারম্ভিক মূল বেতনে আগের তুলনায় খুব বড় পার্থক্য দেখতে পাচ্ছেন না—এমন একটি বাস্তব অনুভূতি তৈরি হতে পারে।
তাহলে কি ৯ম পে স্কেলে বেতন বৈষম্য পুরোপুরি দূর হয়েছে?
এখানেই রয়েছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
সরকার নতুন কাঠামোয় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত কমিয়েছে। অনুমোদিত কাঠামোয় এ অনুপাত প্রায় ১:১.৭৮ হয়েছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গ্রেডের ব্যবধান সংকুচিত করার একটি নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কিন্তু অনুপাত কমানো এবং প্রতিটি গ্রেডের মধ্যে যৌক্তিক ব্যবধান তৈরি করা এক বিষয় নয়।
উদাহরণ হিসেবে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের দিকে তাকালে দেখা যায়, গ্রেডগুলো পরপর থাকলেও কয়েকটি গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতনের ব্যবধান খুবই সামান্য। ফলে প্রশ্ন উঠতে পারে—একটি গ্রেড থেকে পরবর্তী গ্রেডে দায়িত্ব, পদমর্যাদা, যোগ্যতা ও কাজের জটিলতার পার্থক্য থাকলে তার আর্থিক প্রতিফলন কতটা দৃশ্যমান হওয়া উচিত?
এটি মূলত বেতন কাঠামোর নকশা ও গ্রেডিংয়ের যৌক্তিকতার প্রশ্ন; কেবল মোট বেতন বৃদ্ধির শতাংশ দিয়ে এর উত্তর পাওয়া যায় না।
বাড়ি ভাড়া নিয়ে কেন এত আলোচনা?
নতুন পে স্কেলে বাড়ি ভাড়াও মূল বেতনের নির্দিষ্ট শতাংশের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। প্রকাশিত গেজেটভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৬–২০ গ্রেডের জন্য ৬০ শতাংশ, ১০–১৫ গ্রেডে ৫০ শতাংশ, ৫–৯ গ্রেডে ৪৫ শতাংশ এবং ১–৪ গ্রেডে ৪০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়ার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে গেজেটের তথ্য উদ্ধৃত হয়েছে।
অর্থাৎ এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বাড়ি ভাড়া মূল বেতনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হলেও শতাংশটি সব গ্রেডে একই নয়।
ফলে একজন কর্মচারীর মূল বেতন যত বেশি, একই শতাংশ প্রযোজ্য হলে বাড়ি ভাড়ার টাকার অঙ্কও তত বেশি হবে। আবার গ্রেডভেদে শতাংশ পরিবর্তন করায় শুধু মূল বেতনের ব্যবধান নয়, বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রেও গ্রেডভিত্তিক পার্থক্য তৈরি হয়।
এখানেই বেতন কাঠামোর সঙ্গে বাড়ি ভাড়ার সম্পর্ক নিয়ে বিতর্কের জায়গা তৈরি হয়েছে।
‘মূল বেতনের শতাংশ’ বাড়ি ভাড়ার সমাধান নয়—যদি বেতন কাঠামোতেই অসামঞ্জস্য থাকে
মূল বেতনের ওপর বাড়ি ভাড়া নির্ধারণের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—বেতন বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ি ভাড়াও বাড়ে।
কিন্তু এর বিপরীত দিকও রয়েছে।
যদি দুটি গ্রেডের মূল বেতনের ব্যবধান খুব কম হয়, তাহলে একই হারে বাড়ি ভাড়া দিলে তাদের বাড়ি ভাড়ার পার্থক্যও খুব কম হবে।
অন্যদিকে উচ্চ গ্রেড ও নিম্ন গ্রেডের মূল বেতনের ব্যবধান অনেক বেশি হলে একই শতাংশে বাড়ি ভাড়া নির্ধারণ করলেও বাড়ি ভাড়ার টাকার অঙ্কে বড় ব্যবধান তৈরি হবে।
সুতরাং বাড়ি ভাড়া দিয়ে বেতন কাঠামোর মূল বৈষম্য সংশোধন করা সম্ভব নয়। বাড়ি ভাড়া হলো মূল বেতনের ওপর নির্ভরশীল একটি ভাতা। মূল কাঠামোতে যে সম্পর্ক নির্ধারণ করা হবে, তারই প্রতিফলন ঘটবে বাড়ি ভাড়ায়।
এ কারণে বেতন বৈষম্য নিয়ে অসন্তোষ থাকলে শুধু বাড়ি ভাড়ার শতাংশ পরিবর্তন করে সেটি পুরোপুরি সমাধান করা কঠিন।
মোবাইল ভাতায় আরও স্পষ্ট গ্রেডভিত্তিক পার্থক্য
নতুন পে স্কেলে প্রথমবারের মতো সব পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইল ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। তবে গ্রেডভেদে ভাতার অঙ্ক এক নয়।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী ৫ম গ্রেড ও তদূর্ধ্বরা মাসে ৫০০ টাকা, আর ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা পাবেন।
অর্থাৎ দুই স্তরের মধ্যে মোবাইল ভাতার অনুপাত প্রায় ৩.৩৩:১।
তবে ব্যবহারকারীর উত্থাপিত ১,৫০০:১৫০ বা ১:১০ অনুপাতটি নতুন পে স্কেলের নতুন মোবাইল ভাতার কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি মেলে না। কারণ নতুন আদেশে ১ম–৫ম গ্রেডের জন্য ৫০০ টাকা এবং ৬ষ্ঠ–২০তম গ্রেডের জন্য ১৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অবশ্য পুরোনো ব্যবস্থায় ১ম–৩য় গ্রেডের কর্মকর্তারা মাসে ১,৫০০ টাকা এবং ৪র্থ–৫ম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১,০০০ টাকা মোবাইল বিল পেতেন—নতুন কাঠামোয় সেই ১,৫০০ টাকা কমিয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে এবং নিম্ন গ্রেডগুলোকে ১৫০ টাকা দেওয়া হয়েছে।
এখানে নতুন স্কেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো—উচ্চ গ্রেডের বিদ্যমান সুবিধা কমিয়ে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদেরও নতুন করে এই ভাতার আওতায় আনা হয়েছে।
‘বানরের রুটি ভাগের’ অভিযোগের জায়গাটি কোথায়?
কর্মচারীদের একটি অংশের সমালোচনার মূল বক্তব্য হলো—সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত কমানো হলেও মাঝের গ্রেডগুলোতে কাঙ্ক্ষিত ব্যবধান তৈরি হয়নি।
এই সমালোচনাকে যাচাই করতে হলে তিনটি বিষয় আলাদা করে দেখতে হবে—
প্রথমত, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত কমেছে।
দ্বিতীয়ত, ১১–২০ গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতনগুলো পরস্পরের কাছাকাছি রাখা হয়েছে।
তৃতীয়ত, বাড়ি ভাড়া, মোবাইল, টিফিন ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা গ্রেডভেদে আলাদা করা হয়েছে।
তাই নতুন পে স্কেলকে শুধু ‘বৈষম্য কমেছে’ অথবা ‘বৈষম্য রয়েছে’—এই দুই শব্দে বিচার করলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না।
বরং প্রশ্নটি হওয়া উচিত—গ্রেডগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ও পদমর্যাদার পার্থক্যের সঙ্গে আর্থিক ব্যবধান কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ?
বাড়ি ভাড়ায় সমতা আনতে হলে মূল বেতন কাঠামোই গুরুত্বপূর্ণ
ধরা যাক, একই এলাকায় দুই গ্রেডের কর্মচারীর বাড়ি ভাড়া মূল বেতনের একই শতাংশ।
যদি প্রথমজনের মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয়জনের ২০ হাজার টাকা হয়, তাহলে ৫০ শতাংশ বাড়ি ভাড়ায় তারা যথাক্রমে ১২,৫০০ ও ১০,০০০ টাকা পাবেন। পার্থক্য থাকবে ২,৫০০ টাকা।
অর্থাৎ বাড়ি ভাড়া মূল বেতনের শতাংশ হওয়ায় বেতন কাঠামোর পার্থক্য সরাসরি বাড়ি ভাড়ায় প্রতিফলিত হবে।
সুতরাং মূল বেতনের কাঠামোতেই যদি গ্রেডভেদে ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন থাকে, তাহলে বাড়ি ভাড়াকে আলাদা করে ব্যবহার করে সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব নয়।
বরং দুটি নীতির মধ্যে একটি বেছে নিতে হয়—
এক. মূল বেতনের নির্দিষ্ট শতাংশ হিসেবে বাড়ি ভাড়া;
অথবা
দুই. গ্রেড ও এলাকার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট অঙ্কের বাড়ি ভাড়া।
প্রথম পদ্ধতিতে বেতন কাঠামোর প্রভাব বেশি, দ্বিতীয় পদ্ধতিতে তুলনামূলকভাবে নির্দিষ্ট আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা যায়। কোনটি বেশি যুক্তিসঙ্গত হবে, তা নির্ভর করবে সরকারের বেতননীতি, আবাসন ব্যয় ও আর্থিক সক্ষমতার ওপর।
৯ম পে স্কেলের সবচেয়ে বড় বিতর্ক: কাঠামো, শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়
নতুন পে স্কেলে নিচের দিকের কর্মচারীদের মূল বেতন বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্য। ২০তম গ্রেডে ৮,২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং ১১তম গ্রেডে ১২,৫০০ টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা হয়েছে। অর্থাৎ নিম্ন গ্রেডেও প্রারম্ভিক বেতন প্রায় দ্বিগুণ বা তার বেশি হয়েছে।
কিন্তু বেতন বৃদ্ধি এবং বেতন কাঠামোর অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য এক বিষয় নয়।
একজন কর্মচারীর কাছে প্রশ্ন হতে পারে—নতুন স্কেলে তার মোট বেতন কত বাড়ল?
আরেকজনের প্রশ্ন—তার পরের গ্রেডের সঙ্গে ব্যবধান কত?
আরেকটি প্রশ্ন—বাড়ি ভাড়া, মোবাইল, টিফিন, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতায় সেই ব্যবধান কীভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে?
এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর এক নয়।
বাস্তবায়নেও রয়েছে ধাপে ধাপে ব্যবস্থাপনা
নতুন পে স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও পুরো বর্ধিত মূল বেতন একসঙ্গে দেওয়া হচ্ছে না। ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব এবং ১০ম–২০তম গ্রেডের জন্য প্রথম ধাপে যথাক্রমে ৪০ শতাংশ ও ৫০ শতাংশ পার্থক্য দেওয়া হবে। পরবর্তী ধাপে তা বাড়িয়ে ৭০ ও ৭৫ শতাংশ করা হবে এবং ১ জুলাই ২০২৭ থেকে পূর্ণ নতুন বেতন কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
অর্থাৎ নতুন বেতন কাঠামোর প্রকৃত আর্থিক প্রভাব বুঝতে কর্মচারীদের শুধু নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন দেখলে হবে না; বাস্তবায়নের ধাপও বিবেচনা করতে হবে।
সামনে যে প্রশ্নগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
৯ম জাতীয় পে স্কেল প্রকাশের পর এখন মূল বিতর্ক শুধু ‘বেতন কত বাড়ল’—এখানে সীমাবদ্ধ নেই। বরং কয়েকটি কাঠামোগত প্রশ্ন সামনে এসেছে।
১. ১১–২০ গ্রেডের মধ্যে বর্তমান প্রারম্ভিক বেতন ব্যবধান দায়িত্ব ও পদমর্যাদার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ?
২. সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত কমানোর পাশাপাশি মাঝের গ্রেডগুলোতে পর্যাপ্ত পার্থক্য রাখা হয়েছে কি না?
৩. বাড়ি ভাড়ার শতাংশ গ্রেডভিত্তিক নির্ধারণের যৌক্তিকতা কী?
৪. মোবাইল ভাতার ৫০০ ও ১৫০ টাকার ব্যবধান দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না?
৫. টিফিন ও যাতায়াত ভাতার মতো নির্দিষ্ট অঙ্কের সুবিধাগুলো মূল্যস্ফীতির সঙ্গে ভবিষ্যতে কীভাবে সমন্বয় করা হবে?
৬. ভবিষ্যতে নতুন পে কমিশন বা সংশোধনের সময় গ্রেডভিত্তিক বেতন ব্যবধান নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে কি না?
শেষ কথা
৯ম জাতীয় পে স্কেলকে কেবল বেতন বৃদ্ধির একটি তালিকা হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত কাঠামোগত প্রভাব ধরা পড়বে না। নতুন স্কেলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত আগের তুলনায় সংকুচিত হয়েছে—এটি একটি পরিমাপযোগ্য পরিবর্তন। একই সঙ্গে ১১–২০ গ্রেডে একাধিক গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে, যা গ্রেডভিত্তিক পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
তবে ‘সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে কর্মচারীদের ঠকিয়েছে’ বা ‘আমলারা বৈষম্য জিইয়ে রাখতে চায়’—এ ধরনের উদ্দেশ্য বা অভিপ্রায়ের দাবি প্রমাণিত তথ্য ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। বরং প্রকাশিত বেতন ও ভাতার কাঠামো থেকেই যে বিষয়টি স্পষ্ট, তা হলো—নতুন স্কেলে বেতন বৈষম্য কমানোর একটি উদ্যোগ নেওয়া হলেও গ্রেডগুলোর অভ্যন্তরীণ ব্যবধান, বাড়ি ভাড়া ও বিভিন্ন ভাতার কাঠামো নিয়ে নীতিগত বিতর্কের যথেষ্ট জায়গা রয়ে গেছে।
আর সেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু এখন একটাই—শুধু বেতন বাড়ানো নয়, ২০টি গ্রেডের মধ্যে দায়িত্ব, পদমর্যাদা ও আর্থিক সুবিধার সম্পর্ক কতটা যৌক্তিকভাবে সাজানো হয়েছে।

