আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অনেক করদাতার মনে প্রশ্ন—এখন কি আর রিটার্ন জমা দেওয়া সম্ভব? উত্তর হলো, হ্যাঁ। নির্ধারিত সময় শেষ হলেও এখনো আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। তবে এক্ষেত্রে করদাতাদের গুণতে হতে পারে মোটা অংকের জরিমানা এবং হারাতে হতে পারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর-সুবিধা।
দেরিতে রিটার্ন দিলে জরিমানার খড়্গ আয়কর আইন অনুযায়ী, সময়মতো রিটার্ন জমা না দিলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
এককালীন জরিমানা: সর্বশেষ নিরূপিত করের ওপর ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে, যার ন্যূনতম পরিমাণ ১,০০০ টাকা।
দৈনিক জরিমানা: রিটার্ন জমা দিতে যত দেরি হবে, প্রতিদিনের জন্য অতিরিক্ত ৫০ টাকা হারে জরিমানা আরোপ হতে পারে।
মাসিক সুদ: বকেয়া করের ওপর প্রতি মাসে ২ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। এই সুদের পরিমাণ সর্বোচ্চ ২৪ মাস বা ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
কর রেয়াত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি সাধারণত করদাতারা বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করে কর ছাড় বা ‘ট্যাক্স রেবেট’ পেয়ে থাকেন। কিন্তু দেরিতে রিটার্ন দিলে এই সুবিধাগুলো হাতছাড়া হতে পারে। বিশেষ করে:
জীবন বীমার প্রিমিয়াম
ডিপিএস (DPS)
সঞ্চয়পত্র ক্রয়
শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ
অন্যান্য অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগের বিপরীতে কোনো কর রেয়াত পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ, বিনিয়োগ করলেও আপনাকে পুরো করই পরিশোধ করতে হতে পারে।
অন্যান্য আইনি ও ব্যবহারিক জটিলতা রিটার্ন জমা না দিলে বা দেরি করলে কেবল আর্থিক ক্ষতিই নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনেও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন করদাতারা। ভবিষ্যতে ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তি, ভিসা প্রসেসিং, স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সময় বৃদ্ধির আবেদনকারীদের জন্য সুখবর তবে যারা নির্ধারিত সময়ের আগেই সময় বৃদ্ধির জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছিলেন এবং অনুমোদন পেয়েছেন, তারা বর্ধিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে কোনো জরিমানা ছাড়াই রেয়াত সুবিধা পাবেন।
ই-রিটার্ন এখন বাধ্যতামূলক বর্তমানে অধিকাংশ করদাতার জন্য অনলাইনে ই-রিটার্ন (e-Return) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। করদাতারা এনবিআরের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে (etaxnbr.gov.bd) গিয়ে টিআইএন (TIN) ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে সহজেই রিটার্ন পূরণ, কর পরিশোধ এবং প্রাপ্তি স্বীকারপত্র ডাউনলোড করতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ আয়কর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়তি ঝামেলা ও আর্থিক জরিমানা এড়াতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। অনলাইনে ৩৬৫ দিনই রিটার্ন দেওয়ার সুযোগ থাকায় করদাতারা ঘরে বসেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন।
মনে রাখবেন: সময়মতো রিটার্ন দিন, বাড়তি জরিমানা ও আইনি ঝামেলা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখুন।
