পারিবারিক বা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত জমি বা সম্পত্তি নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া হলো বণ্টননামা দলিল। অনেকেই এই দলিল রেজিস্ট্রেশনের খরচ নিয়ে বিভ্রান্তিতে থাকেন। সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ মেটাতে এবং আইনি স্বত্ব নিশ্চিত করতে বণ্টননামা দলিল অত্যন্ত জরুরি। সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয় বণ্টননামা দলিলে লিখিত মূল্যের ওপর ভিত্তি করে রেজিস্ট্রেশন ফির একটি সুস্পষ্ট তালিকা প্রকাশ করেছে।
মূল্যভেদে রেজিস্ট্রেশন ফির তালিকা
দলিলের লিখিত মূল্যের ওপর ভিত্তি করে ৫টি ধাপে এই ফি নির্ধারণ করা হয়েছে:
১. ৩ লক্ষ টাকার কম হলে: দলিলের মূল্য ৩ লক্ষ টাকার নিচে হলে রেজিস্ট্রেশন ফি মাত্র ৫০০ টাকা।
২. ৩ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা: সম্পত্তির মূল্য ৩ লক্ষ টাকার বেশি কিন্তু ১০ লক্ষ টাকার মধ্যে হলে ফি ৭০০ টাকা।
৩. ১০ লক্ষ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা: মূল্যের পরিমাণ ১০ লক্ষ থেকে ৩০ লক্ষ টাকার মধ্যে হলে ফি ১২০০ টাকা।
৪. ৩০ লক্ষ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা: দলিলের লিখিত মূল্য ৩০ লক্ষ থেকে ৫০ লক্ষ টাকার মধ্যে হলে ফি ১৮০০ টাকা।
৫. ৫০ লক্ষ টাকার উপরে: সম্পত্তির মূল্য ৫০ লক্ষ টাকার বেশি হলে রেজিস্ট্রেশন ফি ২০০০ টাকা।
কেন বণ্টননামা দলিল জরুরি?
ভূমি বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌখিকভাবে বা নিজেদের মধ্যে আপস করে জমি ভোগদখল করলে ভবিষ্যতে নানা আইনি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। বণ্টননামা দলিল রেজিস্ট্রি করা থাকলে:
সম্পত্তির সুনির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারিত থাকে।
নামজারি (Mutation) ও খাজনা দেওয়া সহজ হয়।
ভবিষ্যতে সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তরে কোনো বাধা থাকে না।
শরিকদের মধ্যে বিবাদ ও মামলার ঝুঁকি কমে।
সতর্কতা ও পরামর্শ
সরকার নির্ধারিত এই ফি মূলত মূল রেজিস্ট্রেশন ফি। এর বাইরেও স্ট্যাম্প ডিউটি, হলফনামা, ই-ফি এবং এন-ফি বাবদ কিছু অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। দলিল করার সময় অবশ্যই সরকারি নির্দেশিকা যাচাই করে নেওয়া উচিত যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দ্বারা প্রতারিত হতে না হয়।
সম্পত্তি নিয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং পরিবারের শান্তি রক্ষায় সময়মতো বণ্টননামা দলিল সম্পন্ন করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।
তথ্যসূত্র: ভূমি মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
জনস্বার্থে পোস্টটি শেয়ার করে অন্যদেরও জানার সুযোগ করে দিন।
সোর্স
