একই দলিলের মাধ্যমে একাধিক দাগের জমি ক্রয় করলেও কেবল যে দাগে ভোগদখল রয়েছে, শুধু সেই দাগে নামজারি (খারিজ) করলেই দায়িত্ব শেষ হয়—এমন ধারণা সঠিক নয়। ভূমি বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী একই দলিলে অন্তর্ভুক্ত সব দাগের জমির জন্যই খারিজের আবেদন করতে হয়। কারণ নামজারি করা হয় মালিকানা হস্তান্তরের ভিত্তিতে, কেবল ভোগদখলের ভিত্তিতে নয়।
সম্প্রতি এ বিষয়ে সচেতনতামূলক একটি তথ্যচিত্রে জানানো হয়েছে, অনেক ক্রেতা ভুল ধারণা থেকে মনে করেন যে, যে দাগে বাস্তবে দখল রয়েছে শুধু সেই দাগে নামজারি করলেই যথেষ্ট। কিন্তু বাস্তবে একই দলিলে একাধিক দাগের জমি ক্রয় করা হলে সংশ্লিষ্ট সব দাগের মালিকানা রেকর্ড হালনাগাদের জন্য আবেদন করাই প্রচলিত নিয়ম।
মালিকানা পরিবর্তনই নামজারির মূল ভিত্তি
তথ্যচিত্রে বলা হয়েছে, খারিজ বা নামজারির উদ্দেশ্য হলো সরকারি ভূমি রেকর্ডে নতুন মালিকের নাম অন্তর্ভুক্ত করা। তাই জমির ভোগদখল একটি বিবেচ্য বিষয় হলেও নামজারির ক্ষেত্রে প্রধান ভিত্তি হলো বৈধ মালিকানা হস্তান্তর।
উদাহরণে যা বলা হয়েছে
উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়েছে, একটি দলিলের মাধ্যমে ১২৩, ১২৪, ১২৫ ও ১২৬ নম্বর দাগের জমি ক্রয় করা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল ১২৫ নম্বর দাগে ভোগদখল থাকলেও সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ১২৩, ১২৪, ১২৫ ও ১২৬—সব দাগের জন্যই খারিজের আবেদন করতে হবে।
ব্যতিক্রমও থাকতে পারে
তবে সব ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নাও হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের আদেশ, দলিলের বিশেষ শর্ত অথবা ভূমি রেকর্ডের বিদ্যমান অবস্থার কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন ও নথিপত্র অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সাধারণ ভুল ধারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান
ভূমি-সংক্রান্ত বিষয়ে সবচেয়ে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলোর একটি হলো—“শুধু যে দাগে ভোগদখল আছে, সেই দাগেই নামজারি করলেই হবে।” তবে ভূমি বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন কোনো সাধারণ বিধান নেই। বরং প্রতিটি মামলার দলিল, রেকর্ড ও আইনি অবস্থান বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় দাগগুলোতে নামজারির আবেদন করা উচিত।
ভূমি-সংশ্লিষ্ট জটিলতা, ভবিষ্যতে মালিকানা বিরোধ কিংবা রেকর্ড সংশোধনের ঝামেলা এড়াতে জমি ক্রয়ের পর দ্রুত সংশ্লিষ্ট সব দাগের নামজারির বিষয়ে স্থানীয় ভূমি অফিস বা অভিজ্ঞ ভূমি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
