২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য নতুন নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। ‘সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা-২০২৭’ শীর্ষক এই নীতিমালায় প্রথম শ্রেণিতে ডিজিটাল লটারি এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচনের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইন আবেদন, শিক্ষার্থীর বয়স নির্ধারণ, আবেদন ফি, বিদ্যালয়ভিত্তিক শূন্য আসন, সংরক্ষিত আসন এবং বিশেষ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নীতিমালাটি ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জারি করা হয়েছে বলে সংযুক্ত সরকারি নথির শেষ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে। এতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ঢাকা মহানগরী, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথক ভর্তি কমিটি গঠন এবং নির্বাচন থেকে ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে সন্তানকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে আগ্রহী অভিভাবকদের জন্য নীতিমালার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আগে থেকেই জানা প্রয়োজন।
প্রথম শ্রেণিতে লটারি, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে পরীক্ষা
নীতিমালার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শ্রেণিভেদে ভর্তির পদ্ধতি আলাদা করা।
প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি: ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। আবেদনকারীদের তথ্য নির্ধারিত ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিতদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট ভর্তি কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি: সংশ্লিষ্ট শ্রেণির শূন্য আসনের বিপরীতে লিখিত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মেধাতালিকা প্রস্তুত করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
এখানে অভিভাবকদের মনে রাখতে হবে, সব শ্রেণিতে একই পদ্ধতিতে ভর্তি হবে না। প্রথম শ্রেণির আবেদনকারীদের প্রস্তুতি এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ধরনও আলাদা হবে।
ভর্তি পরীক্ষায় কত নম্বর, কত সময়?
নীতিমালার ৬.২.২ ধারায় দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার পূর্ণমান, বিষয়ভিত্তিক নম্বর ও সময় উল্লেখ করা হয়েছে।
| শ্রেণি | বাংলা | ইংরেজি | গণিত | পূর্ণমান | সময় |
|---|---|---|---|---|---|
| দ্বিতীয়–পঞ্চম | ১৫ | ১৫ | ২০ | ৫০ | ১ ঘণ্টা |
| ষষ্ঠ–নবম | ৩০ | ৩০ | ৪০ | ১০০ | ২ ঘণ্টা |
দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজিতে ১৫ নম্বর করে এবং গণিতে ২০ নম্বর থাকবে। অন্যদিকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির পরীক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজিতে ৩০ নম্বর করে এবং গণিতে ৪০ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই নম্বরবণ্টন অনুসারে গণিতের গুরুত্ব দুই ক্ষেত্রেই তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে পরীক্ষার সিলেবাস, প্রশ্নের ধরন ও পরীক্ষার নির্দিষ্ট তারিখ জানতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে হবে।
প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির বয়স কত?
নীতিমালার ২ নম্বর ধারায় প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির বয়স নির্ধারণের বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ অনুসারে প্রথম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর বয়স ৬ বছরের বেশি হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই ধারায় ক্যাচমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ১ জানুয়ারি তারিখে সর্বনিম্ন বয়স ৫ বছর এবং সর্বোচ্চ বয়স ৭ বছর নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
বয়স প্রমাণের জন্য অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি দেওয়ার বিধান রয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ বছরের অতিরিক্ত সুবিধার কথাও নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বয়সসংক্রান্ত বিধান প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শ্রেণি, ক্যাচমেন্ট এলাকার প্রযোজ্যতা এবং ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত বয়স গণনার তারিখ যাচাই করা জরুরি। অভিভাবকদের জন্মনিবন্ধনে থাকা তথ্যের সঙ্গে আবেদনপত্রের তথ্য মিলিয়ে নেওয়া উচিত।
অনলাইনে আবেদন, ফি সর্বোচ্চ ১১০ ও ২০০ টাকা
নীতিমালার ৮ নম্বর ধারায় ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন, আবেদন ফি গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।
নীতিমালায় আবেদন ফি সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে:
- প্রথম শ্রেণি: সর্বোচ্চ ১১০ টাকা।
- দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি: সর্বোচ্চ ২০০ টাকা।
এগুলো নীতিমালায় নির্ধারিত সর্বোচ্চ ফি। আবেদন শুরুর সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি ও চূড়ান্ত ফি যাচাই করতে হবে।
আবেদনের সময় শিক্ষার্থীর নাম, জন্মনিবন্ধন, অভিভাবকের তথ্য, যোগাযোগের নম্বর এবং বিদ্যালয় নির্বাচনের তথ্য সতর্কতার সঙ্গে পূরণ করা প্রয়োজন। ভুল তথ্যের কারণে পরবর্তী সময়ে যাচাই বা ভর্তি সম্পন্ন করতে সমস্যা হতে পারে।
একাধিক বিদ্যালয় পছন্দের ক্ষেত্রে কী নিয়ম?
নীতিমালার ৭ নম্বর ধারায় দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য বিদ্যালয়গুলোকে বিভিন্ন ক্যাচমেন্টে ভাগ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের অবস্থান এবং শিক্ষার্থীদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করা হবে।
নীতিমালায় শিক্ষার্থী প্রতি ক্যাচমেন্টে সর্বোচ্চ একটি বিদ্যালয়ে আবেদন করতে পারবে বলে উল্লেখ রয়েছে। ফলে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কোন ক্যাচমেন্টের অন্তর্ভুক্ত, তা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথম শ্রেণির ডিজিটাল লটারির ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের পছন্দক্রম ও নির্বাচনপ্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। একইভাবে অন্যান্য শ্রেণিতে আবেদন করার সময় নির্ধারিত সফটওয়্যারের নিয়ম মেনে বিদ্যালয় নির্বাচন করতে হবে।
ডিজিটাল লটারির ফলাফল ও অপেক্ষমাণ তালিকা
প্রথম শ্রেণির ডিজিটাল লটারি পরিচালনার ক্ষেত্রে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধান এবং কারিগরি সহায়তার বিধান রাখা হয়েছে। লটারিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট ভর্তি কমিটির কাছে পাঠানো হবে।
নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি হতে হবে। কোনো নির্বাচিত শিক্ষার্থী সময়মতো ভর্তি না হলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের শূন্য আসনের সংখ্যা উল্লেখ করে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। তাই শুধু লটারিতে নির্বাচিত হওয়াই যথেষ্ট নয়; নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে ভর্তি সম্পন্ন করাও জরুরি।
কোন কোন ক্ষেত্রে আসন সংরক্ষণের বিধান রয়েছে?
নীতিমালার ১৭ নম্বর ধারায় বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আসন সংরক্ষণের বিধান দেওয়া হয়েছে। তবে সব সুবিধা সব বিদ্যালয় ও সব শ্রেণিতে একইভাবে প্রযোজ্য নয়। সংশ্লিষ্ট ধারার শর্ত এবং শিক্ষার্থীর যোগ্যতা অনুসারে সুবিধা কার্যকর হবে।
১. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী
ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিধান রয়েছে।
২. ঢাকা মহানগরীর ক্যাচমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থী
ঢাকা মহানগরীর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। অবশিষ্ট ৬০ শতাংশ আসন সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে।
৩. মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান
মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পুত্র-কন্যাদের ভর্তির জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখার বিধান রয়েছে। এ সুবিধা দাবি করার সময় সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র ও প্রয়োজনীয় সনদ জমা দিতে হবে।
৪. বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যূনতম যোগ্যতার শর্তে ভর্তির ক্ষেত্রে ২ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। বয়স নির্ধারণেও নীতিমালায় বিশেষ সুবিধার উল্লেখ রয়েছে।
৫. শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থার কর্মচারীদের সন্তান
নীতিমালায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১০ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিধান উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করতে হবে।
৬. সহোদর ও যমজ ভাই-বোন
একই বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সহোদর বা যমজ ভাই-বোনের ক্ষেত্রে নীতিমালায় নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী ভর্তি-সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সম্পর্কের প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর পূর্ববর্তী ভর্তির তথ্য যাচাই করা হতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ: সংরক্ষিত আসনের হার দেখেই ভর্তি নিশ্চিত ধরে নেওয়া যাবে না। কোন শ্রেণিতে, কোন বিদ্যালয়ে এবং কী শর্তে সুবিধা প্রযোজ্য হবে, তা সংশ্লিষ্ট ধারার সম্পূর্ণ ভাষা ও সরকারি ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেখে নিশ্চিত হতে হবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের সন্তানদের ভর্তি নিয়ে কী বলা হয়েছে?
নীতিমালার ১৮ নম্বর ধারায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের ভর্তির ক্ষেত্রে কর্মস্থলের অবস্থান, অভিভাবকের বদলি, বিদ্যালয়ের নিকটবর্তীতা এবং অন্যান্য বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনার বিধান রয়েছে।
সরকারি চাকরিজীবীর সন্তানদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সুবিধা পেতে অভিভাবকের কর্মস্থল বা চাকরিসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হতে পারে। বদলিজনিত পরিস্থিতিতে সন্তানের ভর্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নীতিমালার বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তবে সরকারি চাকরিজীবীর সন্তান হলেই যেকোনো বিদ্যালয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভর্তি নিশ্চিত হবে না। শূন্য আসন, সংশ্লিষ্ট শ্রেণির নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত বিবেচনায় নিতে হবে।
ভর্তি পরীক্ষা ও উত্তরপত্র মূল্যায়নে কী নির্দেশনা?
নীতিমালার ১৩ ও ১৪ নম্বর ধারায় পরীক্ষা গ্রহণ এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নের বিষয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা রয়েছে। পরীক্ষার পরিবেশ, প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা, পরীক্ষাকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নে নিয়মতান্ত্রিকতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। মেধাতালিকা প্রস্তুত, ফলাফল প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও ভর্তি কমিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
এসব বিধানের উদ্দেশ্য হলো ভর্তি কার্যক্রমে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি বজায় রাখা।
অভিভাবকদের এখনই যেসব প্রস্তুতি নেওয়া উচিত
ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই অভিভাবকেরা কয়েকটি কাজ করে রাখতে পারেন।
প্রথমত, জন্মনিবন্ধন যাচাই করুন। শিক্ষার্থীর জন্মতারিখ ও অন্যান্য তথ্য সঠিক আছে কি না নিশ্চিত হোন।
দ্বিতীয়ত, বিদ্যালয় নির্বাচন করুন। বিদ্যালয়ের অবস্থান, ক্যাচমেন্ট এলাকা এবং সংশ্লিষ্ট শ্রেণির সম্ভাব্য শূন্য আসন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করুন।
তৃতীয়ত, প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখুন। পূর্ববর্তী শ্রেণির ফলাফল, জন্মনিবন্ধন এবং বিশেষ সুবিধার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সনদ গুছিয়ে রাখুন।
চতুর্থত, পরীক্ষার প্রস্তুতি নিন। দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির আবেদনকারীদের বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের নম্বরবণ্টন অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
পঞ্চমত, সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করুন। আবেদন শুরুর তারিখ, শেষ তারিখ, লটারির দিন, পরীক্ষার সময়সূচি এবং ফলাফল প্রকাশের তথ্য আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি থেকে নিশ্চিত করুন।
আবেদন শুরুর তারিখ কবে?
সংযুক্ত ৯ পৃষ্ঠার নীতিমালায় ভর্তির পদ্ধতি, বয়সসীমা, ফি, আসন সংরক্ষণ এবং কমিটির দায়িত্বের বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। তবে আবেদন শুরুর ও শেষ তারিখ, ডিজিটাল লটারির নির্দিষ্ট দিন এবং লিখিত পরীক্ষার চূড়ান্ত সময়সূচি এই নথিতে স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়নি।
তাই ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির সময়সূচি জানতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো তারিখকে সরকারি ঘোষণা হিসেবে গ্রহণ করার আগে মূল বিজ্ঞপ্তি যাচাই করা জরুরি।
শেষ কথা
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নীতিমালায় প্রথম শ্রেণির ডিজিটাল লটারি, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির লিখিত পরীক্ষা, বয়সসীমা, অনলাইন আবেদন, আবেদন ফি এবং বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আসন সংরক্ষণের বিধান তুলে ধরা হয়েছে।
অভিভাবকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—সন্তানের বয়স ও জন্মনিবন্ধনের তথ্য যাচাই করা, সঠিক বিদ্যালয় নির্বাচন করা, প্রযোজ্য সংরক্ষিত আসনের শর্ত বোঝা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করা। ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর নীতিমালার সঙ্গে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা মিলিয়ে আবেদন করলে ভুলের ঝুঁকি কমবে এবং ভর্তি-প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

