আজকের খবর ২০২৬

কৃষিজমির উপরিভাগ কাটলে ২ বছরের কারাদণ্ড: ভূমি মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশনা

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কৃষিজমির উর্বরতা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। এখন থেকে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) কাটা, খনন করা বা কোনো কৃষিজমি ভরাট করার অপরাধে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

গতকাল ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে দেশের সকল বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

আইনের ১৩ ধারায় কঠোর শাস্তির বিধান

‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-এর ১৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কাটেন বা জমি ভরাট করেন, তবে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধের জন্য দোষী ব্যক্তিকে:

  • সর্বোচ্চ ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা যাবে।

  • অথবা আর্থিক জরিমানায় দণ্ডিত করা হবে।

  • অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে শাস্তির মাত্রা দ্বিগুণ হওয়ার বিধানও রয়েছে।

কেন এই কঠোরতা?

ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরিকল্পিতভাবে জমির উপরিভাগ কাটার ফলে জমির উর্বরতা চিরতরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ইটভাটায় টপ সয়েল ব্যবহারের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় কৃষিজ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য সংকট এড়াতে এই আইনটি মাঠ পর্যায়ে কঠোরভাবে প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মাঠ প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনা

ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে আইন অমান্য করে কৃষিজমি থেকে মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনার মাধ্যমে তদারকি বাড়াতে বলা হয়েছে। এছাড়া কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও কৃষিজমির অপব্যবহার রোধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র

তবে আইনের ১২ ও ১৩ ধারার কিছু শর্তসাপেক্ষে, কেউ যদি নিজের বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য বা অতি প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত কাজে নিজের মালিকানাধীন জমি থেকে সীমিত পরিসরে এবং জমির উর্বরতা নষ্ট না করে মাটি কাটেন, তবে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে না। তবে এই সুযোগ নিয়ে যাতে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মাটি কাটা না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি থাকবে।

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কৃষিজমির উর্বরতা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। এখন থেকে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) কাটা, খনন করা বা কোনো কৃষিজমি ভরাট করার অপরাধে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। গতকাল ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে দেশের সকল বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। আইনের ১৩ ধারায় কঠোর শাস্তির বিধান 'ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩'-এর ১৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কাটেন বা জমি ভরাট করেন, তবে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধের জন্য দোষী ব্যক্তিকে: সর্বোচ্চ ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা যাবে। অথবা আর্থিক জরিমানায় দণ্ডিত করা হবে। অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে শাস্তির মাত্রা দ্বিগুণ হওয়ার বিধানও রয়েছে। কেন এই কঠোরতা? ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরিকল্পিতভাবে জমির উপরিভাগ কাটার ফলে জমির উর্বরতা চিরতরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ইটভাটায় টপ সয়েল ব্যবহারের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় কৃষিজ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য সংকট এড়াতে এই আইনটি মাঠ পর্যায়ে কঠোরভাবে প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাঠ প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনা ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে আইন অমান্য করে কৃষিজমি থেকে মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনার মাধ্যমে তদারকি বাড়াতে বলা হয়েছে। এছাড়া কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও কৃষিজমির অপব্যবহার রোধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র তবে আইনের ১২ ও ১৩ ধারার কিছু শর্তসাপেক্ষে, কেউ যদি নিজের বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য বা অতি প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত কাজে নিজের মালিকানাধীন জমি থেকে সীমিত পরিসরে এবং জমির উর্বরতা নষ্ট না করে মাটি কাটেন, তবে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে না। তবে এই সুযোগ নিয়ে যাতে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মাটি কাটা না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি থাকবে।

সরকার হঠাৎ কেন এমন নির্দেশনা জারি করিল?

সরকার হঠাৎ এই কঠোর নির্দেশনা জারি করার পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট এবং গভীর উদ্বেগজনক কারণ রয়েছে। মূলত দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য নিরাপত্তা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য। নিচে প্রধান কারণগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:

১. খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি (Food Security)

বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ এবং এখানে মাথাপিছু কৃষিজমির পরিমাণ খুবই কম। গত কয়েক দশকে নগরায়ন এবং শিল্পায়নের ফলে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি হারিয়ে গেছে। অবশিষ্ট জমির উর্বরতা রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যতে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

২. টপ সয়েল (Top Soil) বা উপরিভাগের মাটির গুরুত্ব

একটি জমির উপরিভাগের মাত্র ৬ থেকে ১০ ইঞ্চি মাটিকে ‘টপ সয়েল’ বলা হয়। এখানেই উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদান এবং জৈব পদার্থ থাকে।

  • ক্ষতি: একবার উপরিভাগের মাটি কেটে ফেললে সেই জমির উর্বরতা ফিরে পেতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর সময় লাগে।

  • মরুকরণ: ক্রমাগত মাটি কাটার ফলে অনেক জমি স্থায়ীভাবে অনাবাদী হয়ে পড়ে, যা কৃষির জন্য চরম হুমকি।

৩. ইটভাটার ক্রমবর্ধমান চাহিদা

দেশের অধিকাংশ ইটভাটায় এখনো কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। ইটভাটার মালিকরা কৃষকদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে জমির উর্বর অংশ কিনে নিচ্ছে। এর ফলে একদিকে কৃষি উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে পরিবেশের চরম বিপর্যয় ঘটছে। সরকার এই প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ করতে চায়।

৪. ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’ বাস্তবায়ন

২০২৩ সালে সরকার ভূমি সংক্রান্ত অপরাধ দমনের জন্য একটি শক্তিশালী আইন প্রণয়ন করেছে। আইনের কার্যকর প্রয়োগ না থাকায় মাঠ পর্যায়ে অনিয়ম থামছিল না। সাম্প্রতিক এই নির্দেশনার মাধ্যমে সরকার মূলত মাঠ প্রশাসনকে (ডিসি, এসিল্যান্ড) আইনের ১৩ ধারার কঠোর প্রয়োগের বার্তা দিয়েছে যাতে অপরাধীরা পার না পায়।

৫. ভূ-প্রকৃতি ও জলাশয় রক্ষা

মাটি কাটার ফলে জমির উচ্চতা কমে যায়, যার ফলে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এর ফলে পাশের জমির ফসলও নষ্ট হয়। এছাড়া অবাধে মাটি কাটার ফলে গ্রামীণ রাস্তাঘাট এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছিল।


সংক্ষেপে: আবাদি জমি রক্ষা করা এখন আর কেবল কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়, এটি একটি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার চাইছে কঠোর শাস্তির ভয় দেখিয়ে কৃষিজমির এই ‘ধীর গতির ধ্বংস’ বন্ধ করতে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *