বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভূমি সেবা ইন্টারনেট ব্যাংকিং সহ তথ্যের ভান্ডার।

শিরোনাম
মোটরসাইকেলের ট্যাক্স টোকেন নবায়ন: কত টাকা ফি, কখন জরিমানা এবং অনলাইনে যেভাবে হিসাব করবেন মোবাইল ডেটা ও কলের খরচ কমানোর নতুন উদ্যোগ, এক প্ল্যাটফর্মেই মিলবে ৫ অপারেটরের প্যাকের তুলনা এইচএসসি ২০২৬: ময়মনসিংহ বোর্ডে ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ৭ নভেম্বর পর্যন্ত, প্রতি পত্রে ফি ১৫০ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, লোকসান এড়াতে নতুনদের জন্য বিশেষ গাইড Leave List 2027: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ছুটির বড় সুযোগ, এক দিন ছুটি নিলেই মিলতে পারে দীর্ঘ অবকাশ সরকারি কর্মচারীদের সার্ভিস বুক নিয়ে সতর্কতা, চাকরি থেকে পেনশন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যেসব তথ্য থাকতে হবে নতুন বেতন কাঠামোয় বাড়িভাড়া নিয়ে নতুন হিসাব, ১৫তম ও ১৬তম গ্রেডে বড় পার্থক্য বাড়ি নির্মাণে রডের খরচ কত? BSRM, KSRM, GPH ও AKS-এর দাম ও হিসাব জানুন এক ক্লিকেই ২৯ দেশের মুদ্রার হিসাব, বাংলাদেশি টাকায় মূল্য জানার নতুন ডিজিটাল সুবিধা সড়ক পরিবহন বিধিমালায় সংশোধন: মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেট প্রদর্শনে নতুন নিয়ম

জমি নামজারি করতে কী কী লাগবে? জেনে নিন আবেদন থেকে নামজারি প্রাপ্তির পুরো প্রক্রিয়া

admin ৩ মিনিটের পাঠ
জমি নামজারি করতে কী কী লাগবে?

জমি ক্রয়, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্তি কিংবা হস্তান্তরের পর মালিকানা সরকারি রেকর্ডে হালনাগাদ করার জন্য নামজারি (মিউটেশন) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। ভূমি ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল করার অংশ হিসেবে বর্তমানে অনলাইনে নামজারির আবেদন করা যায়, ফলে আগের তুলনায় প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ হয়েছে।

ভূমি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সঠিক কাগজপত্র জমা ও যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হলে সাধারণত ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে নামজারি কার্যক্রম শেষ করা সম্ভব।

নামজারির জন্য যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন

নামজারির আবেদন করতে সাধারণত নিম্নোক্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হয়—

  • জমির দলিলের মূল কপি বা সার্টিফাইড কপি
  • এসএ, আরএস বা যে খতিয়ান থেকে দলিল সম্পাদিত হয়েছে তার কপি
  • উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তির ক্ষেত্রে হালনাগাদ ওয়ারিশান সনদ
  • জন্মনিবন্ধন দিয়ে আবেদন করলে আবেদনকারীর ছবি
  • প্রয়োজন অনুযায়ী বায়া দলিলের কপি
  • সচল মোবাইল নম্বর
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)
  • ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা পরিশোধের রশিদ

প্রথম ধাপ: অনলাইনে আবেদন

প্রথমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে নিকটস্থ নাগরিক সেবা কেন্দ্র বা কম্পিউটার কর্নারের মাধ্যমে অনলাইনে নামজারির আবেদন করতে হবে। আবেদন সম্পন্ন হলে একটি কেস নম্বর বা আইডি নম্বর তৈরি হবে, যা আবেদনকারীর মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো হবে।

এই নম্বরের মাধ্যমে পরবর্তীতে আবেদনটির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

দ্বিতীয় ধাপ: ইউনিয়ন ভূমি অফিসে তদন্ত

অনলাইন আবেদন জমা হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ফাইলটি তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। এ সময় জমির মালিকানা, দলিল, খতিয়ান, কর পরিশোধ এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হয়।

তদন্তে সব তথ্য সঠিক পাওয়া গেলে ইউনিয়ন ভূমি অফিস নামজারির প্রস্তাব উপজেলা ভূমি অফিস বা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে পাঠায়।

তৃতীয় ধাপ: শুনানি ও চূড়ান্ত অনুমোদন

প্রস্তাব পাওয়ার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড অফিস আবেদনকারীর জন্য একটি শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে। নির্ধারিত তারিখ ও সময় এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়।

শুনানি শেষে আবেদন অনুমোদিত হলে আবেদনকারীকে ডিসিআর (DCR) ফি পরিশোধ করতে হয়। ফি পরিশোধের পর এক থেকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে অনলাইন থেকে কিউআর কোডযুক্ত নামজারির কপি সংগ্রহ করা যায়।

কতদিন সময় লাগে?

ভূমি কর্মকর্তাদের মতে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক থাকলে এবং তদন্তে কোনো জটিলতা না থাকলে পুরো নামজারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সাধারণত ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগে। তবে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ, কাগজপত্রে অসঙ্গতি বা অতিরিক্ত যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে সময় আরও বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

ভূমি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জমি ক্রয় বা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্তির পর যত দ্রুত সম্ভব নামজারি সম্পন্ন করা উচিত। কারণ নামজারি না থাকলে ভবিষ্যতে জমি বিক্রয়, ব্যাংক ঋণ গ্রহণ, কর পরিশোধ বা মালিকানা প্রমাণের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

তারা আরও বলেন, আবেদন করার আগে দলিল, খতিয়ান, ওয়ারিশান সনদ ও কর পরিশোধের রশিদ হালনাগাদ আছে কি না তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে নামজারি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *