দেশের সাধারণ মানুষের শেষ বয়সের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের চালু করা সর্বজনীন পেনশন স্কিম বর্তমানে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বিশেষ করে নিম্ন-আয়ের মানুষদের জন্য চালু করা ‘সমতা’ স্কিমটি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর এক অনন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মোট নিবন্ধনকারীদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই এই স্কিমের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, যার সংখ্যা ইতোমধ্যে পৌনে ৩ লাখে পৌঁছেছে।
সমতা স্কিমের বিশেষত্ব: এই স্কিমে একজন সদস্য মাসে ৫০০ টাকা জমা দিলে সরকার সমপরিমাণ অর্থ (৫০০ টাকা) যোগ করে। ফলে প্রতি মাসে সদস্যের অ্যাকাউন্টে মোট ১ হাজার টাকা জমা হয়। এই স্কিমটি মূলত স্বল্প আয়ের মানুষদের কথা মাথায় রেখে ডিজাইন করা হয়েছে।
পেনশন স্কিমের প্রধান সুবিধাগুলো:
বিশাল মুনাফা: জমাকৃত টাকার ২.৩ গুণ থেকে সর্বোচ্চ ২৪.৬ গুণ পর্যন্ত রিটার্ন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। পেনশনারের বয়স ৮০ বছরের বেশি হলে এই সুবিধার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
ঋণ ও এককালীন উত্তোলন: জমাকৃত টাকার ৫০% পর্যন্ত লোন বা ঋণ নেওয়া যাবে (সুদমুক্ত সুবিধাসহ) এবং প্রয়োজনে জমাকৃত টাকার ৩০% এককালীন উত্তোলন করা যাবে।
আয়কর মুক্ত: এই স্কিমে বিনিয়োগকৃত টাকা সম্পূর্ণ আয়কর মুক্ত।
সহজ যোগাযোগ: পেনশন সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য সরকারি হটলাইন নম্বর ১৬১৩১-এ কল করে বিস্তারিত জানা যাবে।
জরুরি নোট: বর্তমানে যারা সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত আছেন, তাদের জন্য এই সর্বজনীন পেনশন স্কিমে যোগ দেওয়ার সুযোগ নেই। এটি মূলত বেসরকারি খাতের কর্মী, প্রবাসী, এবং সাধারণ নাগরিকদের জন্য।
পরিশেষে, টাকার পরিমাণ কম হলেও নিয়মিত বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য প্রত্যেকের একটি নিজস্ব সরকারি পেনশন আইডি থাকা প্রয়োজন।
