বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’ দেশের গর্ভবতী মা ও নবজাতকদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে একটি মাইলফলক। গ্রামীণ ও শহর অঞ্চলের দরিদ্র মায়েদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার কমানোই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
নিচে এই ভাতার বিস্তারিত তথ্যাদি তুলে ধরা হলো:
ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা
সবাই এই ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবেন না। সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করলেই কেবল এই তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব:
বয়স: আবেদনকারী মায়ের বয়স অবশ্যই ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে পারে।
আর্থিক অবস্থা: কেবলমাত্র দরিদ্র বা স্বল্প আয়ের পরিবারের মায়েরা এই সুবিধা পাবেন।
আয়ের সীমা:
গ্রামে বসবাসকারীদের ক্ষেত্রে মাসিক আয় সর্বোচ্চ ৮,০০০ টাকা।
শহরে বসবাসকারীদের ক্ষেত্রে মাসিক আয় সর্বোচ্চ ১২,০০০ টাকা।
অগ্রাধিকার: প্রথম বা দ্বিতীয়বার গর্ভধারণের ক্ষেত্রেই সাধারণত এই ভাতা প্রদান করা হয়।
ভাতার পরিমাণ ও প্রদান পদ্ধতি
এই কর্মসূচির আওতায় একজন মা প্রতি মাসে ৮৫০ টাকা হারে ভাতা পেয়ে থাকেন। এই অর্থ সরাসরি উপকারভোগীর জি-টু-পি (G2P) পদ্ধতিতে মোবাইল ব্যাংকিং (নগদ/বিকাশ) অথবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রদান করা হয়, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নিচের নথিগুলো সংগ্রহে রাখতে হবে:
আবেদনকারী মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) ফটোকপি।
হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে প্রদত্ত গর্ভকালীন কার্ড (ANC Card)।
পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
সঠিক বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার তথ্য।
স্বামী ও পরিবারের বিস্তারিত তথ্য।
আয়ের সপক্ষে প্রমাণপত্র বা দরিদ্র প্রত্যয়ন।
আবেদন করার সঠিক নিয়ম
আবেদন প্রক্রিয়া এখন অনেক সহজতর করা হয়েছে। আপনি চাইলে অফলাইন বা অনলাইন—উভয় পদ্ধতিই অনুসরণ করতে পারেন:
অফলাইন পদ্ধতি:
আপনার নিকটস্থ ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা অথবা সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন।
সেখান থেকে নির্ধারিত ফরম সংগ্রহ করে নির্ভুলভাবে পূরণ করুন।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে সংশ্লিষ্ট অফিসে বা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দিন।
অনলাইন পদ্ধতি:
সরকারি নির্ধারিত পোর্টালে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন করা যায়।
যাচাইকরণ: আবেদন জমা দেওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তথ্য যাচাই করবেন। তথ্য সঠিক থাকলে আপনাকে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য
এই ভাতার জন্য সারা বছর আবেদন করা যায়, তবে নির্দিষ্ট অর্থবছর অনুযায়ী তালিকা হালনাগাদ করা হয়।
ভাতার টাকা পাওয়ার পর তা মা ও শিশুর পুষ্টিকর খাবার এবং চিকিৎসার কাজে ব্যয় করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়।
তালিকাভুক্ত হওয়ার পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের পরামর্শ মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের খপ্পরে পড়বেন না। এটি সরকারের একটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেবা। কোনো সমস্যা হলে সরাসরি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন।
