সারাদেশের ভূমি মালিকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) বকেয়াসহ পরিশোধের জন্য আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর পরিশোধ করে জমি সুরক্ষিত রাখার জন্য মালিকদের বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
ঘরে বসেই মিলছে ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধা
ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, স্মার্ট এবং স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে সরকার ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়েছে, নাগরিকরা এখন কোনো ধরনের শারীরিক উপস্থিতি বা মধ্যস্বত্বভোগীর ঝামেলা ছাড়াই land.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ঘরে বসে অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে পারবেন।
অনলাইনে কর পরিশোধের ধাপসমূহ:
১. নিবন্ধন: প্রথমেই নাগরিকদের ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত পোর্টাল land.gov.bd-এ গিয়ে নিজের মোবাইল নম্বর ও এনআইডি দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে।
২. তথ্য প্রদান: সফলভাবে নিবন্ধিত হওয়ার পর মালিককে তার সংশ্লিষ্ট খতিয়ান ও জোত সংক্রান্ত সঠিক তথ্য প্রদান করতে হবে।
৩. করের পরিমাণ জানা: তথ্য যাচাইয়ের পর সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতি ও বকেয়া করের পরিমাণ প্রদর্শন করবে।
৪. পেমেন্ট: প্রদর্শিত করের পরিমাণ মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি) অথবা ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক পরিশোধ করা যাবে। পেমেন্ট সফল হলে অনলাইন থেকেই দাখিলা বা রসিদ সংগ্রহ করা সম্ভব।
কেন এই নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ?
ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভূমি উন্নয়ন কর সময়মতো পরিশোধ করা কেবল নাগরিক দায়িত্বই নয়, বরং এটি ভূমির মালিকানা স্বত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রেও আইনি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। স্মার্ট ভূমি সেবা নিশ্চিত করতে এবং অনিয়ম রোধে ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমকে সরকার বাধ্যতামূলক করার পথে এগোচ্ছে।
বিশেষ সতর্কবার্তা:
৩০ জুনের পর বকেয়া করের ওপর নিয়ম অনুযায়ী জরিমানাসহ আইনি জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। তাই অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা এড়াতে এই সময়ের মধ্যেই সকল ভূমি মালিককে বকেয়া পরিশোধ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং ভূমি খাতে রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
