সুস্থ থাকতে নিয়ন্ত্রিত খাবার এবং নিয়মিত এক্সারসাইজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ- জেকে লাইফ স্টাইলের খাবার কেমন হতে পারে এবং কি খাবেন বা কি খাবেন না সেটি নিয়েই কথা বলবো–jk lifestyle breakfast

JK Life Style কি? – জেকে লাইফস্টাইল হলো ডা. জাহাঙ্গীর কবির প্রণীত একধরণের স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন পদ্ধতি। এই পদ্ধতির মূল লক্ষ্য হলো সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনযাপন করা। জেকে লাইফস্টাইলে প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনি ও খারাপ চর্বি এড়িয়ে চলা হয়। এর পরিবর্তে, শাকসবজি, ফল, মাছ, মাংস, ডিম ও বাদামের মতো প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়। জেকে লাইফস্টাইলে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ব্যায়ামের ধরণ হতে পারে হাঁটা, দৌড়ানো, সাঁতার কাটা, জিমে ওয়ার্কআউট করা ইত্যাদি।

ভাত ও রুটির বিকল্প কি খাবেন? সকল শাক যেমন পালং, পুই, লাউ, লাল, ডাটা, কচু, মেথি, মুলা, হেলেঞ্চা, কলমি, সরিষা ইত্যাদি শাক খাবেন। প্রায় সব ধরনের সবজি যেমন ফুলকপি, বাধাকপি, ব্রকলি, টমেটো, তেঁড়স, লাউ, বরবটি, শিম, চিচিংগা, মুলা, অল্প গাজর, সবুজ মিষ্টিকুমড়া, সকল রকম ক্যাপসিকাম ইত্যাদি শাক সবজি অবশ্যই Organic Extra Virgin Olive Oil দিয়ে রান্না করবেন। শসা, টমেটো, গাজর, লেটুস পাতা, কাঁচা পেঁপে সালাদ হিসেবে খাবেন সকল রকম বাদাম খেতে পারবেন। কাঠবাদাম ১২-২৪ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে খােসা ছাড়িয়ে কাঁচা খাবেন। কাজু ও চীনা বাদাম ঘি অথবা এক্সট্রা ভার্জিন কোল্ড প্রেসড কোকোনাট ওয়েল দিয়ে মাঝারি আঁচে অল্প সময় ভেঁজে খাবেন।

দুধ চা খাওয়া যাবে কি? না। প্রতিদিন খাবার খাওয়ার এক ঘন্টা আগে এক গ্লাস (৩০০ মিলি) হলুদের চা খেতে পারবেন। হলুদের চা বানাতে কাঁচা হলুদ বাটা ১ টেবিল চামচ, ১ টেবিল চামচ এক্সট্রা ভার্জিন কোল্ড প্রেসড কোকোনাট ওয়েল, ১ টেবিল চামচ অর্গানিক মধু ও ১/৪ চা চামচ কালাে গােল মরিচের গুড়া এক গ্লাস ইষদুষ্ণ (হালকা কুসুম গরম) পানিতে মিশিয়ে খাবেন। যারা JK Lifestyle নতুন শুরু করবেন তারা মধু ছাড়া খাবেন।

Jk লাইফ স্টাইলে আপনি যা খেতে পারবেন না / যা যা কোনদিনও খেতে পারবেন না তার তালিকা নিম্নরূপ

সকল ধরনের শস্য জাতীয় খাবার যেমন চাল,গম, ভূট্টা,যব থেকে তৈরী সকল খাবার যেমন ভাত, চিড়া, মুড়ি, খই, রুটি, পরােটা, বিস্কুট, চানাচুর, নুডুলস, পাস্তা, ওটস, কর্ন ফ্লেকস, পাউরুটি, কেক, সকল রকম পিঠা, পায়েশ ইত্যাদি। চিনি, গুড়, মধু, সকল ধরনের কোমল পানীয়, ডায়েট ড্রিংকস, জুস ও অন্যান্য ভেবারেজ। সব ধরনের দেশি ও বিদেশী ফল আপাতত নিষেধ। সরাসরি দুধ, মিষ্টি দই, টক দই, পুডিং সকল রকম মিষ্টি। সবজির মধ্যে আলু, স্কোয়াশ, বেবী কর্ন, কচুর মুখী আপাতত নিষেধ। সব ধরনের ডাল যেমন মসুর, মুগ, ছােলা, মাসকালাই, শিমের বিচি, মটর শুটি আপাতত নিষেধ। সয়াবিন, সূর্যমুখী, ভূট্টা, রাইস ব্রান ও অন্যান্য সকল ভেজিটেবল তেল আজীবনের জন্য নিষেধ। সব ধরনের ফাস্ট ফুড, প্রসেসড ফুড অথ্যাৎ বাজারে তৈরী খাবার সম্পূর্ণ নিষেধ আজীবনের জন্য।

Caption: Jk Life Style Food

জেকে লাইফ স্টাইল ২০২৪ । নিয়ন্ত্রিত খাবার ও ব্যায়াম ছাড়াও আর কি করবেন?

  1. পর্যাপ্ত ঘুম: জেকে লাইফস্টাইলে প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। পর্যাপ্ত ঘুম শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। খাবার ও ব্যায়াম ছাড়া এটিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ
  2. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: জেকে লাইফস্টাইলে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের উপরও জোর দেওয়া হয়। মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে, যেমন যোগব্যায়াম, ধ্যান, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস ইত্যাদি। প্রয়োজনে ডাক্তারের কাছে গিয়ে জানুন আপনি মানসিকভাবে চাপমুক্ত আছেন কিনা।
  3. ওজন কমানো: জেকে লাইফস্টাইল অনুসরণ করলে ওজন কমাতে সাহায্য করে। তাই ওজন কমছে কিনা তা মেপে দেখুন।
  4. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা: জেকে লাইফস্টাইল রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ডায়বেটিস থাকলে নিয়মিত এটি চেক করুন।
  5. হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো: জেকে লাইফস্টাইল হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। পাথলোজিক্যাল রিপোর্টের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে।
  6. ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানো: জেকে লাইফস্টাইল ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তাই সকল কিছুই নিয়ম মেনে পরিচালনা করতে হবে।
  7. মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি: জেকে লাইফস্টাইল মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সাহায্য করে। মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক আছে কিনা সেটি নিয়মিত চেক করবেন।  

জেকে লাইফ স্টাইল কি শরীরের জন্য ক্ষতিকর?

জেকে লাইফস্টাইল শরীরের জন্য ক্ষতিকর কিনা তা নির্ভর করে এটি কীভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে তার উপর। জেকে লাইফস্টাইলের কিছু সম্ভাব্য ক্ষতি হলো পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। জেকে লাইফস্টাইলে কিছু খাবার এড়িয়ে চলার কারণে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। কিছু লোকের জন্য জেকে লাইফস্টাইল অনুসরণ করে ওজন কমানো কঠিন হতে পারে। জেকে লাইফস্টাইলের নিয়মকানুন মেনে চলার জন্য কিছু লোকের মানসিক চাপ বেড়ে যেতে পারে। জেকে লাইফস্টাইল শুরু করার আগে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত। ডাক্তার আপনার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে জেকে লাইফস্টাইল আপনার জন্য উপযুক্ত কিনা তা নির্ধারণ করতে পারবেন। জেকে লাইফস্টাইলের নিয়মকানুনগুলো হঠাৎ করে না মেনে ধীরে ধীরে শুরু করা উচিত। জেকে লাইফস্টাইল অনুসরণ করার সময় পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। জেকে লাইফস্টাইলের নিয়মকানুন মেনে চলার জন্য মানসিক চাপ বেড়ে গেলে বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পরিশেষে বলা যায়, জেকে লাইফস্টাইল সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনযাপনের জন্য একটি কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে। তবে এটি অনুসরণ করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। তেল (Fat), Organic Extra Virgin Olive Oil, Organic Extra Virgin Cold Pressed Coconut Oil, খাটি ঘি, খাটি মাখন/Butter, ঘানিতে ভাঙ্গানাে খাটি সরিষার তেল নিয়মিত খেতে পারবেন

ডায়াবেটিস চির মুক্তির উপায় ২০২৩ । ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা ডা জাহাঙ্গীর কবির

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *