আজকের খবর ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ড ২০২৬ । প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তির নতুন দিগন্ত

নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতকরণ এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের সামাজিক সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে “ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক”—এই মূল দর্শনের ওপর ভিত্তি করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তর যৌথভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে

কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ও ভিশন এই কর্মসূচির দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডকে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’-এ রূপান্তর করা বর্তমানে প্রচলিত ৯৫টিরও বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করা এবং প্রকৃত দরিদ্রদের তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য

সুবিধাভোগী নির্বাচন ও সহায়তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও বৈজ্ঞানিক ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ (PMT) স্কোরিং পদ্ধতির মাধ্যমে সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হবে পাইলটিং পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ২,৫০০ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা প্রদান করা হবে এই অর্থ ‘জিটুপি’ (G2P) পদ্ধতিতে সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে

নারীর ক্ষমতায়ন ও যোগ্যতা নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কার্ডটি সরাসরি পরিবারের ‘মা’ বা ‘নারী প্রধান’ সদস্যের নামে ইস্যু করা হবে গ্রামীণ এলাকায় যাদের আবাদি জমির পরিমাণ ০.৫০ একর বা তার কম এবং নির্দিষ্ট আয়ের নিচে, তারাই এই সুবিধার আওতায় আসবেন তবে পরিবারের কেউ সরকারি চাকরিজীবী হলে বা বিলাসবহুল সম্পদের মালিক হলে তারা এই নগদ সহায়তা পাবেন না

বাস্তবায়ন রোডম্যাপ ও এলাকা ২০২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রশাসনিক প্রস্তুতির মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন পাইলট পর্যায়ে দেশের ১৪টি বৈচিত্র্যময় এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে, যার মধ্যে ঢাকার কড়াইল বস্তি, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, বান্দরবানের লামা এবং সুনামগঞ্জের দিরাই উল্লেখযোগ্য

সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ভবিষ্যতে এই একটি স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করেই খাদ্য সহায়তা (টিসিবি), শিক্ষা উপবৃত্তি এবং কৃষি ভর্তুকির মতো সকল সরকারি সুবিধা পাওয়া যাবে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ (DSR) এর মাধ্যমে সকল তথ্য সংরক্ষিত ও যাচাই করা হবে

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা যেকোনো অনিয়ম বা অভিযোগের জন্য ‘চাইল্ড হেল্প লাইন ১০৯৮’ বা নিবেদিত হটলাইন ব্যবহার করা যাবে প্রতিটি অভিযোগ ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তির বিধান রাখা হয়েছে তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে

এই কর্মসূচি বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তির একটি ঐতিহাসিক সনদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে সহায়ক হবে

ফ্যামিলি কার্ড গাইডলাইন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *