পানির দরে জমি: ফরিদপুরের আমিরাবাদে বিঘাপ্রতি মাত্র ৬০-৭০ হাজার টাকা!
দেশের আবাসন খাতে যখন জমির দাম আকাশচুম্বী, তখন রাজধানী ঢাকার অদূরেই মিলছে অবিশ্বাস্য সস্তায় জমি। ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার আমিরাবাদ এলাকায় মাত্র ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে এক বিঘা জমি। শতাংশ হিসেবে যার দাম পড়ছে মাত্র ২০০০ টাকার কাছাকাছি।
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকা থেকে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে ঢাকা থেকে নিজস্ব পরিবহনে ফরিদপুরের এই এলাকায় পৌঁছাতে সময় লাগছে মাত্র ২ ঘণ্টা। যোগাযোগ ব্যবস্থার এত উন্নতির পরও জমির এমন অস্বাভাবিক কম দাম বিনিয়োগকারীদের নজরে কেড়েছে।
কেন এত সস্তা? স্থানীয় সূত্র এবং ভূমি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই এলাকাটি মূলত কৃষিপ্রধান এবং চরাঞ্চলীয় ভূ-প্রকৃতির অন্তর্ভুক্ত। সাধারণত নিম্নলিখিত কারণে এখানে জমির দাম এতটা কম:
-
ভৌগোলিক অবস্থান: এলাকাটি মূলত চরাঞ্চল হওয়ায় বর্ষাকালে কিছু অংশ প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
-
বিকাশমান অবকাঠামো: এলাকাটিতে বর্তমানে বড় কোনো শিল্পকারখানা বা বাণিজ্যিক প্রকল্প গড়ে না ওঠায় দাম এখনো নাগালের মধ্যে।
-
খাস বা পৈতৃক জমি: অনেক ক্ষেত্রে বিশাল আয়তনের নিচু জমি বা পৈতৃক সূত্রে পাওয়া বড় প্লটগুলো মালিকরা দ্রুত নগদায়নের জন্য কম মূল্যে ছেড়ে দিচ্ছেন।
বিনিয়োগের সম্ভাবনা বিশ্লেষকরা বলছেন, পদ্মা সেতুর সুফল হিসেবে ফরিদপুর সদরপুর অঞ্চলটি দ্রুত শিল্পায়নের দিকে এগোচ্ছে। বর্তমানে যা “পানির দাম” হিসেবে পরিচিত, আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে সেই জমির দাম কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদী খামারবাড়ি (Farmhouse), মৎস্য চাষ বা বনায়নের জন্য এই জমিগুলো আদর্শ হতে পারে।
সতর্কতা: জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই সিএস (CS), এসএ (SA) এবং আরএস (RS) পর্চা যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন। অবিশ্বাস্য কম দাম হওয়ায় দলিলের বৈধতা এবং সরকারি খাস খতিয়ানের আওতাভুক্ত কি না, তা স্থানীয় ভূমি অফিস থেকে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এক নজরে তথ্যাদি
| বিষয় | বিবরণ |
| অবস্থান | আমিরাবাদ, সদরপুর, ফরিদপুর |
| দূরত্ব (ঢাকা থেকে) | আনুমানিক ২ ঘণ্টা |
| বিঘা প্রতি দাম | ৬০,০০০ — ৭০,০০০ টাকা |
| শতাংশ প্রতি দাম | আনুমানিক ২,০০০ টাকা |
| উপযোগিতা | কৃষি, মৎস্য খামার, দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ |
দেশের ক্রমবর্ধমান নগরায়নের যুগে ঢাকার এত কাছে এমন মূল্যে জমি পাওয়া বিরল। তাই প্রকৃত ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।





আপনার মন্তব্য