দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি আর জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সংগতি রেখে অবিলম্বে ৯ম জাতীয় বেতন স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে সরব হয়ে উঠেছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এই ধারাবাহিকতায় আগামী ১৬ মে (শনিবার) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস ছালাম হলে এক বিশাল প্রতিনিধি সভা ও আলোচনা সভার ডাক দিয়েছে ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতি’।
কর্মসূচির মূল প্রেক্ষাপট ২০১৫ সালের পর দীর্ঘ ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো পূর্ণাঙ্গ পে-স্কেল ঘোষণা না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সম্প্রতি বেতন কমিশন তাদের সুপারিশ জমা দিলেও তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের গুঞ্জন ওঠায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে। কর্মচারীদের দাবি—কোনো ধাপ নয়, বরং এক ধাপেই পূর্ণাঙ্গ পে-স্কেল গেজেট প্রকাশ করতে হবে।
প্রতিনিধি সভার মূল লক্ষ্য ও স্লোগান ব্যানার ও পোস্টার অনুযায়ী এবারের কর্মসূচির মূল সুর হচ্ছে— “গুজবকারীরা নিপাত যাক, পে-স্কেল মুক্তি পাক।” সভার মাধ্যমে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জোরালো বার্তা পৌঁছে দেওয়াই আয়োজকদের মূল লক্ষ্য।
সমাবেশ থেকে মূলত ৫টি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: * অধিকার আদায়: ন্যায্য বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা।
জনতার জয়জয়কার: সাধারণ কর্মচারীদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান।
বাঁচার লড়াই: বর্তমান বাজারমূল্যের সাথে টিকে থাকার সংগ্রাম।
রাজপথের ডাক: দাবি আদায়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি।
জেগে উঠুক বাংলাদেশ: বৈষম্যমুক্ত নতুন এক প্রশাসনিক কাঠামোর স্বপ্ন।
নেতৃবৃন্দের বক্তব্য সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, “চুপ থাকার দিন শেষ হয়েছে। আমরা আর কোনো আশ্বাস বা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের তত্ত্বে বিশ্বাসী নই। ১৬ তারিখের প্রতিনিধি সভা হবে আমাদের চূড়ান্ত সংগ্রামের প্রস্তুতি। যদি দ্রুত গেজেট প্রকাশ না করা হয়, তবে সারা দেশের ২২ লাখ কর্মচারী একযোগে কঠোর কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হবে।”
কর্মসূচির বিস্তারিত * তারিখ: ১৬ মে, ২০২৬ (শনিবার)।
স্থান: জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা।
আহ্বান: দেশের সকল স্তরের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দলে দলে যোগ দিয়ে এই প্রতিনিধি সভাকে সফল করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিনিধি সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারি কর্মচারীদের এই যৌক্তিক দাবি আসন্ন বাজেটে প্রতিফলিত হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
“চুপ থাকার দিন শেষ, জেগে উঠুক বাংলাদেশ!”
