আজকের খবর ২০২৬

সরকারি অফিসে জবাবদিহিতা ও সেবার মান উন্নয়নে কঠোর তদারকির দাবি

দেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জনসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নিয়মিত ও আকস্মিক পরিদর্শন ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর একটি আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

আবেদনকারী এ বি এম আজিজুল হক আজিজ তার আবেদনে উল্লেখ করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ, ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তার মতে, যেখানে নিয়মিত পরিদর্শন ও নজরদারি থাকে, সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং সাধারণ মানুষ তুলনামূলকভাবে উন্নত সেবা লাভ করে।

আবেদনে বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সরকারি অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রসমূহে নিয়মিত পরিদর্শনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে সমস্যা চিহ্নিত করা এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।

দুর্নীতি দমন ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আবেদনকারী আরও প্রস্তাব করেন যে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য তদারকি সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে আকস্মিক পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি পাবে এবং অনিয়মের সুযোগ কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন।

আবেদনে সরকারি কর্মসম্পাদন মূল্যায়ন ব্যবস্থাকেও আরও কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় কর্মরত কর্মকর্তাদের দৈনিক ও মাসিক কর্মসম্পাদন মূল্যায়নের মাধ্যমে কে কতটুকু কাজ সম্পন্ন করেছেন, কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং কোন খাতে উন্নতির সুযোগ আছে তা নির্ধারণের ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং সেবা প্রদান প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে বলে মত দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় কার্যকর তদারকি, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা উন্নত জনসেবার অন্যতম পূর্বশর্ত। সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত মনিটরিং ও কর্মসম্পাদন মূল্যায়ন ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি কমবে এবং প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

আবেদনকারী দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সেবার মান উন্নয়নের স্বার্থে উল্লিখিত প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি সেবাকে আরও জনবান্ধব, দক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে নিয়মিত তদারকি ও কর্মসম্পাদন মূল্যায়ন ব্যবস্থা জোরদারের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে এবং সাধারণ জনগণ সরাসরি এর সুফল ভোগ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *