আজকের খবর ২০২৬

সরকারি বেতন স্কেলে ইমাম-মুয়াজ্জিন ২০২৬ । খতিব ইমাম মুয়াজ্জিনদের বেতন বৈষম্য দূর করতে যুগান্তকারী গেজেট?

দেশের মসজিদগুলোর জনবল কাঠামো শক্তিশালী করতে এবং দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এখন থেকে সরকারি ও মডেল মসজিদে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা ‘জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫’ (আপনার তথ্যে উল্লিখিত গ্রেড অনুযায়ী) ভুক্ত হচ্ছেন। সদ্য প্রকাশিত সরকারি গেজেটে তাদের বিভিন্ন গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

কারা এই সুবিধা পাবেন?

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই সুবিধা সরাসরি দুটি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে:

১. সরকার পরিচালিত মসজিদ (যেমন: বায়তুল মোকাররম)।

২. দেশব্যাপী নবনির্মিত ৫৬০টি মডেল মসজিদ।

এসব মসজিদের কর্মীদের বেতন-ভাতা সরাসরি সরকারি তহবিল বা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রদান করা হবে। তবে বেসরকারি বা স্থানীয় মসজিদগুলোর বেতন কাঠামো আগের মতোই সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির হাতে ন্যস্ত থাকবে।

পদমর্যাদা ও বেতন কাঠামোর বিস্তারিত

প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, মসজিদের জনবলকে সুনির্দিষ্ট গ্রেডে বিন্যস্ত করা হয়েছে। নিচে প্রধান পদগুলোর বেতন স্কেল তুলে ধরা হলো:

পদের নামনির্ধারিত গ্রেডমূল বেতন স্কেল (টাকা)
সিনিয়র পেশ ইমাম৫ম গ্রেড৪৩,০০০ – ৬৯,৮৫০
পেশ ইমাম৬ষ্ঠ গ্রেড৩৫,৫০০ – ৬৭,০১০
ইমাম৯ম গ্রেড২২,০০০ – ৫৩,০৬০
প্রধান মুয়াজ্জিন১০ম গ্রেড১৬,০০০ – ৩৮,৬৪০
মুয়াজ্জিন১১তম গ্রেড১২,৫০০ – ৩০,২৩০
প্রধান খাদিম১৫তম গ্রেড৯,৭০০ – ২৩,৪৯০
খাদিম১৬তম গ্রেড৯,৩০০ – ২২,৪৯০
নিরাপত্তা/পরিচ্ছন্নতা কর্মী২০তম গ্রেড৮,২৫০ – ২০,০১০

> বিশেষ দ্রষ্টব্য: মসজিদের খতিবদের বেতন বা সম্মানী নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির সাথে সম্পাদিত চুক্তির শর্তানুযায়ী।

বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য সুবিধা

মডেল মসজিদগুলোর ক্ষেত্রে ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা কেবল মূল বেতন নয়, বরং সরকারি বিধি অনুযায়ী বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধা পাবেন।

  • একজন ইমাম (৯ম গ্রেড) ২২,০০০ টাকা মূল বেতনের বিপরীতে এলাকাভেদে সর্বমোট ৩৫,০০০ থেকে ৩৭,০০০ টাকা বেতন পাবেন।

  • একজন মুয়াজ্জিন (১১তম গ্রেড) ১২,৫০০ টাকা মূল বেতনের বিপরীতে সর্বমোট ২০,০০০ থেকে ২২,০০০ টাকা পাবেন।

  • খাদিম ও অন্যান্য স্টাফ: ১৬তম গ্রেডে একজন খাদিম আনুমানিক ১৫,৫০০ থেকে ১৭,০০০ টাকা এবং ২০তম গ্রেডের কর্মীরা ১৪,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা বেতন পাবেন।

উল্লেখ্য যে, কর্মস্থল শহর না গ্রাম—তার ওপর ভিত্তি করে বাড়ি ভাড়ার হার পরিবর্তিত হওয়ায় মোট বেতনের পরিমাণে কিছুটা তারতম্য হতে পারে। সরকারের এই উদ্যোগকে আলেম সমাজ এবং মসজিদ সংশ্লিষ্টরা একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *