বর্তমানে বিআরটিএ (BRTA) মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া অনেকটাই সহজ ও ডিজিটাল করেছে। প্রধান ধাপগুলো হলো:
বায়নাপত্র বা বিক্রয় রসিদ: ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে একটি ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে হলফনামা (Affidavit) সম্পাদন করতে হয়।
অনলাইন আবেদন: বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল (BSP) এর মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
ফি প্রদান: নির্দিষ্ট ব্যাংকে (যেমন: এনআরবিসি, ডাচ-বাংলা, ইত্যাদি) মালিকানা পরিবর্তনের ফি জমা দিয়ে রসিদ সংগ্রহ করতে হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: * মূল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (ব্লু-বুক/স্মার্ট কার্ড)।
ক্রেতা ও বিক্রেতার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এর কপি।
টিিন (TIN) সার্টিফিকেটের কপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
ক্রেতার ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
আবেদন ফরম (ফর্ম ‘টিও’ এবং ‘টিটিও’)।
বায়োমেট্রিক প্রদান: ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কে বিআরটিএ অফিসে গিয়ে ছবি ও আঙুলের ছাপ দিয়ে আসতে হবে (বিক্রেতা উপস্থিত থাকতে না পারলে আমমোক্তারনামা বা এনআইডি ভেরিফিকেশন প্রয়োজন হয়)।
নেইম ট্রান্সফার না করে অন্যের বাইক চালালে শাস্তি
মালিকানা পরিবর্তন না করে অন্যের বাইক চালানো সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এর প্রধান ঝুঁকি ও শাস্তিগুলো হলো:
আর্থিক জরিমানা: বৈধ মালিকানা বা আপডেট কাগজপত্র ছাড়া গাড়ি চালালে পুলিশ আপনার বিরুদ্ধে মামলা দিতে পারে। সাধারণ ক্ষেত্রে ২,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
গাড়ি আটক: যদি চালকের কাছে বৈধ কোনো অথরাইজেশন লেটার বা বিক্রয় রসিদ না থাকে এবং মালিকানা নিয়ে সন্দেহ হয়, তবে পুলিশ গাড়িটি ডাম্পিং-এ পাঠাতে পারে।
দুর্ঘটনাজনিত আইনি জটিলতা: এটি সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। বাইকটি দিয়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আইনি দায়ভার মূল মালিকের ওপর বর্তায়। আবার মালিকানা আপনার নামে না থাকলে আপনি বীমা (Insurance) বা অন্য কোনো আইনি সুবিধা দাবি করতে পারবেন না।
ক্রয়-বিক্রয়ের প্রমাণ: আপনি যদি বাইকটি কিনে থাকেন কিন্তু নাম পরিবর্তন না করেন, তবে বিক্রেতা চাইলে যেকোনো সময় বাইকটি চুরির মামলা দিতে পারেন।
পরামর্শ: বাইক কেনার পর দ্রুততম সময়ে মালিকানা পরিবর্তন করা সবচেয়ে নিরাপদ। যদি সাময়িকভাবে অন্যের বাইক চালান, তবে সাথে মালিকের এনআইডি কপি এবং একটি লিখিত অনুমতিপত্র (Authorization Letter) রাখা জরুরি।
বাইকের নাম ট্রান্সফার করতে কত টাকা খরচ হয়?
২০২৬ সালের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের মালিকানা পরিবর্তনের (নাম ট্রান্সফার) খরচ মূলত বাইকের ইঞ্জিন ক্ষমতা বা সিসির (CC) ওপর নির্ভর করে। এছাড়া ডিজিটাল নম্বর প্লেট এবং স্মার্ট কার্ডের ফি-ও এর সাথে যুক্ত থাকে।
নিচে খরচের একটি আনুমানিক তালিকা দেওয়া হলো:
১. বিআরটিএ (BRTA) নির্ধারিত মূল ফি
মোটরসাইকেলের সিসি অনুযায়ী মূল ফি-তে কিছুটা ভিন্নতা থাকে:
| বাইকের ধরন/সিসি | মূল মালিকানা বদল ফি | ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড ও অন্যান্য | আনুমানিক মোট ব্যাংক জমা |
| ১০০ সিসি পর্যন্ত | প্রায় ২,১২৮ টাকা | ১,৫০০ – ২,০০০ টাকা | ৩,৬০০ – ৪,২০০ টাকা |
| ১০০ সিসির বেশি | প্রায় ২,৬৬৫ টাকা | ১,৫০০ – ২,০০০ টাকা | ৪,২০০ – ৫,৫০০ টাকা |
নোট: যদি বাইকের ডিজিটাল নম্বর প্লেট আগে থেকে না থাকে, তবে তার জন্য অতিরিক্ত ২,২৬০ টাকা জমা দিতে হতে পারে।
২. অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ
ব্যাংক জমা ছাড়াও কিছু অতিরিক্ত খরচ রয়েছে যা আপনার জানা প্রয়োজন:
হলফনামা (Affidavit): ২০০-৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামা তৈরি করতে ৫০০-৮০০ টাকা লাগতে পারে।
পরিদর্শন ফি: বিআরটিএ-তে বাইক পরিদর্শনের জন্য সামান্য কিছু সরকারি চার্জ থাকে যা মূল ফির মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকে।
৩. মালিকানা বদলের জন্য প্রয়োজনীয় ফরম ও কাগজ
টিও (TO) এবং টিটিও (TTO) ফরম: বিআরটিএ অফিস বা ওয়েবসাইট থেকে বিনামূল্যে পাওয়া যায়।
বিক্রয় রসিদ: ১০ টাকার রেভিনিউ স্ট্যাম্পসহ।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য:
জরিমানা: যদি আপনার ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদ শেষ হয়ে থাকে, তবে নাম ট্রান্সফারের সময় বকেয়া টাকা এবং জরিমানাসহ পরিশোধ করতে হবে।
বিক্রেতার উপস্থিতি: মালিকানা পরিবর্তনের সময় বিক্রেতাকে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে আঙুলের ছাপ (Biometric) দিতে হয়। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে এটি পরিবর্তন হতে পারে।
সঠিক হিসাব: আপনার বাইকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে BRTA Service Portal (BSP) থেকে একদম নির্ভুল ফি ক্যালকুলেট করে নিতে পারেন।
