আজকের খবর ২০২৬

৯ম পে স্কেলের দাবিতে উত্তাল রাজপথ: যমুনার সামনে পুলিশ-কর্মচারী সংঘর্ষ, আহত ৩০

নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো (৯ম পে স্কেল) ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলন চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গতকাল শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হওয়া ‘ভুখা মিছিল’ প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে যাওয়ার পথে দফায় দফায় পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। একপর্যায়ে শাহবাগ ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় এলাকায় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৩০ জন কর্মচারী আহত হয়েছেন বলে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলো দাবি করেছে।

আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও কর্মসূচি

‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে কয়েকশ সরকারি কর্মচারী গতকাল সকাল ১০টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন। তারা হাতে থালা-বাসন নিয়ে প্রতীকী ‘ভুখা মিছিল’ শুরু করেন। তাদের মূল দাবি—২০১৫ সালের পর দীর্ঘ ১০ বছর অতিক্রান্ত হলেও নতুন পে স্কেল কার্যকর না হওয়ায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। গত ৩১ জানুয়ারির মধ্যে গেজেট প্রকাশের আল্টিমেটাম দেওয়া হলেও সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় তারা এই কঠোর কর্মসূচির ডাক দেন।

রণক্ষেত্র শাহবাগ ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়

মিছিলটি শহীদ মিনার থেকে শাহবাগ অতিক্রম করার সময় পুলিশ প্রথম দফায় বাধা দেয়। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এরপর আন্দোলনকারীরা মৎস্য ভবন ও মিন্টু রোড হয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’র সামনে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন।

দুপুর ১২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পুলিশ টিয়ার শেল এবং লাঠিচার্জ শুরু করলে এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে আহতদের কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশের অ্যাকশনে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে বাংলামোটর ও শাহবাগের দিকে ছড়িয়ে পড়েন।

পুলিশের বক্তব্য

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানান, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং ওই এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থেই আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “ব্যারিকেড ভেঙে স্পর্শকাতর এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করায় পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।” পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

দাবি আদায়ে অনড় কর্মচারীরা

আন্দোলনরতদের পক্ষ থেকে সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের ওপর বর্বর হামলা চালানো হয়েছে। নতুন পে কমিশন প্রতিবেদন জমা দিলেও গেজেট প্রকাশে গড়িমসি করা হচ্ছে। অবিলম্বে ৯ম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ না করলে এবং আহতদের বিচার না হলে সারা দেশে কর্মবিরতির মতো আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”

উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ তাদের সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেয়, যেখানে ২০টি স্কেলে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে অর্থ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, এটি পূর্ণাঙ্গ কার্যকর হতে আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত সময় লাগতে পারে—যা মেনে নিতে নারাজ আন্দোলনরত কর্মচারীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *