আজকের খবর ২০২৬

হারানো দলিলের বিকল্প ‘সার্টিফাইড কপি’: জানুন সংগ্রহের সহজ পদ্ধতি ও খরচ

জমির মূল দলিল হারিয়ে যাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়া নিয়ে অনেক সময় মালিকরা দুশ্চিন্তায় পড়েন। তবে আশার কথা হলো, সরকারি নিয়ম মেনে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে দলিলের ‘নকল’ বা ‘সার্টিফাইড কপি’ সংগ্রহ করার সুযোগ রয়েছে। রেজিস্ট্রেশন আইনের ৫৭ ধারা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ফি প্রদান করে যেকোনো ব্যক্তি এই কপি সংগ্রহ করতে পারেন যা আইনিভাবে মূল দলিলের মতোই কার্যকর।

সম্প্রতি জমি-জমা সংক্রান্ত তথ্য বিষয়ক পোর্টাল সূত্রে দলিলের নকল সংগ্রহের প্রক্রিয়া ও খরচের হালনাগাদ তথ্য জানা গেছে।

আবেদন করবেন যেভাবে

দলিলের নকল পেতে হলে আবেদনকারীকে ‘রেজিস্ট্রেশন বিধিমালা ২০১৪’ অনুযায়ী নির্ধারিত ৩৭ নং ফরমে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্রে দলিলের নম্বর, রেজিস্ট্রেশনের বছর, দলিলের ধরন (যেমন: সাফ কবলা বা হেবা) এবং দাতা-গ্রহীতার নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হয়।

তবে অনেকের কাছে দলিলের নম্বর থাকে না। সেক্ষেত্রে ৩৬ নং ফরমের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বছরের ইনডেক্স বই তল্লাশ (Search) করে দলিলের তথ্য খুঁজে বের করার সুযোগ রয়েছে।

সরকারি ফি ও আনুষঙ্গিক খরচ

দলিলের সার্টিফাইড কপি পাওয়ার ক্ষেত্রে খরচকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে:

  • কোর্ট ফি: আবেদনপত্রের সাথে ২০ টাকার কোর্ট ফি যুক্ত করতে হয়।

  • স্ট্যাম্প শুল্ক: মূল দলিলের মূল্যের ওপর ভিত্তি করে সাধারণত ১০০ থেকে ২০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প প্রয়োজন হয়।

  • নকল ও বালাম ফি: নকল করার জন্য ‘এন ফি’ (প্রতি ১০০ শব্দে ১৬ টাকা) এবং বালাম বহিতে লেখার জন্য ‘এনএন ফি’ (প্রতি ১০০ শব্দে ২৪ টাকা) প্রদান করতে হয়।

  • তল্লাশ ফি: যদি তথ্য খুঁজে বের করতে হয়, তবে প্রতি বছরের জন্য ২০ থেকে ৫০ টাকা হারে ফি দিতে হয়।

  • জরুরি ফি: কেউ যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে কপি পেতে চান, তবে তাকে অতিরিক্ত জরুরি ফি (জি-বি ফি) জমা দিতে হবে।

কোথায় যোগাযোগ করবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, দলিলটি যদি ৫-৬ বছরের পুরনো হয়, তবে সাধারণত তা সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সংরক্ষিত থাকে। তবে অনেক বেশি পুরনো দলিলের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে জেলা রেজিস্ট্রারের রেকর্ড রুমে যোগাযোগ করতে হবে।

সহজ হিসাবের সুবিধার্থে অনেক পোর্টাল এখন অনলাইন ‘ফিস ক্যালকুলেটর’ সেবাও দিচ্ছে, যার মাধ্যমে ঘরে বসেই সম্ভাব্য খরচের ধারণা পাওয়া সম্ভব।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দলিলের সার্টিফাইড কপি সংগ্রহের এই সঠিক নিয়ম জানা থাকলে সাধারণ মানুষ মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের হয়রানি থেকে রক্ষা পাবেন।

সার্টিফাইড কপি কি?

সহজ কথায়, সার্টিফাইড কপি (Certified Copy) হলো কোনো মূল দলিলের সরকারিভাবে সত্যায়িত একটি অবিকল প্রতিলিপি বা নকল।

যখন কোনো জমি কেনা-বেচা বা হস্তান্তরের পর মূল দলিলটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমা দেওয়া হয়, তখন সরকার সেই দলিলের যাবতীয় তথ্য একটি বড় রেজিস্টার বইতে (যাকে বালাম বহি বলা হয়) লিখে রাখে। পরবর্তীতে যদি আপনার মূল দলিলটি হারিয়ে যায়, ছিঁড়ে যায় বা কোনো আইনি কাজে দলিলের প্রয়োজন হয়, তখন ওই বালাম বহি থেকে সরকারি কর্মকর্তার সই ও সিল দিয়ে আপনাকে যে কপিটি দেওয়া হবে, সেটিই হলো সার্টিফাইড কপি।

সার্টিফাইড কপির প্রধান কিছু বৈশিষ্ট্য হলো:

  • আইনি বৈধতা: মূল দলিল হারিয়ে গেলে আদালতের কাজ বা জমি কেনা-বেচায় এই সার্টিফাইড কপি মূল দলিলের মতোই গ্রহণযোগ্য হয়।

  • মালিকানা যাচাই: আপনি কোনো জমি কেনার আগে ওই জমির প্রকৃত মালিক কে, তা যাচাই করার জন্য এই কপি তুলে তথ্য মিলিয়ে দেখতে পারেন।

  • উম্মুক্ত অধিকার: রেজিস্ট্রেশন আইনের ৫৭ ধারা অনুযায়ী, যেকোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট ফি দিয়ে যেকোনো দলিলের সার্টিফাইড কপি বা নকল সংগ্রহ করার অধিকার রাখেন।

  • সনদ বা প্রমাণ: এটি একটি সরকারি দলিল যা প্রমাণ করে যে, মূল দলিলটি নির্দিষ্ট তারিখে সরকারি রেকর্ড বইতে নিবন্ধিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *