বিগত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটকেন্দ্রগুলোতে স্থাপিত ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজগুলো পরবর্তী প্রমাণক হিসেবে ব্যবহারের জন্য দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মূল তথ্যাদি ও সিদ্ধান্ত
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দেশের সকল রিটার্নিং অফিসারকে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে মূলত দুটি নির্দিষ্ট সময়ের ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে: ১. ভোটগ্রহণের পূর্বের দিন (১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) ২. ভোটগ্রহণের দিন (১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)
ফুটেজ সংরক্ষণের স্থান ও পদ্ধতি
ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সিসি ক্যামেরা সম্বলিত প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজ সংশ্লিষ্ট সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে সংরক্ষণ করতে হবে। নির্বাচনের পর কোনো কেন্দ্র বা বুথে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে এই ফুটেজগুলো প্রধান তথ্য-প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব
উল্লেখ্য যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ২৯৯টি আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে এবারই প্রথমবারের মতো রেকর্ড সংখ্যক (প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি) কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল।
নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা: প্রযুক্তিনির্ভর এই নজরদারির ফলে নির্বাচনের দিন কোনো ধরনের কারচুপি বা অনিয়ম হয়েছে কিনা, তা যাচাই করা সহজ হবে।
আইনি প্রমাণ: পরাজিত প্রার্থী বা কোনো সংক্ষুব্ধ পক্ষ যদি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেন, তবে সংরক্ষিত এই ভিডিও ফুটেজগুলো আদালতের জন্য অকাট্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে।
ভবিষ্যৎ রেফারেন্স: নির্বাচন কমিশনের অপারেশনাল স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে প্রযুক্তি ব্যবহারের মডেল হিসেবে এই ডেটাবেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
কমিশনের নির্দেশনা
চিঠিতে সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন তারা নিজ নিজ আওতাধীন কেন্দ্রগুলোর সিসি ক্যামেরা ফুটেজগুলো সংগ্রহ করে একটি সুশৃঙ্খল আর্কাইভ তৈরি করেন। কোনো কেন্দ্র থেকে ফুটেজ যেন হারিয়ে না যায় বা বিকৃত না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারিরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

