বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং ডিপ্লোমা সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সার্কুলার (বিআরপিডি সার্কুলার লেটার নং-১৩, ২৯ এপ্রিল ২০২৬) নিয়ে ব্যাংকারদের মধ্যে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে নতুন ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। গত ২৮ এপ্রিল জারিকৃত নির্দেশনার পর অনেকেই মনে করছেন ১৫ বছর চাকরি করলেই আর ডিপ্লোমা লাগবে না—তবে বিষয়টি আসলে পদমর্যাদা এবং ওই পদে কাটানো সময়ের ওপর নির্ভরশীল।
মূল শর্ত: পদের গুরুত্ব ও সময়সীমা
নতুন নিয়মানুযায়ী, ব্যাংকিং ডিপ্লোমা থেকে অব্যাহতি পেতে হলে কেবল ‘মোট চাকরির বয়স’ ১৫ বছর হওয়া যথেষ্ট নয়। বরং একজন ব্যাংক কর্মকর্তাকে সিনিয়র অফিসার বা তার উপরের কোনো পদে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কমপক্ষে ১৫ বছর কর্মরত থাকতে হবে।
সহজভাবে বলতে গেলে, কোনো কর্মকর্তা যদি তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে জুনিয়র পদে থাকেন, তবে সেই সময়কাল এই ১৫ বছরের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে না। হিসাব শুরু হবে ঠিক যেদিন থেকে তিনি সিনিয়র অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।
উদাহরণের মাধ্যমে স্পষ্টীকরণ
বিষয়টি আরও পরিষ্কার করতে নিচে দুটি ভিন্ন পরিস্থিতি তুলে ধরা হলো:
ক্ষেত্র ১ (অব্যাহতি পাবেন): ধরা যাক, জনাব জাহিদ ২০০৯ সালে সরাসরি ‘সিনিয়র অফিসার’ হিসেবে একটি ব্যাংকে নিয়োগ পান। ২০২৬ সাল নাগাদ ওই একই বা তদূর্ধ্ব পদে তার অভিজ্ঞতার মেয়াদ ১৭ বছর। এই অবস্থায় তিনি যদি অন্য কোনো ব্যাংকে উচ্চতর পদে (যেমন: PO বা SEO) আবেদন করেন, তবে তার জন্য ব্যাংকিং ডিপ্লোমা আর বাধ্যতামূলক থাকবে না।
ক্ষেত্র ২ (অব্যাহতি পাবেন না): জনাব রাকিব ২০০৮ সালে ‘ট্রেইনি অফিসার’ হিসেবে ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু করেন। বিভিন্ন সময় প্রমোশন পেয়ে তিনি ২০২১ সালে ‘সিনিয়র অফিসার’ হন। ২০২৬ সাল নাগাদ তার মোট চাকরির বয়স ১৮ বছর হলেও, সিনিয়র অফিসার হিসেবে তার অভিজ্ঞতার মেয়াদ মাত্র ৫ বছর। ফলে তিনি অন্য ব্যাংকে বড় পদের জন্য আবেদন করতে চাইলে তাকে অবশ্যই ব্যাংকিং ডিপ্লোমা সম্পন্ন করতে হবে।
সারসংক্ষেপ: যা মনে রাখা জরুরি
১. গণনার শুরু: অভিজ্ঞতার হিসাব শুরু হবে ‘সিনিয়র অফিসার’ পদ থেকে। ২. ন্যূনতম মেয়াদ: সিনিয়র অফিসার বা তার উপরের পদে টানা ১৫ বছর থাকতে হবে। ৩. অন্য ব্যাংকে নিয়োগ: অভিজ্ঞতার এই শর্ত পূরণ করলে অন্য ব্যাংকে উচ্চতর পদে যোগদানের ক্ষেত্রে ডিপ্লোমা সনদের প্রয়োজন পড়বে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনার ফলে অভিজ্ঞ ব্যাংকারদের কর্মক্ষেত্রে গতিশীলতা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে পদোন্নতির প্রতিটি ধাপে সময়ের সঠিক হিসাব রাখা এখন অপরিহার্য।
তথ্যসূত্র: বিআরপিডি সার্কুলার লেটার নং-১৩ (২৯ এপ্রিল ২০২৬)।
