আজকের খবর ২০২৬

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১১ দফা নতুন নির্দেশনা: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে কঠোর অবস্থান

দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারি অফিসে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় এবং কর্মপরিবেশ সুশৃঙ্খল রাখতে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতি ১১ দফা বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এই নির্দেশনায় অফিসের সময়ানুবর্তিতা থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার পর্যন্ত প্রতিটি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নিয়ম পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিচে গুরুত্বপূর্ণ ১১টি নির্দেশনা বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

১. অফিসে উপস্থিতি: সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত আবশ্যিকভাবে নিজ নিজ অফিস কক্ষে অবস্থান করতে হবে।

২. দাপ্তরিক কর্মসূচি নির্ধারণ: দাপ্তরিক কোনো কর্মসূচি বা মিটিং এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে যেন সকালের এই নির্ধারিত সময়সীমায় (৯টা – ৯টা ৪০ মিনিট) কোনো বিঘ্ন না ঘটে।

৩. প্রাকৃতিক আলোর ব্যবহার: দিনের বেলায় যদি পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকে, তবে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার কমিয়ে জানালা, দরজা বা ব্লাইন্ড খুলে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা হয়েছে।

৪. বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের পরিমিত ব্যবহার: অফিস চলাকালীন শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় সংখ্যক লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার (AC) এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৫. এসি (AC) তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে অফিসের এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

৬. কক্ষ ত্যাগের নিয়ম: সাময়িকভাবে অফিস কক্ষ ত্যাগের সময় লাইট, ফ্যান এবং এয়ার কন্ডিশনারসহ সকল বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে।

৭. সাধারণ স্থানে সাশ্রয়: করিডোর, সিঁড়ি এবং ওয়াশরুমের মতো সাধারণ স্থানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় আলো জ্বালিয়ে রাখা যাবে না।

৮. অফিস শেষে সতর্কতা: কাজ শেষে অফিস ত্যাগ করার সময় কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার, এসি এবং সব ধরনের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা বন্ধ করতে হবে।

৯. আলোকসজ্জা পরিহার: বিশেষ সরকারি নির্দেশনা ছাড়া কোনো ধরনের শোভাবর্ধক আলোকসজ্জা করা যাবে না।

১০. জ্বালানি সাশ্রয়: যানবাহনের ব্যবহারের ক্ষেত্রে জ্বালানি ব্যবহারে সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

১১. পরিচ্ছন্নতা ও মনিটরিং: অফিস কক্ষ, করিডোর এবং টয়লেট নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এই সকল নির্দেশনা যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা তদারকি করতে একটি ‘ভিজিল্যান্স টিম’ গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করছেন, এই ১১ দফা নির্দেশনা সঠিকভাবে পালন করা হলে সরকারি ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত হবে। এই নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

সোর্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *