বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভূমি সেবা ইন্টারনেট ব্যাংকিং সহ তথ্যের ভান্ডার।

শিরোনাম
মোটরসাইকেলের ট্যাক্স টোকেন নবায়ন: কত টাকা ফি, কখন জরিমানা এবং অনলাইনে যেভাবে হিসাব করবেন মোবাইল ডেটা ও কলের খরচ কমানোর নতুন উদ্যোগ, এক প্ল্যাটফর্মেই মিলবে ৫ অপারেটরের প্যাকের তুলনা এইচএসসি ২০২৬: ময়মনসিংহ বোর্ডে ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ৭ নভেম্বর পর্যন্ত, প্রতি পত্রে ফি ১৫০ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, লোকসান এড়াতে নতুনদের জন্য বিশেষ গাইড Leave List 2027: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ছুটির বড় সুযোগ, এক দিন ছুটি নিলেই মিলতে পারে দীর্ঘ অবকাশ সরকারি কর্মচারীদের সার্ভিস বুক নিয়ে সতর্কতা, চাকরি থেকে পেনশন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যেসব তথ্য থাকতে হবে নতুন বেতন কাঠামোয় বাড়িভাড়া নিয়ে নতুন হিসাব, ১৫তম ও ১৬তম গ্রেডে বড় পার্থক্য বাড়ি নির্মাণে রডের খরচ কত? BSRM, KSRM, GPH ও AKS-এর দাম ও হিসাব জানুন এক ক্লিকেই ২৯ দেশের মুদ্রার হিসাব, বাংলাদেশি টাকায় মূল্য জানার নতুন ডিজিটাল সুবিধা সড়ক পরিবহন বিধিমালায় সংশোধন: মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেট প্রদর্শনে নতুন নিয়ম

জমি রেজিস্ট্রেশন খরচ: ১০ লাখ টাকার জমি কিনতে অতিরিক্ত কত টাকা লাগবে? জেনে নিন সঠিক হিসাব

admin ৩ মিনিটের পাঠ
জমি রেজিস্ট্রেশন খরচ: ১০ লাখ টাকার জমি কিনতে অতিরিক্ত কত টাকা লাগবে? জেনে নিন সঠিক হিসাব

জমি কেনা-বেচার ক্ষেত্রে সাধারণ ক্রেতাদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জায়গা হলো রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন খরচ। অনেক সময় সঠিক তথ্যের অভাব অথবা মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের খপ্পরে পড়ে সাধারণ মানুষ সরকারি ফির চেয়ে অনেক বেশি টাকা ব্যয় করে ফেলেন। অথচ সামান্য কিছু তথ্য জানা থাকলে আপনি নিজেই আপনার জমির রেজিস্ট্রেশন খরচ নিখুঁতভাবে হিসাব করতে পারেন।

​রেজিস্ট্রেশন খরচের খাতসমূহ

​বাংলাদেশে জমি নিবন্ধনের সময় সাধারণত পাঁচটি প্রধান খাতে সরকারি ফি প্রদান করতে হয়। খাতগুলো হলো:

​১. স্ট্যাম্প ডিউটি (Stamp Duty): এটি জমির মোট মূল্যের ৩ শতাংশ।

২. রেজিস্ট্রেশন ফি (Registration Fee): এটি জমির মোট মূল্যের ২ শতাংশ।

৩. লোকাল গভর্নমেন্ট ট্যাক্স (Local Government Tax): স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে (পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ) জমির মূল্যের ২ শতাংশ প্রদান করতে হয়।

৪. উৎস কর (Income Tax/Gain Tax): এলাকাভেদে এটি সাধারণত ৫ শতাংশ হয়ে থাকে (শহর ও গ্রামভেদে এটি পরিবর্তিত হতে পারে)।

৫. আনুষঙ্গিক খরচ: দলিল লেখক ফি, ই-ফি, এন-ফি (নকল ফি) এবং স্ক্যানিং ফি বাবদ ২,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা খরচ হয়।

​১০ লাখ টাকার জমির একটি বাস্তব উদাহরণ

​ধরা যাক, আপনি ১০ লাখ টাকা মূল্যের একটি জমি ক্রয় করছেন। বর্তমানে প্রচলিত হার অনুযায়ী আপনার মোট খরচের একটি চিত্র নিচে দেওয়া হলো:

খরচের খাত

হার (%)

টাকার পরিমাণ

স্ট্যাম্প ডিউটি

৩%

৩০,০০০ টাকা

রেজিস্ট্রেশন ফি

২%

২০,০০০ টাকা

স্থানীয় সরকার কর

২%

২০,০০০ টাকা

উৎস কর (গড়)

৫%

৫০,০০০ টাকা

অন্যান্য (নকল/স্ক্যানিং/ফরম)

–

৫,০০০ টাকা (সর্বোচ্চ)

সর্বমোট সম্ভাব্য খরচ

প্রায় ১২.৫%

১,২৫,০০০ টাকা

অর্থাৎ, ১০ লাখ টাকার একটি জমি আইনগতভাবে নিজের নামে করতে আপনাকে ১.২০ থেকে ১.২৫ লাখ টাকা বাড়তি বাজেট রাখতে হবে।

​ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য বিশেষ সতর্কতা

​জমি বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন:

  • ​মৌজা মূল্য যাচাই: জমির দলিলে আপনি যে মূল্যই দেখান না কেন, সরকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন ‘মৌজা মূল্য’-এর নিচে দাম দেখানো যাবে না। ফি হিসাব করা হয় দলিল মূল্য অথবা মৌজা মূল্য—যেটি বেশি তার ওপর ভিত্তি করে।
  • ​এলাকাভেদে পরিবর্তন: ঢাকা, চট্টগ্রাম বা অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকার জমির উৎস কর এবং জেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ের উৎস করের হারে ভিন্নতা থাকতে পারে।
  • ​পেমেন্ট পদ্ধতি: সরকারি সব ফি এখন পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দেওয়া যায়। তাই নগদে বড় অংকের লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন।

​বিশেষজ্ঞের পরামর্শ:

জমি রেজিস্ট্রেশনের আগে আপনার নিকটস্থ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস বা একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর কাছ থেকে বর্তমান বছরের গ্যাজেট অনুযায়ী করের হার পুনরায় যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত বাড়তি খরচ এবং দালালের দৌরাত্ম্য থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *