মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর দেশের সকল পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় বাস্তবায়িত মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি (মাতৃত্ব ভাতা) সম্প্রসারণে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। ৪ জুন ২০২৬ তারিখে জারিকৃত এক অফিস আদেশে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ হওয়ার আগেই নগর এলাকার আওতায় অতিরিক্ত ৩০ শতাংশ উপকারভোগী অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এলাকার মা ও শিশুদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পূর্বে উপকারভোগী সংখ্যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ১৭ শতাংশ বা টার্গেটভুক্ত জনসংখ্যার একটি অংশে সীমাবদ্ধ থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা বৃদ্ধি করে ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হবে।
জুনের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্নের নির্দেশ
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যে নির্ধারিত অতিরিক্ত ৩০ শতাংশ উপকারভোগী অন্তর্ভুক্ত করা না গেলে প্রকল্পের আওতায় পাওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনুদানের একটি অংশ হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা নির্বাচন কমিটি এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে উপকারভোগী নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে জুন ২০২৬ মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে নতুন উপকারভোগী নির্বাচন ও তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
ভাতার পরিমাণ কত?
বর্তমানে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত একজন উপকারভোগী মোট ৩০,৬০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পান। সাধারণত মাসিক কিস্তির মাধ্যমে এ অর্থ প্রদান করা হয়। কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো গর্ভবতী মা, নবজাতক ও শিশুদের পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ এবং মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
কারা অগ্রাধিকার পাবেন?
সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী সাধারণত নিম্ন আয়ের পরিবার, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা গর্ভবতী নারী এবং নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী মায়েরা এ কর্মসূচির জন্য বিবেচিত হন। নতুন করে উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন কমিটি যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করবে।
সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে নতুন গতি
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ৩০ শতাংশ উপকারভোগী অন্তর্ভুক্ত করা গেলে নগর এলাকার আরও হাজার হাজার মা ও শিশু এ কর্মসূচির আওতায় আসবেন। এতে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু হ্রাস, পুষ্টি উন্নয়ন এবং দরিদ্র পরিবারের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিতকরণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে চলতি অর্থবছরের শেষ নাগাদ নগর অঞ্চলে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
