আজকের খবর ২০২৬

বিশ্বকাপ ২০২৬ বাছাইপর্বে কারা ছিল সেরা? চমক দেখিয়েছে জাপান, উজবেকিস্তান ও জর্ডান

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব শেষ হওয়ার পর ফুটবল বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে কয়েকটি দলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। ঐতিহ্যবাহী শক্তিধর দলগুলোর পাশাপাশি কিছু নতুন দলও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বাছাইপর্বে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে জাপান, উজবেকিস্তান, জর্ডান, মরক্কো এবং আর্জেন্টিনা।

এশিয়ার পরাশক্তি জাপান শুরু থেকেই দারুণ ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। তারা স্বাগতিক দেশগুলোর বাইরে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করা প্রথম দলগুলোর একটি। বাছাইপর্বজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল ও শক্তিশালী রক্ষণভাগের কারণে জাপানকে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, উজবেকিস্তান ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূলপর্বে জায়গা করে নিয়েছে। মধ্য এশিয়ার কোনো দেশের জন্য এটি প্রথম বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের সুযোগ। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর তাদের এই সাফল্য দেশটির ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করেছে।

জর্ডানও প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে বিশ্ব ফুটবলে বড় চমক দেখিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিক উন্নতির ফল হিসেবে দলটি এই ঐতিহাসিক অর্জন করেছে।

দক্ষিণ আমেরিকায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দলটি বাছাইপর্বে স্থিতিশীল পারফরম্যান্স দেখিয়ে সহজেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে। ব্রাজিলও প্রত্যাশামতো শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখে টুর্নামেন্টে জায়গা করে নিয়েছে।

আফ্রিকার দলগুলোর মধ্যে মরক্কো আবারও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলার পর তারা বাছাইপর্বেও দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া কেপ ভার্দেও আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম সাফল্যের গল্প হয়ে উঠেছে।

ইউরোপ অঞ্চলে স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, জার্মানি, পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিধর দলগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে। তবে সবচেয়ে বড় চমক ছিল নরওয়ের প্রত্যাবর্তন এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার প্লে-অফ জয়ে ইতালির বিশ্বকাপ মিস করা।

বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে, ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সবচেয়ে সফল দলগুলোর তালিকায় রয়েছে জাপান, উজবেকিস্তান, জর্ডান, আর্জেন্টিনা ও মরক্কো। নতুন দলগুলোর উত্থান এবং শক্তিধর দেশগুলোর ধারাবাহিক সাফল্যে আগামী বিশ্বকাপ আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও আকর্ষণীয় হওয়ার আভাস মিলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *